বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৬
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: ‘ওগো আমার জন্মভূমি, ওগো অপরূপা
ফিরে কী আর পাবো তোমায়?
এ বিদেশ, বিভূঁয়ে তোমারে স্মরি আনমনে
আঁখি মুছি সযতনে
তবু আশা পারি না ছাড়িতে
বেঁধে রেখেছো যে মা তোমার স্নেহডোরে।’
দৃশ্যকল্প-২: ‘নমো নমো নম, সুন্দরী মম জননী বঙ্গভূমি!
গঙ্গার তীর, স্নিগ্ধ সমীর জীবন জুড়ালে তুমি।
অবারিত মাঠ, গগন ললাট চুমে তব পদধূলি—
ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড় ছোট ছোট গ্রামগুলি।’
- ক)(1)
‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার অষ্টকের মিলবিন্যাস কী?
- খ)(2)
কবি ‘কপোতাক্ষ নদ’কে দুগ্ধ-স্রোতরূপী বলেছেন কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এর সাথে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি তুলে ধরো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপক-২ এর চেতনাই ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির চেতনা”—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার অষ্টকের মিলবিন্যাস কখখক কখখক।
- খ)
কপোতাক্ষ নদকে কবি জন্মভূমির স্তন্যধারার মতো স্নেহদায়ী মনে করেন। দুগ্ধ যেমন মায়ের স্তন থেকে সন্তানকে পুষ্টি ও স্নেহ জোগায়, তেমনি কপোতাক্ষ নদ জন্মভূমির স্নেহের ধারা বহন করে। এই নদের জলে কবির আত্মিক তৃষ্ণা মেটে। তাই কবি এ নদকে দুগ্ধ-স্রোতরূপী বলেছেন।
- গ)
দৃশ্যকল্প-১-এ প্রবাসে থেকে জন্মভূমির জন্য ব্যাকুলতা, অশ্রু মুছে স্মরণ এবং মায়ের স্নেহডোরের বাঁধন ফুটে উঠেছে। ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবিও প্রবাসে থাকেন এবং জন্মভূমি ও তার নদকে স্মরণ করে আকুল হন।
সাদৃশ্যপূর্ণ দিক হলো প্রবাসজীবনে স্বদেশের জন্য বিরহ ও গভীর আকুলতা। দুই ক্ষেত্রেই জন্মভূমিকে মা ও স্নেহের উৎস রূপে দেখা হয়েছে। - ঘ)
উদ্দীপক-২-এ জননী বঙ্গভূমির সৌন্দর্য ও শান্তির বন্দনা আছে। এতে গঙ্গার তীর, অবারিত মাঠ, ছায়াঘেরা গ্রাম এবং স্বদেশের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে। এটি স্বদেশপ্রেমের চেতনা।
‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায়ও স্বদেশপ্রেম প্রধান, তবে তার রূপ কিছুটা ভিন্ন।
১. উদ্দীপক-২ স্বদেশের বন্দনামূলক; কবিতা প্রবাসের বিরহ-কাতরতায় আর্দ্র।
২. কবিতার কবি নদকে ঘিরে স্মৃতি, ভ্রান্তি ও আকুলতা প্রকাশ করেন।
৩. তবু দুই ক্ষেত্রেই জন্মভূমিকে মা মনে করে গভীর ভালোবাসা প্রকাশিত হয়েছে।
সুতরাং, স্বদেশপ্রেমের মূল চেতনায় উদ্দীপক-২ ও কবিতার কবির মিল আছে, তাই মন্তব্যটি মূলত গ্রহণযোগ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও