বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
গৌরী ও সঞ্জয় অনেক দিন ধরে একই অফিসে চাকরি করছে কিন্তু সহকর্মীরা জানে না দুজনার অন্তরে গভীর ক্ষত। গৌরীকে নিজে পছন্দ করে বিয়ে করতে চেয়েছিল সঞ্জয়। বছর পাঁচেক আগে লোক খাওয়ানো নিয়ে বিয়ে ভেঙেছে তাদের। পিতৃহীন সঞ্জয় কাকার আশ্রয়ে মানুষ তাই তার দোষ জেনেও প্রতিবাদ করতে পারেনি। একদিন গৌরীর কাছে নিজের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে সঞ্জয়। বলে, তার জন্য সে সারা জীবন অপেক্ষা করবে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে গৌরী বলে, "কী দরকার, এই তো বেশ আছি!"
- ক)(1)
কোন কথা স্মরণ করে অনুপমের মামা ও মা 'একযোগে বিস্তর হাসিলেন'?
- খ)(2)
"মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাপের খবরটাই তাহার কাছে গুরুতর"- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সঞ্জয় 'অপরিচিতা' গল্পের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? বুঝিয়ে দাও।
- ঘ)(4)
'এই তো বেশ আছি!' “গৌরীর এই উক্তিতে 'অপরিচিতা' গল্পের 'পরিণতি প্রতিফলিত হয়েছে'- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অনুপমের পিসতুতো ভাই বিনুদার দেখা মেয়ের বিবরণ স্মরণ করে অনুপমের মামা ও মা 'একযোগে বিস্তর হাসিলেন' (বিনুদা বলেছিল, 'মন্দ নয় হে! খাঁটি সোনা বটে!')।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাপের খবরটাই তাহার কাছে গুরুতর"—উক্তিটির মাধ্যমে অনুপমের মামার অর্থলোভী ও বৈষয়িক মনোভাবকে বোঝানো হয়েছে।
'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের অভিভাবক হলেন তার মামা। মামা সবসময় চাইতেন অনুপমের এমন ঘরে বিয়ে হোক যাদের কোনো আভিজাত্য বা প্রতিপত্তি থাকবে না, কিন্তু প্রচুর ধনসম্পদ থাকবে এবং তারা অনুপমের পরিবারকে সর্বতোভাবে মেনে চলবে। তাই কনের রূপ বা গুণের চেয়ে কনের পিতার অর্থবিত্ত এবং তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কি না, মামার কাছে এই খবরটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সঞ্জয় 'অপরিচিতা' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'অনুপম'-এর প্রতিনিধিত্ব করে।
'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম অত্যন্ত ব্যক্তিত্বহীন ও পরিবার-নির্ভর এক যুবক। বিয়ের আসরে মামার অন্যায্য ও লোভী আচরণের প্রতিবাদ করার মতো সাহস ও ব্যক্তিত্ব তার ছিল না। কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন যখন যৌতুকের গহনা পরীক্ষা করার অপমানে বিয়ে ভেঙে দেন, তখনও অনুপম ছিল নীরব দর্শক।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, সঞ্জয় নিজে গৌরীকে পছন্দ করে বিয়ে করতে চাইলেও লোক খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে কাকার অন্যায় আচরণে তাদের বিয়ে ভেঙে যায়। পিতৃহীন সঞ্জয় কাকার আশ্রয়ে বড় হওয়ায় কাকার দোষ জেনেও কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনি। পরবর্তীতে সে গৌরীর কাছে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে আজীবন অপেক্ষার কথা জানায়, ঠিক যেমন অনুপমও আজীবন কল্যাণীর পদাশ্রয়ে থাকার সংকল্প করেছিল। ব্যক্তিত্বহীনতা, অভিভাবকের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করা এবং ভালোবাসার পাত্রীর জন্য আজীবন অপেক্ষার দিক থেকে সঞ্জয় 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের চরিত্রের সার্থক প্রতিনিধিত্ব করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'এই তো বেশ আছি!' গৌরীর এই উক্তিতে 'অপরিচিতা' গল্পের পরিণতি প্রতিফলিত হয়েছে—উক্তিটি যথার্থ ও যথার্থভাবে মূল্যায়িত।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'অপরিচিতা' গল্পে বিয়ের আসরে যৌতুক নিয়ে মামার চরম অপমানজনক আচরণের প্রেক্ষিতে কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ সেন বিয়ে ভেঙে দেন। পরবর্তীতে অনুপম ভুল বুঝতে পেরে কল্যাণীকে পাওয়ার আকুল চেষ্টা করলেও কল্যাণী আর বিয়ে করেনি। সে দেশমাতৃকার সেবায়, মেয়েদের শিক্ষাদানে নিজেকে ব্রতী করে স্বাবলম্বী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জীবন বেছে নেয়। অনুপমের অনুশোচনা ও ভালোবাসার আহ্বানে সে আর পূর্বের দাম্পত্য সম্পর্কের মোহে ফিরে যায়নি।
উদ্দীপকের গৌরীও অনুরূপ মানসিকতার পরিচয় দেয়। লোক খাওয়ানো নিয়ে সঞ্জয়ের কাকার অন্যায়ের কারণে তাদের বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল। সঞ্জয় অসহায়ত্ব প্রকাশ করে গৌরীর জন্য সারাজীবন অপেক্ষা করার কথা বললেও গৌরী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, "কী দরকার, এই তো বেশ আছি!" এই উক্তিটির মধ্য দিয়ে গৌরীর আত্মমর্যাদাবোধ, স্বাবলম্বন এবং অতীতের পিছুটান ভুলে বর্তমান স্বাধীন জীবনকে বরণ করে নেওয়ার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
কল্যাণীর আত্মমর্যাদাপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও দেশসেবার ব্রত যেমন অনুপমের সাথে মিলনের সম্ভাবনাকে চিরতরে সমাপ্ত করে দেয়, গৌরীর বক্তব্যও সঞ্জয়ের প্রতি এক ধরনের চূড়ান্ত দূরত্ব তৈরি করে স্বাধীন জীবনের তৃপ্তিকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, গৌরীর এই উক্তিতে 'অপরিচিতা' গল্পের পরিণতির সুরই প্রতিধ্বনিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও