অর্থনীতি ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
নিম্নের টেবিলে সামগ্রিক আয় (Y), মোট সঞ্চয় (S) ও মোট বিনিয়োগ (I) এর তথ্য দেয়া হলো:
সামগ্রিক আয় (Y)(কোটি টাকায়) | মোট সঞ্চয় (S) (কোটিটাকায়) | মোট বিনিয়োগ (I)(কোটি টাকায়)
300 | 80 | 130
400 | 130 | 130
600 | 230 | 130
- ক)(1)
সামগ্রিক ব্যয় কী?
- খ)(2)
প্রবাসীদের GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হয় না কেন ?
- গ)(3)
উদ্দীপক হতে সঞ্চয়রেখা অঙ্কন করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণ সম্পর্কে যথাযথ মন্তব্য করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক আর্থিক বছরে) একটি দেশের অর্থনীতিতে উৎপাদিত যাবতীয় চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা ক্রয়ের জন্য সমাজের সকল খাতের মোট ব্যয়কে সামগ্রিক ব্যয় (Aggregate Expenditure) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে উৎপাদিত সকল চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবাকর্মের মোট আর্থিক মূল্য।
যেহেতু GDP কেবল দেশের ভৌগোলিক সীমানার অভ্যন্তরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও উৎপাদন বিবেচনা করে, তাই প্রবাসীদের অর্জিত আয় দেশের ভৌগোলিক সীমার বাইরে উৎপাদিত হয়। এই কারণে প্রবাসীদের প্রেরিত বা অর্জিত আয় GDP-তে অন্তর্ভুক্ত না হয়ে মোট জাতীয় আয় বা GNP/GNI-তে অন্তর্ভুক্ত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সামগ্রিক আয় (Y) এবং মোট সঞ্চয় (S)-এর সম্পর্ক দেওয়া হয়েছে:
- যখন Y = ৩০০ কোটি টাকা, তখন S = ৮০ কোটি টাকা।
- যখন Y = ৪০০ কোটি টাকা, তখন S = ১৩০ কোটি টাকা।
- যখন Y = ৬০০ কোটি টাকা, তখন S = ২৩০ কোটি টাকা।
সঞ্চয়রেখা অঙ্কন প্রক্রিয়া:
১. ভূমিক্ষে বা অনুভূমিক অক্ষে সামগ্রিক আয় (Y) এবং লম্ব অক্ষে মোট সঞ্চয় (S) নির্দেশ করা হয়।
২. চিত্রে Y = ৩০০ হলে সঞ্চয় S = ৮০ নির্দেশক বিন্দু 'a' চিহ্নিত করি।
৩. Y = ৪০০ হলে S = ১৩০ নির্দেশক বিন্দু 'b' চিহ্নিত করি।
৪. Y = ৬০০ হলে S = ২৩০ নির্দেশক বিন্দু 'c' চিহ্নিত করি।
৫. এখন a, b এবং c বিন্দুগুলো যোগ করলে ঊর্ধ্বগামী একটি সঞ্চয়রেখা (SS রেখা) পাওয়া যায়। এই রেখাটি নির্দেশ করে যে, জাতীয় আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে সঞ্চয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী সঞ্চয় (S) ও বিনিয়োগ (I) সমতার মাধ্যমে ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারিত হয়।
ম্যাক্রো অর্থনীতিতে ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণের অন্যতম শর্ত হলো মোট সঞ্চয় ও মোট পরিকল্পিত বিনিয়োগ পরস্পর সমান হবে, অর্থাৎ S = I হতে হবে।
উদ্দীপকের সারণি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়:
১. যখন সামগ্রিক আয় Y = ৩০০ কোটি টাকা, তখন সঞ্চয় S = ৮০ কোটি টাকা এবং বিনিয়োগ I = ১৩০ কোটি টাকা। এখানে S < I। অর্থাৎ বিনিয়োগ ব্যয়ের তুলনায় সঞ্চয় কম হওয়ায় অর্থনীতিতে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং উৎপাদনের প্রসার ঘটবে, ফলে আয় বৃদ্ধি পাবে।
২. যখন সামগ্রিক আয় Y = ৪০০ কোটি টাকা, তখন সঞ্চয় S = ১৩০ কোটি টাকা এবং বিনিয়োগ I = ১৩০ কোটি টাকা। এখানে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ পরস্পর সমান (S = I = ১৩০ কোটি টাকা)। সুতরাং ৪০০ কোটি টাকা হলো ভারসাম্য জাতীয় আয়।
৩. যখন সামগ্রিক আয় বৃদ্ধি পেয়ে Y = ৬০০ কোটি টাকা হয়, তখন সঞ্চয় S = ২৩০ কোটি টাকা এবং বিনিয়োগ I = ১৩০ কোটি টাকা। এখানে S > I হওয়ায় অর্থনীতিতে অবিক্রীত দ্রব্যের পরিমাণ বাড়বে, ফলে উৎপাদন ও আয় হ্রাস পেয়ে পুনরায় ভারসাম্যের দিকে ফিরে আসবে।অতএব, উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী সঞ্চয় ও বিনিয়োগ উভয়ই ১৩০ কোটি টাকায় সমান হওয়ায় ভারসাম্য জাতীয় আয় হবে ৪০০ কোটি টাকা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও