রসায়ন ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন
গ্রুপ →\rightarrow পর্যায় ↓\downarrow | 1 | 14
1 | A |
2 | | E
3 | | D
- ক)(1)
হুন্ডের নিয়ম কী?
- খ)(2)
Na2CO3 এর জলীয়দ্রবণ ক্ষারধর্মী কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
D এর হ্যালাইড আদ্র বিশ্লেষিত হয় কিন্তু E এর হ্যালাইড আদ্র বিশ্লেষিত হয় না - ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
E2A2 ও E2A4 যৌগ দুইটির বন্ধন কোণের ভিন্নতার কারণ কেন্দ্রীয় পরমাণুর সংকরায়নের মাধ্যমে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একই উপশক্তিস্তরের সমশক্তিসম্পন্ন বিভিন্ন অরবিটালে ইলেকট্রনগুলো এমনভাবে প্রবেশ করে যেন তারা সর্বাধিক অযুগ্ম বা বিজোড় অবস্থায় থাকতে পারে এবং এই বিজোড় ইলেকট্রনগুলোর স্পিন একইমুখী হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
Na2CO3 হলো তীব্র ক্ষার (NaOH) ও মৃদু এসিড (H2CO3) এর বিক্রিয়ায় উৎপন্ন একটি লবণ। এটি পানিতে দ্রবীভূত হলে আংশিক আর্দ্রবিশ্লেষিত হয়:
Na2CO3 + 2H2O ⇌ 2NaOH + H2CO3এখানে তীব্র ক্ষার NaOH জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ বিয়োজিত হয়ে অধিক মাত্রায় হাইড্রক্সাইড আয়ন (OH-) উৎপন্ন করে। পক্ষান্তরে, মৃদু এসিড H2CO3 সামান্য বিয়োজিত হয়। ফলে দ্রবণে H+ এর তুলনায় OH- এর মাত্রা অনেক বেশি থাকে। তাই Na2CO3 এর জলীয় দ্রবণ ক্ষারধর্মী হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের পর্যায় সারণির অবস্থান অনুযায়ী:
• E হলো পর্যায় 2 এবং গ্রুপ 14 এর মৌল, অর্থাৎ কার্বন (C)।
• D হলো পর্যায় 3 এবং গ্রুপ 14 এর মৌল, অর্থাৎ সিলিকন (Si)।অতএব, E-এর হ্যালাইড যেমন CCl4 এবং D-এর হ্যালাইড হলো SiCl4।
আর্দ্রবিশ্লেষণের জন্য কেন্দ্রীয় পরমাণুর ফাঁকা d-অরবিটালের উপস্থিতি প্রয়োজন, যাতে পানির অক্সিজেন পরমাণু মুক্তজোড় ইলেকট্রন প্রদান করে সন্নিবেশ বন্ধন গঠন করতে পারে।
কার্বন (C)-এর ইলেকট্রন বিন্যাস 1s^2 2s^2 2p^2। কার্বনের যোজ্যতা স্তরে কোনো ফাঁকা d-অরবিটাল নেই। ফলে পানির অণু CCl4 এর কার্বনকে মুক্তজোড় ইলেকট্রন দান করতে পারে না এবং এটি আর্দ্রবিশ্লেষিত হয় না।
অন্যদিকে, সিলিকন (Si)-এর ইলেকট্রন বিন্যাস 1s^2 2s^2 2p^6 3s^2 3p^2 3d^0। সিলিকনের যোজ্যতা স্তরে ফাঁকা 3d-অরবিটাল বিদ্যমান। ফলে পানির অক্সিজেন পরমাণু সহজেই ফাঁকা d-অরবিটালে নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন জোড় প্রদান করে সন্নিবেশ বন্ধনের মাধ্যমে মধ্যবর্তী জটিল যৌগ গঠনের মাধ্যমে SiCl4 কে আর্দ্রবিশ্লেষিত করে Si(OH)4 ও HCl উৎপন্ন করে।
তাই D এর হ্যালাইড (SiCl4) আর্দ্রবিশ্লেষিত হলেও E এর হ্যালাইড (CCl4) হয় না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক অনুযায়ী, A হলো হাইড্রোজেন (H) এবং E হলো কার্বন (C)।
সুতরাং, E2A2 যৌগটি হলো C2H2 (ইথাইন) এবং E2A4 যৌগটি হলো C2H4 (ইথিন)।১. E2A2 (C2H2) অণুতে সংকরায়ণ ও বন্ধন কোণ:
C2H2 অণুতে প্রতিটি কার্বন পরমাণু একটি কার্বন-কার্বন সিগমা বন্ধন এবং একটি কার্বন-হাইড্রোজেন সিগমা বন্ধন তৈরি করে। দুটি সিগমা বন্ধন গঠনের জন্য প্রতিটি কার্বন পরমাণু sp সংকরিত হয়। sp সংকরিত অরবিটালদ্বয় পরস্পরের সাথে 180° কোণে রৈখিকভাবে অবস্থান করে। কার্বনের দুটি অসংকরিত p-অরবিটাল পাশাপাশি অধিক্রমণের মাধ্যমে দুটি পাই (π) বন্ধন গঠন করে। ফলে C2H2 অণুর জ্যামিতিক আকৃতি রৈখিক এবং এর বন্ধন কোণ (H-C-C বা H-C-H) 180° হয়।২. E2A4 (C2H4) অণুতে সংকরায়ণ ও বন্ধন কোণ:
C2H4 অণুতে প্রতিটি কার্বন পরমাণু তিনটি সিগমা বন্ধন (দুটি C-H এবং একটি C-C) তৈরি করে। এজন্য প্রতিটি কার্বন পরমাণু sp^2 সংকরিত হয়। sp^2 সংকরিত তিনটি অরবিটাল একই সমতলে পরস্পর 120° কোণে বিন্যস্ত থাকে এবং একটি সমতলীয় ত্রিকোণাকার কাঠামো গঠন করে। অবশিষ্ট অসংকরিত p-অরবিটালটি পাশাপাশি অধিক্রমণ করে একটি কার্বন-কার্বন পাই (π) বন্ধন তৈরি করে। ফলে C2H4 অণুর বন্ধন কোণ প্রায় 120° (বা 121.3°/117.4°) হয়।অতএব, কেন্দ্রীয় কার্বন পরমাণুর sp ও sp^2 সংকরায়ণের পার্থক্যের কারণেই E2A2 ও E2A4 অণুর বন্ধন কোণে ভিন্নতা দেখা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও