ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
রায়হান, মাহমুদ ও রাসেল পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ৫ বছর ধরে একটি পেট্রোল পাম্পের ব্যবসায় পরিচালনা করে আসছেন। রাসেল তাদের সাথে ব্যবসায়ে যুক্ত হলেও তিনি কোনো মূলধন বিনিয়োগ করেন নি এবং পরিচালনাতেও অংশগ্রহণ করেন না। শুধুমাত্র তার সুনাম ব্যবহার করেন। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন করা হয়। হঠাৎ করে বিশ্ব বাজারে পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সংকটে পড়ে এবং অনেক পাওনাদার সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় ব্যবসায়ের সমস্ত সম্পদ হিসাব করে দেখা যায়, শুধুমাত্র মি. রাসেল প্রতিষ্ঠানের এ দায় পরিশোধ করতে সক্ষম।
- ক)(1)
ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায় কী?
- খ)(2)
অংশীদারি চুক্তিপত্র বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
মি. রাসেল কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কী মনে করো মি. রাসেল একাই এ দায় বহনে বাধ্য? যুক্তিসহ উত্তর দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে অংশীদারি ব্যবসায়ের স্থায়িত্বকাল অংশীদারদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে এবং চুক্তিপত্রে এর মেয়াদ বা উদ্দেশ্য সাধনের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ থাকে না, তাকে ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অংশীদারদের পারস্পরিক অধিকার, দায়, কর্তব্য ও পরিচালনা সংক্রান্ত যাবতীয় নিয়মাবলি লিখিতভাবে যে দলিলে লিপিবদ্ধ করা হয়, তাকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।
চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি। ভবিষ্যতে অংশীদারদের মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি, মতবিরোধ বা মামলা-মোকদ্দমার আশঙ্কা দূর করতে এবং ব্যবসায়ের মসৃণ পরিচালনার স্বার্থে চুক্তিপত্র লিখিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। এটি ভবিষ্যতে যে কোনো বিরোধের প্রমাণ্য দলিল হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. রাসেল হলেন একজন 'নামমাত্র অংশীদার' (Nominal Partner)।
যে ব্যক্তি অংশীদারি ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না এবং ব্যবসায়ের পরিচালনায় অংশ নেয় না, কিন্তু চুক্তির শর্তানুযায়ী বা বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে ব্যবসায়ে নিজের সুনাম বা নাম ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তাকে নামমাত্র অংশীদার বলে। এ ধরনের অংশীদার সাধারণ অর্থে লাভ-ক্ষতির অংশীদার না হলেও তৃতীয় পক্ষের নিকট ব্যবসায় হিসেবে পরিচিতি পায়।
উদ্দীপকে রাসেল ৫ বছর ধরে রায়হান ও মাহমুদের সাথে অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি কোনো মূলধন দেননি এবং ব্যবসায় পরিচালনাতেও অংশগ্রহণ করেন না; শুধুমাত্র তাঁর সুনাম ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। নামমাত্র অংশীদারের সংজ্ঞার সাথে মি. রাসেলের এই ভূমিকা সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব, তিনি একজন নামমাত্র অংশীদার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, আমি মনে করি না যে মি. রাসেল একাই এ দায় বহনে আইনগতভাবে বাধ্য; বরং সকল অংশীদার যৌথ ও পৃথকভাবে এ দায় বহনে বাধ্য।
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুযায়ী, নামমাত্র অংশীদার মূলধন না দিলেও যদি তৃতীয় পক্ষের কাছে নিজেকে অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করে বা তাঁর নাম ব্যবহারের কারণে তৃতীয় পক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণ দেয়, তবে তিনি সাধারণ অংশীদারের মতোই তৃতীয় পক্ষের নিকট ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ থাকেন। তবে অংশীদারি ব্যবসায়ের অন্যতম মূল নীতি হলো অংশীদারদের দায় অসীম, যৌথ ও ব্যক্তিগত (Joint and Several Liability)। ফলে যেকোনো একক অংশীদারের দায় যেমন থাকে, অন্য অংশীদারদেরও সমভাবে দায় বহন করতে হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধিত এবং আর্থিক সংকটে পাওনাদারদের দায় পরিশোধে অন্য অংশীদারদের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শুধুমাত্র মি. রাসেলের পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত সম্পদ রয়েছে। আইন অনুযায়ী পাওনাদাররা তাঁদের পাওনার জন্য মি. রাসেলের বিরুদ্ধে এককভাবে ব্যবস্থা নিয়ে তাঁর সম্পদ থেকে সমুদয় দায় আদায় করতে পারে, কারণ বাইরে তিনি একজন অংশীদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
কিন্তু অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে মি. রাসেল একাই চূড়ান্তভাবে দায় বহনে বাধ্য নন। পাওনাদারদের দায় মি. রাসেল একা পরিশোধ করতে বাধ্য হলেও তিনি পরবর্তীতে অপর দুই অংশীদার (রায়হান ও মাহমুদ)-এর কাছ থেকে তাদের অংশের ক্ষতিপূরণ বা অর্থ আইনি প্রক্রিয়ায় আদায়ের অধিকার রাখেন। সুতরাং, পাওনাদারের দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর সম্পদ ব্যবহার হলেও নৈতিক ও আইনি চূড়ান্ত দায় সমগ্র অংশীদারের, একা রাসেলের নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও