পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলে এমন একটি জনগোষ্ঠী ছিল। যারা বাংলা ভাষার মাধ্যমে নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করত। তাদের মধ্যে আচার-আচরণ, রীতিনীতির সাদৃশ্য ছিল। তাই তারা নিজেদেরকে অন্য জনগোষ্ঠী থেকে পৃথক মনে করত। পরবর্তীকালে উক্ত জনগোষ্ঠী সুসংগঠিত হয়ে এক রক্তাক্ত বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করে।
- ক)(1)
দেশপ্রেম কী?
- খ)(2)
জাতীয়তা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জাতীয়তার যে উপাদানটি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“জাতি গঠনে উক্ত উপাদানটি একমাত্র নয়” — উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বদেশের প্রতি মানুষের অকৃত্রিম ও গভীর ভালোবাসা, আনুগত্য এবং আত্মত্যাগের মানসিকতাই হলো দেশপ্রেম।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয়তা হলো মূলত একটি মানসিক বা মনস্তাত্ত্বিক ধারণা। একই ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য কিংবা ভৌগোলিক ঐক্যের সূত্রে আবদ্ধ একটি জনসমাজ যখন নিজেদের মধ্যে একাত্মতা অনুভব করে এবং অন্যান্য জনসমাজ থেকে নিজেদের আলাদা মনে করে, তখন সেই বিশেষ অনুভূতিকে জাতীয়তা বলা হয়। এই অনুভূতির কারণেই একটি জনসমাজ রাজনৈতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জাতীয়তা গঠনে 'ভাষা ও সংস্কৃতির ঐক্য' মুখ্য উপাদান হিসেবে কাজ করেছে।
একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠীর ভাব বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম হলো তাদের মাতৃভাষা। অভিন্ন ভাষার মাধ্যমে মানুষের পারস্পরিক আবেগ, অনুভূতি ও চিন্তার আদান-প্রদান সহজতর হয়, যা তাদের মধ্যে গভীর একাত্মতাবোধ তৈরি করে। একই ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর সাহিত্য, শিল্প ও সাংস্কৃতিক জীবনধারা অভিন্ন হওয়ায় তাদের মধ্যে একটি সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে ওঠে।
উদ্দীপকে ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলের একটি জনগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে, যারা বাংলা ভাষায় কথা বলত এবং যাদের আচার-আচরণ ও রীতিনীতিতে সাদৃশ্য ছিল। এ ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের ভিত্তিতেই তারা অন্য জনগোষ্ঠী থেকে নিজেদের স্বতন্ত্র মনে করে। বাস্তবে যা বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ১৯৭১ সালে এক রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূল প্রেরণা জুগিয়েছিল। সুতরাং উদ্দীপকে ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যই জাতীয়তার প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“জাতি গঠনে উক্ত উপাদানটি একমাত্র নয়” — উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে জাতি গঠনে ভাষা ও সংস্কৃতির ঐক্যকে প্রধান উপাদান হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান অনুযায়ী জাতীয়তা ও জাতি গঠনে ভাষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলেও এটি একমাত্র উপাদান নয়। একটি স্বতন্ত্র জাতি গঠনে আরও একাধিক উপাদানের পারস্পরিক সমন্বয় প্রয়োজন হয়, যেমন— ভৌগোলিক সান্নিধ্য, ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক চেতনা, অর্থনৈতিক স্বার্থের ঐক্য, সাধারণ আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের রাজনৈতিক ইচ্ছা।
শুধুমাত্র একই ভাষার জনগোষ্ঠী হলেই জাতি গঠিত হয় না। যেমন— যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ মানুষের ভাষা ইংরেজি হলেও তারা পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত। আবার সুইজারল্যান্ডে ফরাসি, জার্মান, ইতালীয় ও রোমানশ— এই চারটি ভাষা প্রচলিত থাকা সত্ত্বেও তারা একটি ঐক্যবদ্ধ সুইস জাতিতে পরিণত হয়েছে। এমনকি ভারতে বহু ভাষা প্রচলিত থাকার পরেও তারা এক জাতি। সুতরাং, ভাষা ছাড়াও ভৌগোলিক সংলগ্নতা, শাসনতান্ত্রিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা লাভের তীব্র আকাঙ্ক্ষা একটি জাতিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
অতএব বলা যায়, বাঙালি জাতি গঠনে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করলেও সামগ্রিক জাতি গঠনে ভাষা একমাত্র উপাদান নয়; অন্যান্য সামাজিক, ঐতিহাসিক, মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক উপাদানের সমাহারেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জাতি গঠিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও