পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
ক-রাষ্ট্র | খ-রাষ্ট্র
- জনগণের শাসন - জনমতের প্রাধান্য - নির্বাচিত সরকার | - একনায়ক দ্বারা পরিচালিত - সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত প্রচার মাধ্যম - প্রহসনমূলক আইনসভা
- ক)(1)
“Foedus” শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত “ক” রাষ্ট্রে কোন ধরনের সরকারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত “ক” রাষ্ট্রের সরকারের সাথে “খ” রাষ্ট্রের সরকারের তুলনামূলক আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ল্যাটিন শব্দ ‘Foedus’ (ফোয়েডাস)-এর অর্থ হলো ‘সন্ধি’ বা ‘চুক্তি’ (Treaty or Covenant)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে এমন শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে শাসন বিভাগের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতিই রাষ্ট্রের প্রকৃত শাসক এবং তিনি বা তাঁর মন্ত্রিসভা তাদের নীতি ও কাজের জন্য আইনসভার কাছে দায়ী থাকেন না। এ ব্যবস্থায় আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ পরস্পরের কাছ থেকে পৃথক থাকে এবং রাষ্ট্রপতি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' রাষ্ট্রে 'গণতান্ত্রিক সরকার' (Democratic Government)-এর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
গণতন্ত্র হলো এমন এক শাসনব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং জনগণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে। আব্রাহাম লিংকনের মতে, "Democracy is government of the people, by the people, for the people."
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যে দেখা যায়—সেখানে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠিত, জনমতকে প্রাধান্য দেওয়া হয় এবং নির্বাচিত সরকার দ্বারা দেশ পরিচালিত হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রত্যক্ষভাবে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার মৌলিক উপাদানকে নির্দেশ করে। সুতরাং, 'ক' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থাটি হলো গণতান্ত্রিক সরকার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সরকারের সাথে 'খ' রাষ্ট্রের একনায়কতান্ত্রিক সরকারের রূপ ফুটে উঠেছে। নিচে এই দুই ব্যবস্থার তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
১. ক্ষমতার উৎস ও পরিচালনা: 'ক' রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার মূল উৎস জনগণ; সেখানে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশ পরিচালনা করেন। অন্যদিকে, 'খ' রাষ্ট্রে একনায়কতন্ত্র বিদ্যমান, যেখানে ক্ষমতা একজন একনায়ক বা একটি দলের হাতে কুক্ষিগত থাকে এবং সেখানে জনগণের মতামতের কোনো মূল্য থাকে না।
২. জনমতের গুরুত্ব ও প্রচার মাধ্যম: 'ক' রাষ্ট্রে জনমতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয় এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকে। পক্ষান্তরে, 'খ' রাষ্ট্রে প্রচার মাধ্যম সম্পূর্ণভাবে সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ও সেন্সরশিপযুক্ত থাকে, ফলে স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ থাকে না।
৩. আইনসভার ভূমিকা: 'ক' রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আইনসভা একটি সার্বভৌম ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান, যেখানে জনগণের পক্ষে আইন প্রণয়ন ও সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু 'খ' রাষ্ট্রে আইনসভা থাকে নিছক প্রহসনমূলক এবং তা কেবল শাসকের আদেশ বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
৪. ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও অধিকার: গণতন্ত্রে জনগণের মৌলিক অধিকার ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকে, যা 'খ' রাষ্ট্রের একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সম্পূর্ণ পদদলিত ও দমন করা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সরকার যেখানে জনকল্যাণমূলক ও দায়িত্বশীল, সেখানে 'খ' রাষ্ট্রের একনায়কতান্ত্রিক সরকার হলো গণবিরোধী ও স্বৈরাচারী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও