সাহিত্য পাঠ • মানব-কল্যাণ • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি!নিজ সুখ ভুলে গিয়ে ভাবিলে পরের কথা,মুছালে পরের অশ্রু মুচালে পরের ব্যথা!আপনাকে বিলাইয়া দীন-দুঃখীদের মাঝে,বিদূরিলে পর দুঃখ সকালে বিকালে সাঁঝে।
- ক)(1)
“তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?” উক্তিটি কার?
- খ)(2)
‘সর্বজীবের হীত’- কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ‘সুখ’ প্রকৃতপক্ষে ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের কোথায় নিহিত রয়েছে? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের মূলভাব ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের মূলভাবকে সামগ্রিকভাবে ফুটিয়ে তোলেনি।- বক্তব্যের সপক্ষে তোমার যুক্তি উপস্থাপন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?”—উক্তিটি সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের কাপালিকের প্রতি নবকুমারের/প্রবন্ধে উদ্ধৃত)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘সর্বজীবের হীত’ কথাটি দ্বারা জগতের সমস্ত প্রাণীর কল্যাণ ও মঙ্গলসাধনকে বোঝানো হয়েছে।
আবুল ফজলের ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধে লেখক বুঝিয়েছেন যে, মানবকল্যাণ কেবল মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমগ্র জীবজগতের কল্যাণের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। সৃষ্টির প্রতিটি জীবের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, পরিবেশ ও জীবজগতের স্বাভাবিক অস্তিত্ব রক্ষায় সচেষ্ট থাকাই হলো ‘সর্বজীবের হীত’। পৃথিবীর সকল জীবের অস্তিত্বকে সম্মান জানিয়ে তাদের মঙ্গল কামনা করাই এর মূল তাৎপর্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ‘সুখ’ প্রকৃতপক্ষে ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের মানবমর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত মানসিক তৃপ্তির মধ্যে নিহিত রয়েছে।
উদ্দীপকে নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে পরের অশ্রু মোছানো এবং দীন-দুঃখীদের মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে যে পরম আত্মতৃপ্তি ও আনন্দের কথা বলা হয়েছে, তা আত্মত্যাগের মহত্ত্বকে প্রকাশ করে।
‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধে লেখক আবুল ফজল উল্লেখ করেছেন, মানবকল্যাণ কোনো বিচ্ছিন্ন দান-খয়রাত নয়; বরং তা মানুষের সামগ্রিক বিকাশ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের সাথে সম্পর্কিত। মানুষের দুঃখ দূর করে তাদের সমাজে মাথা তুলে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়া এবং সংকীর্ণ ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করে মানবসেবায় নিয়োজিত হওয়ার মধ্যেই মানবজীবনের প্রকৃত সার্থকতা ও আত্মিক সুখ নিহিত থাকে। উদ্দীপকে বর্ণিত ‘পরের হিত’ সাধনের মাধ্যমে মানুষ যে মানসিক শান্তি লাভ করে, প্রবন্ধে তাকেই প্রকৃত কল্যাণভাবনার উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মূলভাব ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের মূলভাবকে সামগ্রিকভাবে ফুটিয়ে তোলেনি—বক্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে মূলত পরোপকার, আত্মত্যাগ এবং দীন-দুঃখীদের দুঃখ মোচনে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মতো সেবামূলক মনোভাবের কথা বলা হয়েছে। এটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক দানশীলতা ও সহানুভূতিকে গুরুত্ব দেয়।
অন্যদিকে, ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধে লেখক আবুল ফজল প্রচলিত দান-খয়রাত বা ওপর থেকে নিচে ছুঁড়ে দেওয়া অনুগ্রহমূলক মনোভাবকে প্রকৃত মানবকল্যাণ বলতে অস্বীকার করেছেন। লেখক দেখিয়েছেন, অনুগ্রহমূলক সাহায্য মানুষের আত্মমর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে এবং গ্রহীতাকে পরমুখাপেক্ষী করে তোলে। লেখকের মতে, প্রকৃত মানবকল্যাণ হলো এমন এক সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে প্রতিটি মানুষ আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে, যেখানে মানুষের দৈহিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির পূর্ণ বিকাশ ঘটে। এটি কেবল সাময়িক দুঃখ মোচন নয়, বরং মানবমুক্তির সুদূরপ্রসারী এক সামগ্রিক মানবিক দর্শন।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে কেবল সেবামূলক পরোপকারের একটি দিক প্রতিফলিত হয়েছে, কিন্তু প্রবন্ধে মানবমর্যাদা রক্ষা, স্বাবলম্বন এবং রাষ্ট্র ও সমাজের সামগ্রিক দায়িত্বশীলতার যে ব্যাপক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে, তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মূলভাব প্রবন্ধের সামগ্রিক চেতনাকে ধারণ করতে পারেনি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও