গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • কুষ্টিয়া মহিলা কলেজ • কুষ্টিয়া মহিলা কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
মনিপুরী সম্প্রদায়ের মেয়ে নমিতা। তার পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতা দূর করতে তিনি নিজ উদ্যোগেই বাড়িতে বিভিন্ন শাড়ি, চাদর ইত্যাদি তৈরি করতেন। কিন্তু বর্তমানে এসব পণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে তিনি নানা ধরনের সমস্যায় পড়ছেন। ফলে তার কাঙ্ক্ষিত আয় করা সম্ভব হচ্ছে না।
- ক)(1)
মনিপুরী সম্প্রদায়ের শতকরা কতভাগ মহিলা তাঁতশিল্পের সাথে জড়িত?
- খ)(2)
মনিপুরী তাঁতশিল্প মান্ধাতার আমলের ধারা মতে চলছে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে নমিতা নিজ উদ্যোগেই কীভাবে কাপড় বুনন করেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নমিতার অবস্থার উন্নতি ঘটাতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার বিকল্প নেই- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মনিপুরী সম্প্রদায়ের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ (অথবা অধিকাংশ/শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ) মহিলাই তাঁতশিল্পের সাথে জড়িত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মনিপুরী তাঁতশিল্প মান্ধাতার আমলের ধারা মতে চলছে কারণ মনিপুরী তাঁতিরা এখনও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে দূরে এবং সনাতন কোমর তাঁত ও হস্তচালিত সাধারণ পিট তাঁতের ওপর নির্ভরশীল। পুঁজির অভাব, আধুনিক যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা, উন্নত প্রশিক্ষণের অভাব এবং পূর্বপুরুষদের চিরাচরিত ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি আঁকড়ে ধরে রাখার কারণে এ শিল্পটি সেকেলে বা মান্ধাতার আমলের ধারায় পরিচালিত হচ্ছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নমিতা নিজ বাড়িতে ঐতিহ্যবাহী মনিপুরী হস্তচালিত তাঁতের মাধ্যমে নিজ উদ্যোগেই কাপড় বুনন করেন।
মনিপুরী সম্প্রদায়ের নারীদের বংশপরম্পরায় ঘরে ঘরে তাঁত বোনার দক্ষতা গড়ে ওঠে। তারা সাধারণত কোমর তাঁত (Backstrap loom) বা মাটিতে গর্ত করে তৈরি পিট লুম (Pit loom) ব্যবহার করে সুতা কেটে, রঙ করে এবং নকশা তুলে নিপুণ হাতে শাড়ি ও চাদর তৈরি করেন। উদ্দীপকে দেখা যায়, নমিতা পরিবারের আর্থিক অনটন দূর করতে বাড়িতে নিজ উদ্যোগে মনিপুরী রীতির সুতি বা রেশমি সুতা ব্যবহার করে শৈল্পিক নকশায় শাড়ি ও চাদর বুনতেন, যা সম্পূর্ণ কায়িক শ্রম ও পারিবারিক সনাতন দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নমিতার মতো কুটিরশিল্পীদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং মনিপুরী তাঁতশিল্পের সার্বিক অগ্রগতির জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা একান্ত অপরিহার্য।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নমিতা কঠোর পরিশ্রমে ভালো মানের শাড়ি ও চাদর তৈরি করলেও বাজারজাতকরণ সমস্যার কারণে কাঙ্ক্ষিত আয় করতে পারছেন না এবং আর্থিক সংকটে রয়েছেন। বর্তমান মুক্তবাজার অর্থনীতিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, কাঁচামালের উচ্চমূল্য এবং সরাসরি বিপণন ব্যবস্থার অভাব প্রান্তিক উৎপাদকদের উপযুক্ত মূল্য থেকে বঞ্চিত করে।
এ পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারের পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ, তাঁতবস্ত্র বিপণনে মেলা ও বিক্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা এবং সমবায় বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এছাড়া রফতানি সুবিধার সম্প্রসারণ ও বিসিক-এর মাধ্যমে সহায়তা দিলে নমিতা মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণমুক্ত হয়ে পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন। অতএব, নমিতার আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং এ শিল্পের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার কোনো বিকল্প নেই।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও