পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
“ক” রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা দেশপ্রেম, রাজনৈতিক সহনশীলতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়। উক্ত দেশের আইনসভায় সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা এবং জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা করে। এ ধরনের মূল্যবোধ লালনের ফলে উক্ত দেশে ক্রমশ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
- ক)(1)
প্রথা কী?
- খ)(2)
স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ধরনের মূল্যবোধের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকাশে উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টির গুরুত্ব নিরূপন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজের দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত আচার-আচরণ, রীতি-নীতি ও অভ্যাস যখন সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়, তখন তাকে প্রথা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো কাজ করার ক্ষমতাকে বোঝায়। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে স্বাধীনতা বলতে এমন এক পরিবেশ বা সুযোগ-সুবিধাকে বোঝায়, যেখানে অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ণ না করে বা অন্যের ক্ষতি না করে ব্যক্তি তার নিজস্ব ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে। স্বাধীনতা কখনোই অবাধ বা স্বেচ্ছাচারিতা নয়, বরং তা আইন ও নিয়মশৃঙ্খলা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'রাজনৈতিক মূল্যবোধ'-এর কথা বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নাগরিকদের বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণের সমষ্টি। এটি ব্যক্তির রাজনৈতিক অধিকার ও কর্তব্য সচেতনতা, দেশপ্রেম, সহনশীলতা এবং আইনের প্রতি আনুগত্যের সাথে সম্পর্কিত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা, দেশপ্রেম, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও শৃঙ্খলাবোধের মতো গুণাবলি রয়েছে। এছাড়া দেশটির আইনসভায় সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং বিরোধী দল অন্ধ বিরোধিতার পরিবর্তে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা ও জাতীয় স্বার্থে সরকারকে সহায়তা করে। নাগরিকদের এসকল আচরণ ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার রাজনৈতিক মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ। অতএব, উদ্দীপকে রাজনৈতিক মূল্যবোধের কথাই স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকাশে উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজনৈতিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনব্যবস্থা নয়, বরং এটি একটি জীবনপদ্ধতি ও সংস্কৃতি। একটি দেশে গণতান্ত্রিক কাঠামো বা প্রতিষ্ঠান থাকলেই গণতন্ত্র সফল হয় না, যদি না নাগরিক ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক আচরণ ও মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সহনশীলতা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম এবং সরকারি ও বিরোধী দলের গঠনমূলক সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মূল্যবোধের প্রতিফলন।
রাজনৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটলে সমাজে বহুমতের সহাবস্থান নিশ্চিত হয়। সরকারি দল বিরোধী দলের মতামতকে শ্রদ্ধা করে এবং বিরোধী দল জাতীয় স্বার্থে দায়িত্বশীল আচরণ করে। উদ্দীপকে বিরোধী দল গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতা করছে, যা সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চার অন্যতম শর্ত। রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং পরমতসহিষ্ণুতার মাধ্যমেই রাষ্ট্রে সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয় এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ফলে দেশে ক্রমশ একটি সুস্থ, ইতিবাচক ও টেকসই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে প্রতিফলিত রাজনৈতিক মূল্যবোধ চর্চার ফলেই একটি রাষ্ট্রে টেকসই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠা এবং বিকশিত হওয়া সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও