সাহিত্য পাঠ • আত্মচরিত • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

যাকে অপদার্থ ও অকর্মণ্য বলে উপহাস করা হচ্ছে, তাকে যদি কেউ সাহস দেয়, এগিয়ে যাবার পরামর্শ এবং সহযোগিতার হাত বাড়ায়, তবে সেই মানুষটির মানসিক ও আত্মিক বিবর্তন ঘটবে। এতে অলস পরিশ্রমী হতে পারে, অপ্রতিভ সপ্রতিভ হবে, ভীরু সাহসী হবে, মূর্খ বিদ্বান হবে, দুর্বল বলবান হতে পারে। এর অন্যতম কারণ, সেই মানুষটির অন্তর্নিহিত সত্যের বিকাশ।

  1. ক)

    'আমার পথ' প্রবন্ধটি কোন প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

    (1)
  2. খ)

    কাজী নজরুল ইসলাম 'আমার সত্য' বলতে কী বুঝিয়েছেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ভাবনা আমার পথ' প্রবন্ধের সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

    (3)
  4. ঘ)

    “আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।" উদ্দীপক ও 'আমার পথ' প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আমার পথ' প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কাজী নজরুল ইসলাম 'আমার সত্য' বলতে নিজের অন্তরের বিবেক, মানবতাবোধ, সত্যনিষ্ঠা এবং আত্মমর্যাদাবোধকে বুঝিয়েছেন।

    প্রাবন্ধিক মনে করেন, কোনো বাহ্যিক মিথ্যা বা ভণ্ডামির কাছে মাথা নত না করে নিজের অন্তর্নিহিত সত্য ও নীতিবোধকে পথপ্রদর্শক মানাই হলো 'আমার সত্য'। এই আত্মোপলব্ধি মানুষকে ভীতিহীন ও স্বাবলম্বী করে তোলে এবং ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে সাহস জোগায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মূল ভাবনা মানুষের অন্তর্নিহিত সত্যের বিকাশ ও আত্মজাগরণের দিক থেকে 'আমার পথ' প্রবন্ধের সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    'আমার পথ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক কাজী নজরুল ইসলাম মানুষের আত্মাকে চেনার এবং অন্তরের সত্যকে উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। মানুষের মধ্যকার ভয়, পরনির্ভরতা ও দুর্বলতা তখনই দূর হয়, যখন সে নিজের আত্মশক্তি ও সত্যের পরিচয় পায়। আত্মোপলব্ধির মাধ্যমেই একজন মানুষ স্বাধীনচেতা ও সাহসী হয়ে ওঠে।

    উদ্দীপকেও বলা হয়েছে যে, কোনো অপদার্থ বা অকর্মণ্য মানুষকে সাহস, উৎসাহ ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তার মানসিক ও আত্মিক বিবর্তন ঘটে; অলস পরিশ্রমী হয়, ভীরু সাহসী হয় এবং দুর্বল বলবান হয়। এই পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে উদ্দীপকে নির্দেশ করা হয়েছে মানুষের অন্তর্নিহিত সত্যের বিকাশকে। উদ্দীপকের এই আত্মশক্তির স্ফুরণ ও সত্যের জাগরণের ধারণাটি 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূল চেতনার সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে”—মন্তব্যটি উদ্দীপক ও 'আমার পথ' প্রবন্ধের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।

    'আমার পথ' প্রবন্ধে নজরুল দেখিয়েছেন যে, আত্মাকে চেনা বা আত্মোপলব্ধি অর্জন করাই হলো মানুষের মুক্তির প্রথম শর্ত। মানুষ যখন নিজের অন্তরের সত্য ও শক্তিকে জানতে পারে, তখন সে পরনির্ভরতা কাটিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখে। গোলামি বা দাসত্বের মূল কারণ হলো আত্মবিশ্বাসের অভাব। আত্মাকে চিনলে মানুষের মধ্যে যে আত্মপ্রত্যয় গড়ে ওঠে, তা তাকে অটল ও আত্মনির্ভর করে তোলে।

    উদ্দীপকেও একই সত্য প্রতিধ্বনিত হয়েছে। যে মানুষকে সমাজ অপদার্থ বা দুর্বল মনে করে, তার ভেতরের সুপ্ত সম্ভাবনা ও অন্তর্নিহিত সত্যকে জাগিয়ে তুলতে পারলে সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। সাহস ও প্রেরণার মাধ্যমে আত্মিক জাগরণ ঘটলে একজন ভীরু মানুষও সাহসী এবং দুর্বল বলবান হয়ে ওঠে।

    সুতরাং, উদ্দীপক ও 'আমার পথ' প্রবন্ধ—উভয় ক্ষেত্রেই স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পরনির্ভরতা থেকে মুক্তি পেয়ে সত্যিকার অর্থে আত্মনির্ভরশীল হতে হলে প্রথমে নিজের আত্মশক্তি ও অন্তরের সত্যকে জানতে হবে। আত্মাকে চেনার মাধ্যমেই মানুষ স্বাবলম্বী ও আত্মমর্যাদাবান হয়ে ওঠে। তাই উদ্ধৃত মন্তব্যটি শতভাগ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন