যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

মা আট বছর বয়সের মেয়ে রুনাকে নিয়ে মার্কেটে গেলেন। দোকানে লাল ও অ-লাল রঙের পোশাক দেখিয়ে মা রুনাকে বলল, তোমাকে হয় লাল না হয় অ- লাল রঙের পোশাকটি নিতে হবে। মায়ের বক্তব্য শ্রবণ করে রুনা বলল, আমি লাল ও সাদা রঙের দু'টি পোশাকই নিব।

  1. ক)

    পদ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বিশেষ যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মায়ের বক্তব্যে কোন বিষয়টির প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে রুনা ও মায়ের বক্তব্যের তুলনামূলক আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শব্দ বা শব্দসমষ্টি কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় বা ব্যবহৃত হওয়ার যোগ্যতা রাখে, তাকে পদ (Term) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবাক্যে পদের ব্যাপ্যতা নির্ভর করে পদটির সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ গ্রহণ করা হয়েছে কি না তার ওপর। বিশেষ যুক্তিবাক্যে (I এবং O যুক্তিবাক্য) উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে গ্রহণ না করে আংশিক ব্যক্ত্যর্থকে বিবেচনা করা হয়। যেহেতু বিশেষ যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদটি তার সম্পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থকে নির্দেশ করে না, তাই বিশেষ যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদটি সর্বদাই অব্যাপ্য হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মায়ের বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার 'সহভাবী পদ' বা মূলত 'বিরুদ্ধ পদ' (Contradictory Terms) এবং চিন্তার মৌলিক নিয়মাবলির অন্তর্গত 'মধ্যম রহিত নিয়ম' (Law of Excluded Middle)-এর প্রতিফলন ঘটেছে।

    পরস্পর বিরুদ্ধ পদ বলতে এমন দুটি পদকে বোঝায় যা একত্রে সত্য হতে পারে না এবং যার বাইরে কোনো তৃতীয় সম্ভাবনা থাকে না। মা রুনাকে বলেছেন, "তোমাকে হয় লাল না হয় অ-লাল রঙের পোশাকটি নিতে হবে।" এখানে 'লাল' এবং 'অ-লাল' পরস্পর বিরুদ্ধ পদ। মধ্যম রহিত নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো বস্তু হয় 'লাল' হবে অথবা 'অ-লাল' হবে, এর মাঝামাঝি বা তৃতীয় কোনো বিকল্প থাকতে পারে না। মায়ের বক্তব্যটি বস্তুজগতের প্রতিটি বস্তুর জন্য দ্বিমুখী সম্ভাবনার এই যৌক্তিক নীতিটিকে নিশ্চিতভাবে প্রকাশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রুনা ও মায়ের বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার যথাক্রমে 'বিরুদ্ধ পদ ও মধ্যম রহিত নিয়ম' এবং 'বিপরীত পদ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার' দিক উন্মোচন করে, যা গভীরভাবে তুলনামূলক আলোচনার দাবি রাখে।

    মায়ের বক্তব্যটি ছিল যৌক্তিক নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। মা যখন বলেন, "তোমাকে হয় লাল না হয় অ-লাল রঙের পোশাকটি নিতে হবে"—তখন তিনি 'বিরুদ্ধ পদ' ব্যবহার করেছেন। জগতের সব রংকে তিনি দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন: লাল এবং লাল ব্যতীত অবশিষ্ট যা কিছু (অ-লাল)। এটি যৌক্তিক দিক থেকে মধ্যম রহিত নিয়ম মেনে চলে, যেখানে তৃতীয় কোনো সম্ভাবনা থাকে না।

    অন্যদিকে, রুনার বক্তব্যটি ছিল বাস্তব পছন্দ ও সুনির্দিষ্টতার ওপর ভিত্তি করে। রুনা বলেছে, সে 'লাল ও সাদা' রঙের দুটি পোশাকই নেবে। এখানে 'সাদা' হলো মায়ের বলা 'অ-লাল' ধারণার একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তব রূপ। যুক্তিবিদ্যায় লাল ও সাদা পরস্পর 'বিপরীত পদ' (Contrary Terms)। বিপরীত পদের ক্ষেত্রে দুটি পদ একসঙ্গে সত্য হতে না পারলেও তাদের মাঝামাঝি অনেক বিকল্প থাকতে পারে। রুনা সার্বিক নেতিবাচক ধারণাকে (অ-লাল) একটি সুনির্দিষ্ট ইতিবাচক ধারণায় (সাদা) রূপান্তর করেছে।

    অতএব, তুলনামূলকভাবে বলা যায় মায়ের বক্তব্য ছিল যৌক্তিকভাবে দ্বিমুখী ও সামগ্রিক (বিরুদ্ধ পদ), যেখানে রুনা বাস্তব ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শ্রেণি বেছে নিয়ে বিপরীত পদের দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন