কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও:

  1. ক)

    মাছ চাষ কী?

    (1)
  2. খ)

    মাছ কেন শুকানো হয়?

    (2)
  3. গ)

    চিত্র-ক ও চিত্র-খ এর মধ্যে কোনটি ঘেরের চাষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত চিংড়িদ্বয় আমাদের দেশের অর্থনীতিতে কীরূপ অবদান রাখছে বলে মনে কর? তোমার যুক্তিযুক্ত মতামত বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিয়ন্ত্রিত ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিচর্যা ও আহরণ করাকে মাছ চাষ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাছ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মূলত মাছ শুকানো হয় বা শুঁটকি করা হয়। মাছের শরীরে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, যার ফলে ব্যাকটেরিয়া ও এনজাইমের দ্রুত ক্রিয়ায় মাছ সহজে পচে নষ্ট হয়ে যায়। রোদে বা তাপে শুকানোর ফলে মাছের দেহের আর্দ্রতা কমে প্রায় ১৫% বা তার নিচে নেমে আসে, যা অনুজীবের বংশবৃদ্ধি ও কার্যকারিতা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়। ফলে মাছ দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র-ক হলো গলদা চিংড়ি এবং চিত্র-খ হলো বাগদা চিংড়ি। এদের মধ্যে উপকূলীয় নোনা পানির ঘেরে প্রধানত চিত্র-খ অর্থাৎ বাগদা চিংড়ি চাষ করা হয়।

    উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ার-ভাটার নোনা পানিকে বাঁধ দিয়ে আটকে যে বিশেষ জলাশয় তৈরি করা হয়, তাকে ঘের বলে। বাগদা চিংড়ি মূলত লোনা ও আধা-লোনা পানির জীব। তাই বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও কক্সবাজার অঞ্চলের উপকূলীয় ঘেরগুলোতে নোনা পানির অনুকূল পরিবেশ কাজে লাগিয়ে ব্যাপকভাবে বাগদা চিংড়ির চাষ করা হয়। তবে মিঠা পানির নিচু ধানের জমি বা প্লাবনভূমিতে গর্ত করে মিষ্টি পানির ঘেরে গলদা চিংড়িরও চাষ করা সম্ভব। কিন্তু সাধারণ অর্থে 'ঘেরে চিংড়ি চাষ' বলতে মূলত চিত্র-খ-এর বাগদা চিংড়ি চাষকেই বোঝানো হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত চিংড়িদ্বয়—গলদা চিংড়ি (চিত্র-ক) ও বাগদা চিংড়ি (চিত্র-খ)—আমাদের দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী অবদান রাখছে। নিচে এদের অর্থনৈতিক ভূমিকার বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

    ১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: হিমায়িত চিংড়ি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য। বিশ্ববাজারে এর উচ্চ চাহিদার কারণে একে 'সাদা সোনা' বা 'হোয়াইট গোল্ড' বলা হয়। গলদা ও বাগদা চিংড়ি রপ্তানি করে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যা দেশের জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: চিংড়ির পোনা আহরণ, হ্যাচারি পরিচালনা, ঘের ব্যবস্থাপনা, প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, বরফ কল, পরিবহন ও বিপণন ব্যবস্থার সাথে দেশের লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।

    ৩. উপকূলীয় ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন: উপকূলীয় অনুন্নত অঞ্চলসমূহের সার্বিক অর্থনীতি চিংড়ি চাষের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয় কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

    ৪. পুষ্টির চাহিদা পূরণ: চিংড়ি উন্নতমানের প্রাণিজ আমিষ, খনিজ লবণ ও ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস, যা জনগণের অপুষ্টি দূরীকরণে অবদান রাখে।

    সুতরাং, উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা ও গুণগত মান নিশ্চিত করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে গলদা ও বাগদা চিংড়ি উৎপাদন বাড়াতে পারলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন