সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

মহসিন মিয়া এলাকার একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তার সম্পত্তির একটি অংশ মসজিদ নির্মাণের জন্য আইনানুগভাবে দান করে যান। অন্যদিকে মিহির চন্দ্র তার এলাকার একটি স্কুল নির্মাণ করার জন্য দুই বিঘা জমি আইনানুগভাবে দান করে যান। জনকল্যাণে এই উভয় ব্যক্তির ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

  1. ক)

    বাইতুল মাল কী?

    (1)
  2. খ)

    বেবি হোম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মহসিন মিয়ার দান কোন সনাতন সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানের প্রতি ইঙ্গিত করেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে মিহির চন্দ্রের দান কোন সনাতন সমাজকল্যাণ? উভয়ের দানের মিল ও অমিলগুলো পর্যালোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাইতুল মাল হলো ইসলামি রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বা সরকারি অর্থ ও রাজস্ব সংরক্ষণাগার বা রাষ্ট্রীয় কোষাগার।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বেবি হোম (Baby Home) হলো পিতৃ-মাতৃহীন, পরিত্যক্ত এবং পরিচয়হীন ০ থেকে ৫ বছর বয়সী নবজাতক ও শিশুদের লালন-পালন ও সুরক্ষার জন্য পরিচালিত সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে এসব প্রতিষ্ঠানে পথশিশু, কুড়িয়ে পাওয়া বা পরিচয়হীন শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও মানবিক পরিবেশে বড় করে তোলার ব্যবস্থা করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মহসিন মিয়ার দান সনাতন সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান 'ওয়াকফ'-এর প্রতি ইঙ্গিত করেছে।

    ইসলামি আইন অনুযায়ী কোনো মুসলিম ব্যক্তি কর্তৃক ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কাজের উদ্দেশ্যে নিজের কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি স্থায়ীভাবে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করাকে ওয়াকফ বলা হয়। এ সম্পত্তির মালিকানা আর মূল ব্যক্তির থাকে না, বরং তা চিরস্থায়ীভাবে জনকল্যাণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিয়োজিত থাকে।

    উদ্দীপকে মহসিন মিয়া একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন এবং তিনি মৃত্যুর পূর্বে মসজিদ নির্মাণের মতো ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য নিজের সম্পত্তির একটি অংশ আইনানুগভাবে দান করে যান। চিরস্থায়ী ধর্মীয় উদ্দেশ্যে সম্পত্তি এভাবে দান করা ইসলামি বিধানের ওয়াকফের বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে। অতএব, এটি ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানকে ইঙ্গিত করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মিহির চন্দ্রের দান সনাতন সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে 'দেবত্র'-কে নির্দেশ করে। হিন্দু আইন অনুযায়ী ঈশ্বরের সন্তুষ্টি ও জনকল্যাণের জন্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আইনানুগভাবে চিরতরে উৎসর্গ করাকে দেবত্র বলে।

    মহসিন মিয়া (ওয়াকফ) এবং মিহির চন্দ্রের (দেবত্র) দানের মধ্যকার মিল ও অমিল নিচে তুলে ধরা হলো:

    মিলসমূহ:
    ১. প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য: উভয়েই জনকল্যাণ ও ধর্মীয় অনুপ্রেরণা থেকে নিজেদের সম্পত্তি চিরতরে সমাজসেবামূলক কাজে দান করেছেন।
    ২. আইনি ভিত্তি: উদ্দীপক অনুযায়ী উভয় ব্যক্তিই তাদের জমি 'আইনানুগভাবে' দান করেছেন, যার ফলে এই সম্পত্তিগুলো হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং তাদের উদ্দেশ্য চিরস্থায়ী রূপ পায়।
    ৩. সনাতন সমাজকল্যাণ: ওয়াকফ এবং দেবত্র—উভয় ব্যবস্থাই আধুনিক পেশাদার সমাজকর্মের পূর্বসূরি ঐতিহ্যগত বা সনাতন সমাজকল্যাণ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত।

    অমিলসমূহ:
    ১. ধর্মীয় প্রেক্ষাপট: মহসিন মিয়ার দান (ওয়াকফ) ইসলামি শরিয়ত ও মুসলিম আইনের অন্তর্ভুক্ত; অন্যদিকে মিহির চন্দ্রের দান (দেবত্র) হিন্দু ধর্ম ও আইনের অন্তর্ভুক্ত।
    ২. দানের খাত: মহসিন মিয়া ধর্মীয় উপাসনালয় (মসজিদ) নির্মাণের জন্য সম্পত্তি দিয়েছেন, যা সরাসরি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক; অপরপক্ষে মিহির চন্দ্র এলাকার শিক্ষা প্রসারে স্কুল নির্মাণের জন্য জমি দিয়েছেন, যা ধর্মনিরপেক্ষ সাধারণ জনকল্যাণমূলক খাত।

    সুতরাং, ক্ষেত্র ও ধর্মীয় রূপরেখায় কিছুটা পার্থক্য থাকলেও মানবকল্যাণ ও স্থায়ী সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে উভয়ের ভূমিকা ছিল সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন