বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
'খ' একজন দক্ষ শাসক, সুপণ্ডিত, বিদ্যোৎসাহী ও দানশীল ব্যক্তি। তিনি পিতা ও পিতামহের মত সুদক্ষ যোদ্ধা, শাস্ত্র ও ধর্মচর্চায় পারদর্শী। বৃদ্ধ বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করে রাজ্যবিস্তার ছড়াও তিনি পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ সমাপ্ত করেন। তিনি পণ্ডিত ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের রাজসভায় আমন্ত্রণ জানান। তাঁর সময় অনেক কবির কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ক)(1)
বর্মদের রাজধানী কোথায় ছিল?
- খ)(2)
"প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে শশাংক গুরুত্বপূর্ণ সার্বভৌম নরপতি- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত "খ" শাসকের সাথে ইতিহাসের কোন সেন শাসকের মিল পাওয়া যায়? উক্ত শাসকের রাজ্যবিস্তার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
"উক্ত শাসকের পিতা সাহিত্যে অনেক অবদান রেখেছেন"- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বর্মদের রাজধানী ছিল বিক্রমপুর।
- খ)
শশাঙ্ক সপ্তম শতকের প্রথমার্ধে গৌড় রাজ্যের স্বাধীন ও শক্তিশালী শাসক ছিলেন। তিনি কর্ণসুবর্ণকে রাজধানী করে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলকে একত্র করে একটি শক্তিশালী রাজ্য গড়ে তোলেন। এর আগে বাংলা বিভিন্ন জনপদে বিভক্ত ছিল। তাই তাঁকে প্রাচীন বাংলার গুরুত্বপূর্ণ সার্বভৌম নরপতি বলা হয়।
- গ)
উদ্দীপকের ‘খ’ শাসকের সঙ্গে সেন বংশের লক্ষ্মণ সেন-এর মিল পাওয়া যায়।
লক্ষ্মণ সেন বিজয় সেনের পৌত্র এবং বল্লাল সেনের পুত্র। তিনি বৃদ্ধ বয়সে সিংহাসনে বসেন এবং পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ ‘অদ্ভুতসাগর’ সমাপ্ত করেন। তাঁর রাজসভা পণ্ডিত ও কবিদের কেন্দ্র ছিল। পাঠ্যবই অনুযায়ী, সিংহাসনে বসে তিনি রাজ্যবিস্তারের চেষ্টা করেন এবং কামরূপ, কলিঙ্গসহ আশপাশের অঞ্চলে সামরিক অভিযান চালান বলে জানা যায়। এর মাধ্যমে তাঁর রাজ্যের সীমানা বিস্তৃত হয়েছিল।
- ঘ)
‘খ’ শাসক অর্থাৎ লক্ষ্মণ সেনের পিতা বল্লাল সেন সাহিত্যে অনেক অবদান রেখেছেন, উক্তিটি যথার্থ।
১. বল্লাল সেন নিজে একজন বিদ্বান শাসক ছিলেন এবং জ্ঞানচর্চাকে উৎসাহ দিতেন।
২. তিনি ‘দানসাগর’ নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন।
৩. তিনি ‘অদ্ভুতসাগর’ নামে গ্রন্থ রচনা শুরু করেন, যা তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র লক্ষ্মণ সেন সমাপ্ত করেন।সুতরাং, বল্লাল সেনের এই গ্রন্থ রচনার কাজ সংস্কৃত সাহিত্যে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রমাণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও