গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা • তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

রুমির সন্তান জন্ম হওয়ার পর ডাক্তার তার সুস্থতা পরীক্ষা করলেন। তিনি শিশুর নাড়ির গতি, শ্বাস প্রশ্বাস পরীক্ষা করলেন। ডাক্তার শিশুর সুস্থতার জন্য আরও যত্বের পরামর্শ দেন।

  1. ক)

    নবজাতকের সময়কাল কত?

    (1)
  2. খ)

    কলোস্ট্রাম শিশুর ১ম টিকা- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ডাক্তার কোন ধরনের পরামর্শের ইঙ্গিত দিয়েছেন? তোমার মতামত ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ডাক্তার রুমির সন্তানের সুস্থতা পরীক্ষা করলেন কীভাবে- ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে প্রথম দুই সপ্তাহ বা ১৪ দিন বয়স পর্যন্ত সময়কে নবজাতককাল বলে (কিছু ক্ষেত্রে পূর্ণ চার সপ্তাহ বা ২৮ দিন পর্যন্তও নবজাতককাল বিবেচনা করা হয়)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কলোস্ট্রাম বা শালদুধ হলো সন্তান প্রসবের পর মায়ের স্তন থেকে নিঃসৃত প্রথম আঠালো, হলুদ বর্ণের দুধ। এতে প্রচুর পরিমাণে রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান (অ্যান্টিবডি, যেমন IgA), ভিটামিন 'এ' এবং শ্বেতকণিকা থাকে, যা নবজাতককে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ও অ্যালার্জি থেকে সুরক্ষিত রাখে। এছাড়া এটি শিশুর পেটের প্রথম মল (মেকোনিয়াম) বের করে দিতে সাহায্য করে। তাই কলোস্ট্রামকে শিশুর প্রথম প্রাকৃতিক টিকা বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ডাক্তার নবজাতকের জন্মের পরবর্তী অপরিহার্য যত্ন ও পরিচর্যার পরামর্শের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    নবজাতক মাতৃগর্ভের উষ্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ থেকে বাইরের সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে আসে। ফলে তার স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া চালু রাখতে বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। ডাক্তারের দেওয়া পরামর্শের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—শিশুকে জন্ম নেওয়ার পরপরই দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা ও শুকনো কাপড়ে মোড়ানো, উষ্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা, জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের শালদুধ পান করানো, নাভির সংক্রমণমুক্ত যত্ন নেওয়া এবং সংক্রমণ এড়াতে সতর্ক থাকা। সঠিক ও পর্যাপ্ত নবজাতক পরিচর্যাই শিশুর সুস্থ বেঁচে থাকা ও ভবিষ্যৎ স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ডাক্তার রুমির সন্তানের সুস্থতা পরীক্ষা করেছেন মূলত 'অ্যাপগার স্কেল' (Apgar Scale) বা নবজাতকের সার্বিক শারীরিক সুস্থতা নির্ণায়ক পরীক্ষার মাধ্যমে।

    জন্মের পরপরই নবজাতকের সুস্থতা ও জটিলতা নিরূপণের জন্য ১ মিনিট ও ৫ মিনিটের মাথায় ডাক্তাররা কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করেন। উদ্দীপকে ডাক্তার শিশুর নাড়ির গতি (Pulse/Heart rate) এবং শ্বাস-প্রশ্বাস (Respiration) পরীক্ষা করেছেন, যা অ্যাপগার স্কোরের প্রধান উপাদান।

    এছাড়া এই পরীক্ষার অংশ হিসেবে শিশুর গায়ের রং বা ত্বকের বর্ণ (Appearance), পেশির সক্রিয়তা বা সংকোচন-প্রসারণ (Activity), এবং উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা বা প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Grimace) মূল্যায়ন করা হয়। প্রতিটি সূচকে ০ থেকে ২ পর্যন্ত নম্বর দিয়ে মোট ১০ নম্বরের মধ্যে শিশুর সুস্থতা নির্ধারণ করা হয়। স্কোর ৭ বা তার বেশি হলে শিশুকে সুস্থ ধরা হয় এবং স্কোর কম হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এভাবে ডাক্তার বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রুমির নবজাতকের সুস্থতা ও জীবনের লক্ষণাদি নিরূপণ করেছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন