যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১:জয়নুল আবেদীনের পোশাক ও কথাবার্তায় একটি চমৎকার স্টাইল আছে। তার সব কিছুতেই একটি পরিপাটি ভাব। এজন্য সবাই তাকে পছন্দ করে। ডিজাইনে তিনি বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্বে সুনাম অর্জন করেছেন ।দৃশ্যকল্প-২:দার্শনিক এরিস্টটল খুবই জনপ্রিয়। কারণ তিনি সবসময় সত্য কথা বলতেন, সবসময় মিথ্যাকে বর্জন বরতেন। সবকিছু যাচাই-বাছাই বরে সঠিকটি গ্রহণ করতেন। এজন্য তিনি সত্য ও মিথ্যাকে কখনই এক করেননি।
- ক)(1)
যুক্তিবাক্য কাকে বলে?
- খ)(2)
যুক্তিবিদ্যা কীভাবে চিন্তার বিজ্ঞান?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জয়নুল আবেদীনের কর্মকাণ্ডে যুক্তিবিদ্যার কোন বিষয়টির প্রতিফলন ঘটেছে?
- ঘ)(4)
পাঠ্যবইয়ের আলোকে জয়নুল আবেদীন ও এরিস্টটলের কর্মকাণ্ডের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুটি পদের মধ্যে কোনো সম্পর্কের স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতিমূলক বিবৃতিকে যুক্তিবাক্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যা আমাদের বৈধ চিন্তার নিয়মাবলি আলোচনা করে এবং কীভাবে সঠিক চিন্তাপদ্ধতি অনুসরণ করে সত্যে পৌঁছানো যায় তা শিক্ষা দেয়। চিন্তা বলতে যুক্তিবিদ্যা মূলত অনুমান বা যুক্তিপদ্ধতিকে বোঝায়। যুক্তিবিদ্যা অনুমানের নিয়মাবলি প্রণয়ন ও পরীক্ষণ করে এবং চিন্তার ভুল বা অনুপপত্তি দূর করে সঠিক যুক্তিগঠনে সহায়তা করে। তাই যুক্তিবিদ্যাকে চিন্তার বিজ্ঞান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জয়নুল আবেদীনের কর্মকাণ্ডে যুক্তিবিদ্যার 'কলা' (Art) রূপটির প্রতিফলন ঘটেছে।
কলা হলো এমন একটি বিদ্যা যা কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য বাস্তব কর্মসম্পাদনের নিয়মাবলি বা প্রায়োগিক কলাকৌশল শিক্ষা দেয়। এটি কোনো কাজ দক্ষতার সাথে ও সুন্দরভাবে কীভাবে সম্পাদন করতে হয় তার দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ জয়নুল আবেদীনের পোশাক ও কথাবার্তায় চমৎকার স্টাইল, পরিপাটি ভাব এবং ডিজাইনে দক্ষতা অর্জনের কথা বলা হয়েছে। যুক্তিবিদ্যা যেমন চিন্তার নিয়মাবলিকে বাস্তব ক্ষেত্রে বা যুক্তিতর্কের সময় সুচারুভাবে প্রয়োগ করার কৌশল শেখায় বলে একটি কলা, তেমনি জয়নুল আবেদীনের আচরণ ও ডিজাইনের কাজও নিয়ম ও শৈলীর বাস্তব প্রয়োগকে তুলে ধরে। অতএব, তার কর্মকাণ্ড যুক্তিবিদ্যার প্রায়োগিক বা কলা বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাঠ্যবইয়ের আলোকে জয়নুল আবেদীন ও এরিস্টটলের কর্মকাণ্ডের মধ্যকার পার্থক্য হলো মূলত যুক্তিবিদ্যার 'কলা' এবং 'বিজ্ঞান'—এই দুই রূপের পার্থক্য।
দৃশ্যকল্প-১-এ জয়নুল আবেদীনের সুন্দর স্টাইল, পরিপাটি উপস্থাপনা ও ডিজাইনে দক্ষতা যুক্তিবিদ্যার কলা রূপকে ইঙ্গিত করে। কলা কোনো তাত্ত্বিক নিয়মকে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে সুন্দর ও যথাযথভাবে প্রয়োগ করার শিক্ষা দেয়। এখানে উদ্দেশ্য অর্জনে সৃজনশীলতা ও দক্ষতার প্রয়োগ মুখ্য।
অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-২-এ দার্শনিক এরিস্টটলের সত্য বলা, মিথ্যা বর্জন এবং যাচাই-বাছাই করে সঠিকটি গ্রহণের বিষয়টি যুক্তিবিদ্যার 'বিজ্ঞান' বা 'আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান' রূপকে তুলে ধরে। বিজ্ঞান বস্তু বা চিন্তার সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল নিয়মাবলি আবিষ্কার ও আলোচনা করে। যুক্তিবিদ্যা একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান হিসেবে 'সত্য'-এর আদর্শকে সামনে রেখে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণ করে এবং বৈধ চিন্তার নিয়ম প্রণয়ন করে।
সুতরাং, জয়নুল আবেদীনের কর্মকাণ্ডে ব্যবহারিক দক্ষতা ও নান্দনিক প্রয়োগ (কলা) প্রাধান্য পেয়েছে, আর এরিস্টটলের কর্মকাণ্ডে সত্যের আদর্শ অনুসরণ, যুক্তিযুক্ত যাচাই-বাছাই ও নিয়মনিষ্ঠা (বিজ্ঞান) প্রতিফলিত হয়েছে। এটাই তাদের কর্মকাণ্ডের মূল পার্থক্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও