অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
প্রাচীন যুগের অর্থনীতি এবং বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশ নামক এ ভূখণ্ডের অর্থনীতির চিত্র এক নয়। ৭০ দশক থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দিন দিন উন্নত হচ্ছে। বিশেষ করে গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর আমলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার যথেষ্ট পরিবর্তন হয়েছে, যেমন: GDP এর প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। GDP-তে কৃষির অবদান হ্রাস পেয়ে শিল্পের অবদান বেড়েছে। জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচয় লাভ করবে বলে অর্থনীতিবিদরা আশা করেন।
- ক)(1)
পরিবেশ কী?
- খ)(2)
কোন যুগকে বাংলার ইতিহাসে স্বর্ণযুগ বলা হয়? কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিধারা পরিবর্তনের সূচকগুলো চিহ্নিত করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, উদ্দীপকে অর্থনীতিবিদদের বর্ণিত আশা বাস্তবায়িত হবে? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো জীব বা সম্প্রদায়ের চারপাশে বিদ্যমান সজীব ও নির্জীব উপাদানের সামগ্রিক অবস্থাকে পরিবেশ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলার ইতিহাসে সুলতানি আমলকে (বিশেষ করে ইলিয়াস শাহী ও হোসেন শাহী আমল) অথবা প্রাচীন বাংলার পাল ও গুপ্ত যুগকে সামাজিক-অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে অর্থনীতির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে প্রধানত হোসেন শাহী আমলকে বাংলার স্বর্ণযুগ বলা হয়।
এই সময়ে বাংলায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় ছিল, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল, কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং শিল্প-সংস্কৃতির অভূতপূর্ব বিকাশ সাধিত হয়েছিল। সাধারণ জনগণের অর্থনৈতিক প্রাচুর্য ও সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলার কারণে এই সময়কে স্বর্ণযুগ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিধারা পরিবর্তনের যে সূচকগুলো তুলে ধরা হয়েছে তা নিচে চিহ্নিত ও ব্যাখ্যা করা হলো:
১. মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) এর প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি: উদ্দীপকে উল্লেখিত হয়েছে যে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রধান সূচক।
২. অর্থনৈতিক কাঠামোগত পরিবর্তন: জিডিপিতে কৃষির অবদান আপেক্ষিকভাবে হ্রাস পেয়ে শিল্পের অবদান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়া কাঠামোগত রূপান্তরের অন্যতম প্রধান সূচক। এটি উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত অর্থনীতিতে রূপান্তরের স্পষ্ট লক্ষণ।
৩. জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন: মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারের ফলে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে।
৪. প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন: যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার বিস্তার দেশের রূপান্তরের গতিকে নির্দেশ করে।
৫. মানবসম্পদ উন্নয়ন: দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ দেশের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক গতিধারা পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে অর্থনীতিবিদদের বর্ণিত আশা বাস্তবায়িত হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত হয়েছিল যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি, শিল্পায়নের প্রসার, অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। বাস্তবতার নিরিখে এ আশা সার্থক হয়েছে।
প্রথমত, বিশ্বব্যাংকের আয়ভিত্তিক মানদণ্ড অনুসারে মাথাপিছু জাতীয় আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ ২০১৫ সালেই নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের শ্রেণিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নীত হয়।
দ্বিতীয়ত, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অর্থাৎ ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ জাতিসংঘ কর্তৃক স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সব শর্ত (মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক) সফলভাবে পূরণ করে চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে।
তৃতীয়ত, দেশে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের ফলে অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। জিডিপিতে শিল্প ও সেবা খাতের অবদান বৃদ্ধি পেয়ে অর্থনীতিতে আধুনিক রূপান্তর ঘটেছে।
সুতরাং, অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানবসম্পদের উন্নয়ন এবং কাঠামোগত সংস্কারের ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার অর্থনীতিবিদদের এই প্রত্যাশা সময়োপযোগী ও যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও