সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
লিবান একটি পত্রিকায় দুটি প্রবন্ধ পড়লো। প্রথম প্রবন্ধে বলা হয়েছে, মানব ইতিহাসের এক বিশেষ সময়ে মানুষ যাযাবর জীবন ছেড়ে কৃষি ভিত্তিক স্থায়ী সমাজ গড়ে তোলে। এই সময়ে তারা মাটির পাত্র তৈরি এবং চাকা আবিষ্কারের মাধ্যমে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করে। দ্বিতীয় প্রবন্ধে লিবান পড়লো, মাটির নিচে লুকানো এক বিশেষ খনিজ আহরণের ফলে মানব সভ্যতা আমূল বদলে যায়। ব্রোঞ্জের তুলনায় এ ধাতুটি ছিল সহজলভ্য ও শক্তিশালী। এর ব্যবহারের ফলে বিশাল বিশাল সাম্রাজ্য ও সেনাবাহিনী গড়ে উঠে। আধুনিক সভ্যতা মূলত এ ধাতু দ্বারা চালিত হয়।
- ক)(1)
আনন্দ বিহার কাকে বলে?
- খ)(2)
ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহারটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথম প্রবন্ধ কোন যুগকে নির্দেশ করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দ্বিতীয় প্রবন্ধে বর্ণিত ধাতুর ব্যবহারই আধুনিক শিল্পায়িত সমাজের মূল চালিকাশক্তি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কুমিল্লার ময়নামতিতে অবস্থিত সপ্তম-অষ্টম শতকে দেব রাজবংশের রাজা আনন্দ দেব কর্তৃক নির্মিত প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ বা স্থাপত্য নিদর্শনই হলো আনন্দ বিহার।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহারটি হলো নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত 'সোমপুর মহাবিহার'। পাল রাজবংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল অষ্টম শতকের শেষভাগে এটি নির্মাণ করেন। এটি একটি বিশালাকার চতুষ্কোণ ক্ষেত্রবিশিষ্ট স্থাপত্য, যার চারপাশে ১৭৭টি সন্ন্যাসীকক্ষ এবং কেন্দ্রে একটি সুউচ্চ মূল মন্দির রয়েছে। এটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয়ই ছিল না, বরং সমগ্র এশিয়ার জ্ঞানচর্চা ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির এক প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথম প্রবন্ধ মানব ইতিহাসের 'নব্যপ্রস্তর যুগ' বা 'নবপলীয় যুগ' (Neolithic Age)-কে নির্দেশ করেছে।
নব্যপ্রস্তর যুগকে মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সময় হিসেবে গণ্য করা হয়, যাকে সমাজবিজ্ঞানী গর্ডন চাইল্ড 'নবপলীয় বিপ্লব' (Neolithic Revolution) নামে অভিহিত করেছেন। এ যুগে মানুষ খাদ্য সংগ্রাহক ও যাযাবর অবস্থা থেকে খাদ্য উৎপাদক ও স্থায়ী বসবাসকারী সমাজে রূপান্তরিত হয়। স্থায়ী কৃষিকাজের সূচনা, মাটির পাত্র (মৃৎশিল্প) তৈরি এবং চাকা আবিষ্কার ছিল এ যুগের যুগান্তকারী বৈশিষ্ট্য।
উদ্দীপকের প্রথম প্রবন্ধে বলা হয়েছে যে, মানুষ যাযাবর জীবন ছেড়ে কৃষিভিত্তিক স্থায়ী সমাজ গড়ে তোলে এবং মাটির পাত্র ও চাকা আবিষ্কার করে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করে। এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য নব্যপ্রস্তর যুগের সাথে হুবহু মিলে যায়। সুতরাং, উদ্দীপকের প্রথম প্রবন্ধটি নব্যপ্রস্তর যুগকেই নির্দেশ করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিতীয় প্রবন্ধে বর্ণিত ধাতুটি হলো 'লোহা' এবং এর বহুমুখী ব্যবহারই আধুনিক শিল্পায়িত সমাজের মূল চালিকাশক্তি—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশে লৌহ যুগের সূচনা এক বিশাল পরিবর্তন বয়ে আনে। ব্রোঞ্জের তুলনায় লোহা ছিল প্রকৃতিতে অনেক বেশি সহজলভ্য, টেকসই ও শক্তিশালী। লোহার তৈরি লাঙলের ফলা, কুঠার ও অস্ত্রশস্ত্র কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করে এবং শক্তিশালী রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনী গঠনে সাহায্য করে।
আধুনিক শিল্পায়িত সমাজের মূল ভিত্তি হলো ভারী শিল্প ও আধুনিক প্রযুক্তি, যা সম্পূর্ণরূপে লোহা ও ইস্পাতের ওপর নির্ভরশীল। কারখানা নির্মাণ, বিশালাকার যন্ত্রপাতি, যানবাহন (রেলগাড়ি, জাহাজ, মোটরযান, উড়োজাহাজ), রেললাইন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার, আকাশচুম্বী অট্টালিকা এবং যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামো—সবকিছুতেই লোহার ব্যবহার অপরিহার্য। লোহা বা ইস্পাত ছাড়া আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা ও সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়বে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ধাতুটি সহজে লভ্য ও অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এর ওপর ভিত্তি করেই আধুনিক সভ্যতা চালিত হচ্ছে, যা নিশ্চিতভাবে লোহাকে নির্দেশ করে। অতএব, সমকালীন বৃহৎ উৎপাদন ব্যবস্থা, বৈশ্বিক নগরায়ণ ও প্রযুক্তিগত বিকাশের কেন্দ্রবিন্দুতে লোহা বিরাজ করায় এটিই আধুনিক শিল্পায়িত সমাজের মূল চালিকাশক্তি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও