ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৫

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

পদ্মা নদীর তীরবর্তী একটি গ্রামের ৫০ জন প্রান্তিক কৃষক নিজেদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার জন্য আইনগত সত্তা বিশিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংগ্রহ, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ কার্যক্রম গ্রহণ করেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটি অল্পসময়ে অনেক পরিমাণে মুনাফা ও পুঁজি বাড়াতে সমর্থ হয়। বর্তমানে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য তারা সংরক্ষিত তহবিলের অর্থ দিয়ে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় ও উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন জাতের বীজ ক্রয় ইত্যাদি সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে একমত হতে পারছে না। ফলে প্রতিষ্ঠানটির অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে।

  1. ক)

    কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি কী?

    (1)
  2. খ)

    সমবায় সমিতিতে সমভোটাধিকার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের সমবায় সংগঠন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটির সমস্যা সমাধানে করণীয় সম্বন্ধে তোমার সুপারিশমালা যুক্তিসহ বর্ণনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কয়েকটি প্রাথমিক সমবায় সমিতি মিলে যে মধ্যবর্তী সমবায় সমিতি গঠন করে, তাকে কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমবায় সমিতিতে সমভোটাধিকার বলতে বোঝায় শেয়ারের পরিমাণের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সমিতির প্রত্যেক সদস্যের কেবল একটিমাত্র ভোট দেওয়ার অধিকারকে। সমবায়ের গণতান্ত্রিক নীতি অনুসারে এখানে পুঁজির চেয়ে ব্যক্তিকে বেশি মূল্যায়ন করা হয়; ফলে একজন সদস্য যতটি শেয়ারেরই মালিক হোন না কেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি একটির বেশি ভোট দিতে পারেন না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি হলো একটি 'কৃষক বা উৎপাদক সমবায় সমিতি' (Producer Cooperative Society)।

    একই ধরনের পণ্য উৎপাদনকারী বা পেশাজীবী ব্যক্তিরা (যেমন কৃষক, তাঁতি, জেলে) মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে রক্ষা পেতে, উৎপাদনের উপকরণ সহজে সংগ্রহ করতে এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যে সমবায় সমিতি গড়ে তোলেন, তাকে উৎপাদক সমবায় সমিতি বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, পদ্মা নদীর তীরবর্তী গ্রামের ৫০ জন প্রান্তিক কৃষক নিজেদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া এবং কৃষি সরঞ্জামাদি সংগ্রহ, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ সুগম করার জন্য সমবায়টি গড়ে তোলেন। কৃষকদের স্বার্থরক্ষা ও যৌথ উৎপাদন-বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এটি একটি উৎপাদক বা কৃষক সমবায় সমিতি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত কৃষক সমবায় সমিতির বর্তমান অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার প্রধান কারণ হলো সদস্যদের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে মতানৈক্য। এ সমস্যা সমাধানে নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ সুপারিশ করা হলো:

    ১. সাধারণ সভা বা বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান: সংরক্ষিত তহবিলের অর্থ ব্যয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের জন্য সমিতির সকল সদস্যকে নিয়ে অবিলম্বে একটি সাধারণ সভা আহ্বান করতে হবে।
    ২. গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটাভুটি: আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় নাকি উচ্চ ফলনশীল বীজ ক্রয়—কোনটি আগে প্রয়োজন, তা নির্ধারণে 'এক সদস্য এক ভোট' নীতির ভিত্তিতে খোলামেলা আলোচনা ও গণতান্ত্রিকভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
    ৩. অগ্রাধিকার তালিকা ও পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন: বিশেষজ্ঞদের (যেমন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা) পরামর্শ নিয়ে কোন কাজটি অধিক লাভজনক ও জরুরি তা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। যেমন—প্রথমে বীজের জোগান নিশ্চিত করে পরবর্তী মৌসুমে আধুনিক যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগ করা অথবা তহবিলের অর্থ আনুপাতিক হারে উভয় খাতে বণ্টন করা।
    ৪. দক্ষ কার্যনির্বাহী কমিটির মাধ্যমে সমন্বয়সাধন: সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি ও ভুল বোঝাবুঝি দূর করার জন্য পরিচালনা কমিটিকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

    এভাবে গণতান্ত্রিক চর্চা, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ এবং কার্যকর সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিলে প্রতিষ্ঠানটির সংকট দূর হবে এবং অগ্রগতি পুনরায় ত্বরান্বিত হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন