জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
গ্রীক পুরাণে বর্ণিত দৈত্যের নামে পরিচিত একটি প্রাণী যা ধীর গতি সম্পন্ন চলন প্রদর্শন করে।
- ক)(1)
হাইপোস্টোম কাকে বলে?
- খ)(2)
নেমাটোসিস্ট কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রাণীটির উল্লিখিত চলন পদ্ধতি সচিত্র ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জীবন পরিচালনায় উল্লিখিত প্রাণীটি কোষ পর্যায়ে কাজ বণ্টন করে-বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাইড্রার দেহের মুক্ত প্রান্তের শীর্ষদেশে মুখছিদ্রকে ঘিরে অবস্থিত মোচাকৃতি, সংবেদনশীল ও সংকোচন-প্রসারণশীল অংশকে হাইপোস্টোম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নেমাটোসিস্ট হলো নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের (যেমন হাইড্রার) নিডোসাইট বা নিডোব্লাস্ট কোষের ভেতরে অবস্থিত প্রোটিন ও কাইটিন নির্মিত বিষাক্ত রসপূর্ণ ক্যাপসুল এবং নলাকার সূত্রকযুক্ত অঙ্গাণু।
নেমাটোসিস্টের ভেতরে 'হিপনোটক্সিন' নামক বিষাক্ত তরল থাকে এবং এর মুখ একটি অপারকুলাম দ্বারা ঢাকা থাকে। এটি প্রধানত শিকার ধরা, আত্মরক্ষা এবং চলনের কাজে ব্যবহৃত হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রাণীটি হলো হাইড্রা (Hydra)। হাইড্রার সবচেয়ে ধীর গতি সম্পন্ন চলন পদ্ধতিটি হলো গ্লাইডিং (Gliding) বা অ্যামিবয়েড চলন।
গ্লাইডিং চলন পদ্ধতির সচিত্র বিবরণ:
১. হাইড্রার পদতল বা পাদচাকতির এপিডার্মিসের গ্রন্থিকোষগুলো থেকে পিচ্ছিল আঠালো মিউকাস বা রস নিঃসৃত হয়।
২. পাদচাকতির ক্ষণপদসদৃশ সংকোচন-প্রসারণশীল বহিঃত্বকীয় পেশি-আবরণী কোষগুলো পিচ্ছিল রসের ওপর খুব মসৃণভাবে ক্ষণপদ সৃষ্টি করে ধীরে ধীরে সামনের দিকে অগ্রসর হয়।
৩. এই প্রক্রিয়ায় প্রাণীটি তার অবস্থান থেকে উলম্ব বা খাড়া অবস্থা বজায় রেখেই ভিত্তি সংলগ্ন তলের ওপর অত্যন্ত মন্থর গতিতে ভেসে চলার মতো করে স্থান পরিবর্তন করে।[চিত্র নির্দেশিকা: একটি অনুভূমিক ভিত্তির ওপর হাইড্রার পাদচাকতি সামান্য পিচ্ছিল রস নিঃসৃত অবস্থায় একপাশ থেকে অন্যপাশে সামান্য সরে যাওয়ার ধারাবাহিক তীরচিহ্নিত ধাপ।]
এই চলনে কোনো কর্ষিকার ব্যবহার হয় না এবং চলনের গতি অত্যন্ত ধীর হওয়ায় একে হাইড্রার সবচেয়ে ধীর গতির স্বাভাবিক চলন বলা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রাণী হাইড্রা (Hydra) হলো কোষ-কলা মাত্রার একটি বহুকোষী প্রাণী। এর শারীরবৃত্তীয় কাজসমূহ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট কিছু কোষ বিশেষ বিশেষ কাজে নিয়োজিত থাকে, অর্থাৎ এর জীবন পরিচালনায় কোষ পর্যায়ে শ্রম বণ্টন বা কাজ বণ্টন সুস্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।
হাইড্রার দেহে প্রধানত দুটি স্তর (এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিস) রয়েছে, যার বিভিন্ন কোষ নিম্নোক্তভাবে কার্য সম্পাদন করে:
১. সুরক্ষা ও আবরণ তৈরি: এপিডার্মিসের 'পেশি-আবরণী কোষ' দেহের বহিঃআবরণ তৈরি করে দেহকে আঘাত থেকে রক্ষা করে এবং এদের মায়োনিম তন্তু দেহের সংকোচন-প্রসারণে সাহায্য করে।
২. শিকার ধরা ও আত্মরক্ষা: এপিডার্মিসের বিশেষায়িত 'নিডোসাইট' কোষ শিকারকে অবশ করতে, শিকারকে পেঁচিয়ে ধরতে এবং আত্মরক্ষামূলক কাজে সরাসরি অংশ নেয়।
৩. সংবেদন গ্রহণ ও স্নায়বিক সংযোগ: 'সংবেদী কোষ' পরিবেশ থেকে আলো, তাপ ও স্পর্শের উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং 'স্নায়ু কোষ' এ উদ্দীপনা সমগ্র দেহে জালিকার মতো ছড়িয়ে দেয়।
৪. পরিপাক কার্য: গ্যাস্ট্রোডার্মিসের 'পুষ্টি কোষ' বা পেশি-আবরণী কোষ ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে খাদ্য চূর্ণ করে এবং ফ্যাগোসাইটোসিস ও পিনোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় অন্তঃকোষীয় পরিপাক ঘটায়। এছাড়া 'গ্রন্থিকোষ' পরিপাক রস ও এনজাইম ক্ষরণ করে বহিঃকোষীয় পরিপাক সম্পন্ন করে।
৫. চলন ও ক্ষরণ: পাদচাকতির গ্রন্থিকোষ আঠালো রস নিঃসৃত করে প্রাণীকে তলের সাথে আটকে রাখতে ও গ্লাইডিং চলনে সহায়তা করে।
৬. প্রজনন ও পুনরুৎপত্তি: 'ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ' প্রয়োজনে যেকোনো ধরনের কোষে রূপান্তরিত হয়ে নতুন অঙ্গ গঠন, ক্ষয়পূরণ, মুকুলোদ্গম ও জননাঙ্গ সৃষ্টি করে প্রজননে ভূমিকা রাখে।উপরিউক্ত বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট হয় যে, উন্নত প্রাণীদের মতো হাইড্রার দেহে কলা বা অঙ্গের জটিল সংগঠন না থাকলেও প্রতিটি স্বতন্ত্র কোষের নির্দিষ্ট কার্যাবলীর মাধ্যমেই জীবনের মৌলিক সকল জৈবিক ক্রিয়া সম্পাদিত হয়। সুতরাং, জীবন পরিচালনায় হাইড্রা কোষ পর্যায়ে নিখুঁত কাজ বণ্টন করে থাকে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও