যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
লৌকিক ব্যাখ্যা কী?
- খ)(2)
পরম নিয়মকে ব্যাখ্যা করা যায়না কেন?
- গ)(3)
দৃষ্টান্ত-১-এ কোন বিষয়টি নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দৃষ্টান্ত-২ এ উল্লিখিত বিষয়টি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ মানুষ কোনো ঘটনাকে তার প্রকৃত বা অন্তর্নিহিত কারণ অনুসন্ধান না করে অলৌকিক, অতিপ্রাকৃতিক বা মনগড়া শক্তির সাহায্যে যে ব্যাখ্যা প্রদান করে, তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরম নিয়ম হলো প্রকৃতির সর্বোচ্চ ও মৌলিক নিয়ম, যার অধীন অন্যান্য নিয়ম বা ঘটনাকে এনে ব্যাখ্যা করা যায়, কিন্তু এদের চেয়ে ব্যাপকতর কোনো নিয়ম প্রকৃতিতে নেই।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার নিয়ম অনুযায়ী কোনো অপেক্ষাকৃত কম ব্যাপক নিয়মকে অপেক্ষাকৃত অধিক ব্যাপক নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা হয়। পরম নিয়ম নিজেই সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত নিয়ম হওয়ায় একে কোনো বৃহত্তর নিয়মের অধীনে স্থাপন করা সম্ভব নয়। তাই পরম নিয়মকে কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না, এটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্যতম সীমাবদ্ধতা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃষ্টান্ত-১-এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'শৃঙ্খলযোজন' (Intermixture of causes/Chaining of laws) রূপটি নির্দেশ করা হয়েছে।
যুক্তিবিদ্যায় বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার তিনটি রূপ রয়েছে—বিশ্লেষণ, শৃঙ্খলযোজন এবং অন্তর্ভুক্তি। দুটি ঘটনার মধ্যকার প্রাথমিক কারণ ও চূড়ান্ত কার্যের মাঝখানে যখন মধ্যবর্তী আরও কিছু কারণ বা পর্যায় আবিষ্কৃত হয় এবং তাদের একসূত্রে গেঁথে সংযোগ তৈরি করা হয়, তখন তাকে শৃঙ্খলযোজন বলে।
উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এ দেখানো হয়েছে: 'সমুদ্রের পানি বাষ্পীভূত মেঘ বৃষ্টিপাত'। এখানে সমুদ্রের পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে মেঘ হওয়া এবং সেই মেঘ ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত হওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি একটি শৃঙ্খল বা কার্যকারণ ধারাবাহিকতার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। বৃষ্টিপাত ও সমুদ্রের পানির পারস্পরিক সম্পর্ক সরাসরি বোঝার জন্য মধ্যবর্তী অবস্থা হিসেবে মেঘের উপস্থিতি প্রদর্শন করে ঘটনাগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক সংযোগ দেখানো হয়েছে। সুতরাং, এটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'শৃঙ্খলযোজন' পদ্ধতিকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃষ্টান্ত-২ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'বিশ্লেষণ' (Analysis) প্রক্রিয়াটিকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে এর বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
যখন কোনো একটি জটিল বা মিশ্র কার্য বিভিন্ন পৃথক পৃথক কারণের সম্মিলিত ক্রিয়ার ফলস্বরূপ ঘটে, তখন সেই জটিল ঘটনাটিকে ভেঙে তার মূল উপাদান বা পৃথক কারণগুলোকে শনাক্ত ও নির্দেশ করার প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় 'বিশ্লেষণ' বলা হয়।
উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-২ এ 'সুস্বাস্থ্য' নামক একটি সামগ্রিক অবস্থাকে নির্দেশ করা হয়েছে, যা একক কোনো কারণে ঘটে না। এটিকে বিশ্লেষণ করে এর নিয়ামক বা কারণ হিসেবে তিনটি পৃথক উপাদান দেখানো হয়েছে:
১. নিয়মিত ব্যায়াম,
২. পুষ্টিকর খাদ্য, এবং
৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা।এখানে সুস্বাস্থ্য হলো একটি জটিল ফল বা অবস্থা। এই ফলটি অর্জনের পেছনে একাধিক পৃথক কারণ একসঙ্গে কাজ করে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার নিয়ম অনুসারে সুস্বাস্থ্য রক্ষার ঘটনাটি বুঝতে হলে এই প্রতিটি কারণের ভূমিকা আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে হয়। উদ্দীপকে ঠিক এই কাজটিই করা হয়েছে—জটিল কার্যটিকে তার অন্তর্নিহিত কারণগুলোতে বিভক্ত বা বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে।
অতএব, দৃষ্টান্ত-২ এ উল্লিখিত বিষয়টি যুক্তিবিদ্যার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্যতম প্রধান রূপ 'বিশ্লেষণ'-কে যথার্থভাবে উপস্থাপন করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও