পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
হামিম ও হালিমা পাথর খনিতে একই ধরনের কাজ করলেও মালিক পক্ষ হালিমাকে হামিমের চেয়ে কম মজুরি দেয়।
- ক)(1)
মূল্যবোধ কী?
- খ)(2)
স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত হালিমা কোন ধরনের সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উক্ত সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।" উক্তিটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব চিন্তা, ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামগ্রিক আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে, তাকে মূল্যবোধ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা বলতে নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী যা খুশি তা করার অধিকারকে বোঝায়। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে নিজের ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপযোগী অনুকূল পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাকেই স্বাধীনতা বলে। স্বাধীনতা আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং এতে উচ্ছৃঙ্খলতার সুযোগ নেই।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত হালিমা 'অর্থনৈতিক সাম্য' থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
সমাজে বসবাসরত সকল নাগরিকের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাওয়ার সুযোগ, উপযুক্ত পারিশ্রমিক বা মজুরি প্রাপ্তি এবং অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্ত থাকার অধিকারকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে। অর্থনৈতিক সাম্যের অন্যতম মূল নীতি হলো— 'সমকাজে সমমজুরি'।
উদ্দীপকে দেখা যায়, হামিম ও হালিমা পাথর খনিতে একই ধরনের কাজ করা সত্ত্বেও মালিক পক্ষ নারী হওয়ার কারণে হালিমাকে হামিমের চেয়ে কম মজুরি প্রদান করে। এখানে যোগ্যতার বা কাজের কোনো পার্থক্য নেই, অথচ মজুরি প্রদানে বৈষম্য করা হয়েছে। এটি সুস্পষ্টভাবে অর্থনৈতিক বৈষম্য। সুতরাং হালিমা অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন"— উক্তিটি যথার্থ ও সর্বজনস্বীকৃত।
রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে বোঝায় ভোটাধিকার প্রয়োগ, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, সরকারি চাকরি লাভ এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার অধিকার। অন্যদিকে অর্থনৈতিক সাম্য হলো দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত পরিবেশ এবং সমকাজে উপযুক্ত মজুরি পাওয়ার নিশ্চয়তা।
উদ্দীপকে হালিমা যে অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তা বিদ্যমান থাকলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা কার্যকর হতে পারে না। এর কারণসমূহ হলো:
১. ক্ষুধার্ত ও দরিদ্র মানুষের কাছে রাজনৈতিক অধিকার গৌণ: যে ব্যক্তির অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা নেই, তার কাছে ভোটাধিকার বা রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্ব থাকে না।
২. ভোটাধিকার বিক্রির আশঙ্কা: অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল নাগরিকেরা প্রায়ই প্রভাবশালী ও ধনী ব্যক্তিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অর্থ বা প্রলোভনের বিনিময়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়, যা গণতন্ত্রকে ব্যাহত করে।
৩. অর্থনৈতিক বৈষম্য রাজনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করে: অর্থনৈতিক সাম্য না থাকলে ধনী শ্রেণি অর্থবিত্তের জোরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে না।অধ্যাপক লাস্কি যথার্থই বলেছেন, "অর্থনৈতিক সাম্য ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা একটি অর্থহীন কাল্পনিক ধারণা মাত্র (Political liberty without economic equality is a myth)।" অতএব, হালিমাদের মতো শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক সাম্য নিশ্চিত না হলে প্রকৃত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে পড়ে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও