জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    লাইকেন কী?

    (1)
  2. খ)

    শৈবাল কেন স্বনির্ভর ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের A উদ্ভিদটি প্রতিকূল পরিবেশে কীভাবে বংশবিস্তার করে বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    খাদ্য ও ঔষধ শিল্পে উদ্দীপকে প্রদর্শিত 'B' উদ্ভিদ গোষ্ঠীর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শৈবাল ও ছত্রাকের ঘনিষ্ঠ সহাবস্থানের ফলে গঠিত মিথোজীবী বা মিথোস্ক্রিয়াতন্ত্রকে লাইকেন (Lichen) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শৈবাল ক্লোরোফিলযুক্ত ও সালোকসংশ্লেষণকারী স্বভোজী জীব। শৈবালের কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট বা ক্রোমাটোফোর থাকে, যার উপস্থিতিতে এরা সূর্যালোক এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজস্ব খাদ্য (শর্করা) নিজেরাই তৈরি করতে পারে। খাদ্যের জন্য এরা অন্য কোনো জীবের ওপর নির্ভরশীল নয় বলে শৈবালকে স্বনির্ভর বা স্বভোজী বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'A' চিত্রটি হলো সবুজ শৈবাল ইউলোথ্রিক্স (Ulothrix)। প্রতিকূল পরিবেশে ইউলোথ্রিক্স প্রধানত নিম্নলিখিত অযৌন ও যৌন উপায়ে বংশবিস্তার করে:
    ১. অ্যাকাইনিটি (Akinete) সৃষ্টি: প্রতিকূল পরিবেশে ইউলোথ্রিক্সের কোনো কোনো কোষের প্রোটোপ্লাস্ট সংকুচিত হয়ে খাদ্য সঞ্চয় করে এবং চারদিকে পুরু প্রাচীর তৈরি করে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। একে অ্যাকাইনিটি বলে। অনুকূল পরিবেশ ফিরে এলে এগুলো অঙ্কুরিত হয়ে নতুন ফিলামেন্ট গঠন করে।
    ২. অ্যাপ্লানোস্পোর (Aplanospore): প্রতিকূল আবহাওয়ায় কোষের প্রোটোপ্লাস্ট সচল জুস্পোর না বানিয়ে নিশ্চল, পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট রেনুতে পরিণত হয়, যাকে অ্যাপ্লানোস্পোর বলে।
    ৩. পামেলা দশা (Palmella stage): অত্যন্ত প্রতিকূল বা শুষ্ক অবস্থায় বারবার কোষ বিভাজিত হয়ে অপত্য কোষগুলো মিউসিলেজের আস্তরণে আবদ্ধ হয়ে অবস্থান করে। অনুকূল পরিবেশে প্রতিটি কোষ নতুন শৈবাল দেহ তৈরি করে।
    ৪. যৌন জনন ও জাইগোস্পোর সৃষ্টি: খাদ্য ও পানির তীব্র অভাব দেখা দিলে আইসোগ্যামাস পদ্ধতিতে দুটি বিপরীত প্রকৃতির সচল গ্যামেটের মিলনে চতুষ্কশাবিশিষ্ট জাইগোট তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে চারদিকে পুরু প্রাচীর তৈরি করে সুপ্ত 'জাইগোস্পোর'-এ পরিণত হয়ে প্রতিকূল অবস্থা অতিক্রম করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'B' চিত্রটি হলো ছত্রাক (Agaricus বা মাশরুম)। খাদ্য ও ঔষধ শিল্পে ছত্রাক বা মাশরুমের গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. খাদ্য হিসেবে গুরুত্ব:
    ক. পুষ্টিকর খাদ্য: Agaricus bisporus, Agaricus campestris প্রভৃতি ভোজ্য মাশরুম সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন (বিশেষ করে ভিটামিন B-কমপ্লেক্স ও D) এবং খনিজ পদার্থ (যেমন- ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ও লৌহ) থাকে।
    খ. খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ: ইস্ট (Saccharomyces) ছত্রাক বেকারি শিল্পে পাউরুটি তৈরিতে এবং অ্যালকোহল ও মদ শিল্পে গ্লুকোজের সন্ধান প্রক্রিয়ায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া পনির উৎপাদনে Penicillium ব্যবহৃত হয়।
    গ. চর্বিহীন ডায়েট: মাশরুমে স্নেহজাতীয় পদার্থ ও শর্করার পরিমাণ খুবই কম থাকায় এটি ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগীদের জন্য আদর্শ খাদ্য।

    ২. ঔষধ শিল্পে গুরুত্ব:
    ক. অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন: ছত্রাক থেকে মানব সভ্যতার প্রথম ও অন্যতম প্রধান অ্যান্টিবায়োটিক 'পেনিসিলিন' (Penicillium notatum থেকে) আবিষ্কৃত হয়। এছাড়া সেফালোস্পোরিনসহ বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিক বিভিন্ন ছত্রাক থেকে উৎপন্ন হয়।
    খ. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ ও টিউমার প্রতিরোধ: Agaricus-এর বেশ কিছু প্রজাতিতে লোভাস্ট্যাটিন নামক উপাদান থাকে, যা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। মাশরুমে থাকা বিটা-গ্লুকান মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং টিউমার বা ক্যান্সারের বিস্তার রোধে সহায়তা করে।
    গ. ভিটামিন ও এনজাইম তৈরিতে: ইস্ট ছত্রাক থেকে ভিটামিন B-কমপ্লেক্স সমৃদ্ধ ঔষধ এবং বিভিন্ন পাচক এনজাইম নিষ্কাশন করা হয়।

    সুতরাং, খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঔষধ প্রস্তুতকরণে ছত্রাক গোষ্ঠীর অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন