সাহিত্য পাঠ • আঠারো বছর বয়স • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
বর্ণিল জগৎ সন্ধানে যারা ছুটে মেরু-অভিযানে, পক্ষ বাঁধিয়া উড়িয়া চলেছে যাহারা ঊর্ধ্বপানে । তবু থামে না যৌবন-বেগ, জীবনের উল্লাসে চলেছে চন্দ্র-মঙ্গল-গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে। যারা জীবনের দাসরা বহিয়া মৃত্যুর দ্বারে দ্বারে করিতেছে ফিরি, ভীম রণভূমে প্রাণ বাজি রেখে ছারে। আমি মরু-কবি-গাহি সেই বেদে-বেদুইনদের গান,
- ক)(1)
আঠারো বছর বয়স পদাঘাতে কী ভাঙতে চায়?
- খ)(2)
'সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে'— এখানে তরুণদের কোন `বিশেষ দিকটির প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে? বুঝিয়ে বলো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কবি যাদের জয়গান গেয়েছেন তাদের প্রতি আঠারো বছর বয়স' কবিতার কবির মনোভাবের তুলনামূলক আলোচনা করো ।
- ঘ)(4)
'এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।'—কবির এ প্রত্যাশার কারণ কী? উদ্দীপক ও 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আঠারো বছর বয়স পদাঘাতে শাসন-যন্ত্র অর্থাৎ সমস্ত শোষণ-পীড়নমূলক প্রচলিত নিয়ম-কানুন ও বাধা ভাঙতে চায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত চরণে তরুণদের দেশের ও সমাজের মঙ্গলের জন্য যৌথভাবে ব্রত গ্রহণ ও আত্মত্যাগের মানসিকতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আঠারো বছর বয়স স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়নে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকে। অন্যায়, শোষণ ও অসত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে তরুণরা ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র স্বার্থ ও ভয়ভীতি ভুলে সমষ্টিগত কল্যাণে আত্মনিয়োগ করে। তাদের এই শপথদীপ্ত ঐক্যবদ্ধ আত্মোৎসর্গই 'সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে' চরণের মূল ভাব।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কবি যাদের জয়গান গেয়েছেন এবং 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার কবির দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে তারুণ্যের অপরাজেয় শক্তি, অদম্য সাহস ও প্রতিকূলতাকে জয় করার মানসিকতার দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, দুঃসাহসী মানবসন্তান প্রতিকূল মেরু-অভিযান, অন্তরীক্ষে উড্ডয়ন কিংবা গ্রহ-নক্ষত্রের সীমানা পেরিয়ে অসীমে ছুটে চলেছে। তারা ভীম রণভূমে প্রাণ বাজি রেখে জয় ছিনিয়ে আনে। তাদের যৌবনের বেগ কোনো বাধাই মানে না। এই অকুতোভয় বেদে-বেদুইনদের জীবনচাঞ্চল্যকে উদ্দীপকের কবি বন্দনা করেছেন।
অন্যদিকে, সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'আঠারো বছর বয়স' কবিতাতেও তারুণ্যের তেজ, শৌর্য এবং অসাধ্য সাধনের তীব্র আকাঙ্ক্ষাকে মহিমান্বিত করা হয়েছে। কবি তরুণদের সেই রূপটি তুলে ধরেছেন, যা ভীরু বা স্থবির নয়; বরং দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বুক টান করে দাঁড়ায় এবং পদাঘাতে ভাঙতে চায় সব বাধা। অতএব, উদ্দীপকের দুঃসাহসী অভিযাত্রীদের জয়গান এবং কবিতার তারুণ্যবন্দনার মনোভাব মূলত একই সূত্রে গাঁথা—উভয় ক্ষেত্রেই যৌবনের অদম্য প্রাণশক্তি ও মৃত্যুকে উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্পকে গভীর শ্রদ্ধায় চিত্রিত করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অন্যায়, জড়তা, কাপুরুষতা ও পশ্চাৎপদতা দূর করে একটি প্রগতিশীল, গতিশীল ও মানবিক সমাজ গড়ার জন্যই কবি দেশের বুকে 'আঠারো' নেমে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি যৌবনের ইতিবাচক শক্তিকে সমাজ রূপান্তরের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখেছেন। এ বয়সে যেমন বিপদের আশঙ্কা থাকে, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নোয়াবার অপারগতা, সত্যের পথে অকাতরে রক্ত দেওয়ার প্রেরণা এবং নবজাগরণ সৃষ্টির তেজও থাকে। কবি চেয়েছেন সমাজের স্থবিরতা কাটিয়ে সেই উদ্দীপ্ত যৌবন যেন সমগ্র জাতির জীবনে ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, যৌবনের অদম্য উল্লাস ও প্রাণশক্তি মানুষকে সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে প্রেরণা জোগায়। সীমানা অতিক্রম করে নতুন দিগন্ত উন্মোচন এবং অন্যায়ের রণভূমে প্রাণ বাজি রাখার মানসিকতাই উদ্দীপকের প্রাণকেন্দ্র।
আমাদের জাতীয় জীবনে যখন শোষণ, অন্যায়, হতাশা ও স্থবিরতা নেমে আসে, তখন তারুণ্যের প্রতিবাদী চেতনা ও নির্ভীক পদক্ষেপই জাতিকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে। উদ্দীপকে বর্ণিত অসীম সাহসিকতা এবং কবিতায় প্রতিফলিত অন্যায়ের সাথে আপসহীন মনোভাব ধারণ করে তরুণরা সমাজের অচলায়তন ভাঙতে সক্ষম। তাই কবি কামনা করেছেন যে, প্রতিটি নাগরিক ও সামগ্রিক দেশের চেতনাই যেন আঠারো বছর বয়সের মতো সতেজ, সাহসী ও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে। সুতরাং, কবির এই প্রত্যাশা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও