ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব ফারুক শাপলা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাথে একটি জীবন বিমা চুক্তি করেছেন। চুক্তিতে তিনি এবং তার স্ত্রীর নাম দেন। তাছাড়া চুক্তির শর্তানুসারে ফারুককে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রিমিয়াম দিতে হবে। ৫ বছর নিয়মিত কিস্তি প্রদানের পর জনাব ফারুক মারা যান। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী এবং সাবালক ছেলে যোবায়ের পৃথকভাবে বিমা কোম্পানির নিকট বিমা দাবি করে। কিন্তু বিমা কোম্পানি যোবায়েরের দাবি প্রত্যাখ্যান করে অথচ স্ত্রীকে বিমাদাবিপরিশোধ করে দেয়।
- ক)(1)
প্রিমিয়াম কী?
- খ)(2)
“বিমাচুক্তি ক্ষতিপূরণের চুক্তি” ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বিমাপত্রটি কোন ধরনের জীবন বিমাপত্র? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বিমা কোম্পানি কর্তৃক যোবায়েরের বিমাদাবি প্রত্যাখ্যানের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমাগ্রহীতা ঝুঁকির দায় বিমাকারীর ওপর অর্পণের বিনিময়ে বিমাকারীকে নির্দিষ্ট সময় পরপর বা এককালীন যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করে, তাকে বিমা প্রিমিয়াম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“বিমাচুক্তি ক্ষতিপূরণের চুক্তি”—কথাটি সাধারণ বা সম্পত্তি বিমার (যেমন: অগ্নি, নৌ ও দুর্ঘটনা বিমা) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ক্ষতিপূরণের নীতি অনুযায়ী, কোনো দুর্ঘটনায় বিমাকৃত বিষয়ের ক্ষতি সাধিত হলে বিমাকারী প্রকৃত ক্ষতির সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করে বিমাগ্রহীতাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। বিমার মাধ্যমে কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত আর্থিক মুনাফা অর্জন করা যায় না। তবে মানুষের জীবনের আর্থিক ক্ষতি টাকায় পরিমাপযোগ্য নয় বলে জীবন বিমা ক্ষতিপূরণের চুক্তি নয়; এটি মূলত একটি প্রতিশ্রুতির চুক্তি বা নিশ্চয়তার চুক্তি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিমাপত্রটি একটি যৌথ জীবন বিমাপত্র (Joint Life Policy)।
যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তির জীবনের ওপর যৌথভাবে একটিমাত্র বিমাপত্র গ্রহণ করা হয়, তখন তাকে যৌথ জীবন বিমাপত্র বলে। এ জাতীয় বিমায় বিমাকৃত ব্যক্তিদের যেকোনো একজনের মৃত্যু হলে বিমা দাবি পরিশোধ করা হয় এবং বিমাচুক্তির সমাপ্তি ঘটে। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী বা অংশীদারি কারবারের অংশীদারদের ক্ষেত্রে এই বিমাপত্র খোলা হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে জনাব ফারুক শাপলা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাথে নিজে এবং তার স্ত্রীর যৌথ নামে বিমা চুক্তি করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী ফারুকের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীর অনুকূলে বিমা দাবি পরিশোধ করা হয়। সুতরাং, বিষয়বস্তু ও শর্তানুসারে এটি একটি যৌথ জীবন বিমাপত্র।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমা কোম্পানি কর্তৃক যোবায়েরের বিমাদাবি প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তটি আইনগত ও নীতিগতভাবে সম্পূর্ণ যৌক্তিক হয়েছে।
যৌথ জীবন বিমাপত্রে অন্তর্ভুক্ত একাধিক ব্যক্তির মধ্যে চুক্তি বিদ্যমান থাকে। এ ধরনের চুক্তিতে এক পক্ষের মৃত্যু হলে জীবিত অপর পক্ষ বা মনোনীত ব্যক্তি বিমা দাবি পাওয়ার অধিকারী হন। বিমা আইন অনুযায়ী, বিমা চুক্তিভুক্ত পক্ষ বা বিমাপত্রে উল্লেখিত বৈধ নমিনি ছাড়া অন্য কোনো উত্তরাধিকারী সরাসরি বিমা দাবি করার আইনগত অধিকার পান না, যদি না চুক্তিতে তার সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকে।
উদ্দীপকে জনাব ফারুক তার ও তার স্ত্রীর যৌথ জীবনের ওপর বিমাপত্র গ্রহণ করেছিলেন। ফারুকের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জীবিত থাকায় যৌথ বিমার শর্তানুযায়ী জীবিত অংশীদার হিসেবে তিনিই বিমার সমুদয় অর্থ বা দাবি প্রাপ্য হন। যোবায়ের ফারুকের সাবালক পুত্র হলেও উক্ত বিমা চুক্তির পক্ষ বা সুবিধাভোগী হিসেবে তার কোনো আইনি অধিকার ছিল না।
অতএব, বিমা চুক্তির শর্ত ও বিমা আইনের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করে বিমা কোম্পানি যোবায়েরের দাবি প্রত্যাখ্যান করে ফারুকের স্ত্রীকে বিমা দাবি পরিশোধ করায় তাদের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত ও যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও