ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব আবিদ খন্দকার তাঁর বাড়িটির জন্য 'প্রত্যাশা কোং লি.' এর নিকট ১ বছর মেয়াদি একটি বিমাচুক্তি সম্পাদন করলেন। মেয়াদ উত্তীর্ণের পর জনাব আবিদ 'প্রত্যাশা কোং লি.' এর নিকট বিমাদাবি উপস্থাপন করলেন।প্রত্যাশা কোম্পনি লি. তৎক্ষণাৎ বিমাদাবি পরিশোধে অস্বীকৃতি জানান।
- ক)(1)
বিমাযোগ্য স্বার্থ কী?
- খ)(2)
ঝুঁকিগত প্রতিবন্ধকতা কীভাবে দূরীভূত হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব আবিদ খন্দকার বিমা চুক্তির কোন পক্ষ হিসেবে গণ্য? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
প্রত্যাশা কোম্পানির বিমাদাবি পরিশোধে অস্বীকৃতি জানানো কি যৌক্তিক? তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমাযোগ্য স্বার্থ হলো বিমাচুক্তির বিষয়বস্তুর ওপর বিমাগ্রহীতার এমন এক আর্থিক বা আইনগত স্বার্থ, যার সুরক্ষায় বিমাগ্রহীতা আর্থিকভাবে লাভবান হন এবং যার ক্ষতি বা বিনাশে বিমাগ্রহীতা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমার মাধ্যমে বাণিজ্যের ঝুঁকিগত বা ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা দূরীভূত হয়।
উৎপাদন থেকে বণ্টন পর্যন্ত ব্যবসার প্রতিটি পদক্ষেপে সম্ভাব্য ক্ষতি বা বিপদের ঝুঁকি বিদ্যমান থাকে। বিমা হলো এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে বিমাকারী নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে বিমাগ্রহীতাকে তার সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়। ফলে ব্যবসায়ীরা ঝুঁকিজনিত অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নির্বিঘ্নে ব্যবসায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব আবিদ খন্দকার বিমা চুক্তির 'বিমাগ্রহীতা' (Insured) পক্ষ হিসেবে গণ্য।
বিমা চুক্তিতে মূলত দুটি পক্ষ থাকে— বিমাকারী (Insurer) এবং বিমাগ্রহীতা (Insured)। যে পক্ষ নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম প্রদানের বিনিময়ে তার জীবন বা সম্পত্তির সম্ভাব্য ঝুঁকির বিপরীতে ক্ষতিপূরণ বা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা লাভ করে, তাকে বিমাগ্রহীতা বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব আবিদ খন্দকার তাঁর বাড়ির সুরক্ষার জন্য 'প্রত্যাশা কোং লি.' নামক বিমা কোম্পানির সাথে ১ বছর মেয়াদি বিমাচুক্তি সম্পাদন করেন। এখানে আবিদ খন্দকার তাঁর সম্পদের ঝুঁকি সুরক্ষার বিনিময়ে বিমাকারীকে প্রিমিয়াম প্রদানকারী মূল পক্ষ। সুতরাং, তিনি বিমা চুক্তির প্রথম পক্ষ বা বিমাগ্রহীতা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, প্রত্যাশা কোম্পানির বিমাদাবি পরিশোধে অস্বীকৃতি জানানো সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
সম্পত্তি বিমা (যেমন: অগ্নি বা সাধারণ বিমা) মূলত একটি ক্ষতিপূরণের চুক্তি (Contract of Indemnity)। এ ধরনের বিমায় মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া মাত্রই কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয় না; বরং চুক্তির মেয়াদকালীন বিমাকৃত বিষয়ের ক্ষতি সাধিত হলেই কেবল প্রকৃত ক্ষতির সমপরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হয়। কোনো ক্ষতি না হলে মেয়াদ শেষে বিমাকারী কোনো দাবি পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে না (জীবন বিমার মতো মেয়াদপূর্তিতে নিশ্চয়তা দেওয়া হয় না)।
উদ্দীপকে জনাব আবিদ খন্দকার তাঁর বাড়ির জন্য ১ বছর মেয়াদি বিমাচুক্তি সম্পাদন করেন, যা একটি সাধারণ বা সম্পত্তি বিমা। চুক্তি চলাকালীন বাড়িতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি সংঘটিত হয়েছে এমন কোনো তথ্য নেই। কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর জনাব আবিদ বিমাদাবি উপস্থাপন করেন। যেহেতু কোনো ক্ষতি হয়নি এবং এটি জীবন বিমা নয়, তাই কেবল মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে ক্ষতিপূরণ দাবি করার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
অতএব, ক্ষতিপূরণের নীতি অনুযায়ী কোনো আর্থিক ক্ষতি সংঘটিত না হওয়ায় প্রত্যাশা কোম্পানি লিমিটেডের বিমাদাবি পরিশোধে অস্বীকৃতি জানানোর সিদ্ধান্তটি নীতিগত ও আইনগতভাবে যথার্থ ও যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও