অর্থনীতি ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
গুলেনের দেশে প্রতিরক্ষা, প্রশাসন, বিদ্যুৎ, ওয়াসাসহ আরও কিছু ব্যবসা ও সেবাখাত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। পাশাপাশি প্রায় সবক্ষেত্রেই সে দেশে বেসরকারি খাতও রয়েছে।
- ক)(1)
উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা কী?
- খ)(2)
অর্থনীতিতে সকল অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব হয় না কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত গুলেনের দেশে বিদ্যমান অর্থব্যবস্থার প্রকৃতি নির্ণয় করে এর তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অর্থব্যবস্থার সাথে অপরাপর অর্থব্যবস্থার তুলনা করে কোনটি অধিক উন্নত- মন্তব্য করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা (Production Possibility Curve বা PPC) হলো এমন একটি রেখা, যার প্রতিটি বিন্দুতে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ ও চলতি প্রযুক্তির সাপেক্ষে দুটি দ্রব্যের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ উৎপাদনের বিভিন্ন সংমিশ্রণ নির্দেশিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতিতে মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু সেই অভাব পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বা উপাদান অত্যন্ত সীমিত বা দুষ্প্রাপ্য। সম্পদের এই সীমাবদ্ধতার কারণে একজন ব্যক্তি বা সমাজের পক্ষে একই সাথে সব অভাব পূরণ করা সম্ভব হয় না। এজন্য মানুষকে অভাবের গুরুত্ব ও তীব্রতা অনুযায়ী বাছাই বা নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অভাব পূরণ করতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত গুলেনের দেশে বিদ্যমান অর্থব্যবস্থাটি হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা (Mixed Economy)। কারণ এ অর্থব্যবস্থায় একদিকে প্রতিরক্ষা, প্রশাসন, বিদ্যুৎ, ওয়াসা ইত্যাদি মৌলিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ খাত সরকারের অধীনে এবং অন্যদিকে প্রায় সবক্ষেত্রেই বেসরকারি উদ্যোগের উপস্থিতি রয়েছে।
মিশ্র অর্থব্যবস্থার তিনটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো:
১. সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহাবস্থান: এ অর্থব্যবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি খাত পাশাপাশি পরিচালিত হয়। গুরুত্বপূর্ণ ও সেবামূলক খাতসমূহ সরকারের অধীনে এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতগুলো মুনাফার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।
২. অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও বাজার ব্যবস্থার সমন্বয়: মিশ্র অর্থনীতিতে একদিকে কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনা থাকে, অন্যদিকে দ্রব্যের মূল্য ও উৎপাদন নির্ধারণে মুক্ত বাজার তথা চাহিদা ও জোগানের স্বয়ংক্রিয় শক্তিও সক্রিয় থাকে।
৩. মুনাফা অর্জন ও সামাজিক কল্যাণ: ব্যক্তিমালিকানায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে, তবে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ও নীতি প্রণয়ন করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মিশ্র অর্থব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। পৃথিবীতে সাধারণত চার ধরনের অর্থব্যবস্থা প্রচলিত: পুঁজিবাদী, সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক, ইসলামিক এবং মিশ্র অর্থব্যবস্থা।
পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহের ব্যক্তিমালিকানা থাকে এবং তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন মূল লক্ষ্য হয়। তবে এতে আয়বৈষম্য, একচেটিয়া কারবার ও শ্রমিক শোষণের সৃষ্টি হতে পারে। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে সামাজিক কল্যাণ সাধিত হলেও ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের অভাব দেখা যায়। ইসলামিক অর্থব্যবস্থা শরিয়াহভিত্তিক নীতি, সুদবিহীন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
অন্যদিকে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার ত্রুটিসমূহ (যেমন- অতিমাত্রায় শোষণ, অসাম্য) এবং সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার ত্রুটিসমূহ (যেমন- ব্যক্তিস্বাধীনতার অভাব, অনুৎসাহ) পরিহার করে উভয়ের ইতিবাচক দিকগুলোর সমন্বয় ঘটানো হয়। এতে ব্যক্তিগত উদ্যোগের স্বাধীনতা থাকায় দক্ষতার বিকাশ ঘটে এবং সরকারি খাতের সক্রিয় উপস্থিতির ফলে মৌলিক সেবা প্রাপ্তি ও জনস্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
সুতরাং সামগ্রিক দিক বিবেচনায়, বাস্তব প্রেক্ষাপট ও আধুনিক বিশ্বের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সামাজিক সুরক্ষার চমৎকার ভারসাম্যের কারণে মিশ্র অর্থব্যবস্থা পুঁজিবাদী বা কঠোর সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার তুলনায় অধিকতর জনবান্ধব, ভারসাম্যপূর্ণ ও উন্নত ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও