বাংলা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের যেকোনো ১ টি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ
11.1.
বই পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।
11.2.
নিচের উদ্দীপক অনুসারে একটি খুদেগল্প লেখো:সংসারের চাকা সচল রাখতে রোমানা অন্যের বাসায় ঝি-এর কাজ বেছে নেয়, তার একমাত্র মেধাবী কন্যার স্বপ্ন পূরণের.....
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১১.১. বই পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ:
স্থান: বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ
চরিত্র: অনিক ও রাহাত
অনিক: শুভ সকাল, রাহাত! কী ব্যাপার, হাতে ওটা কিসের বই?
রাহাত: শুভ সকাল! এটা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী'। অবসর পেলেই একটু পড়ছি।
অনিক: বাহ্! কিন্তু আমাদের তো পাঠ্যবই পড়ারই সময় হয় না, তার ওপর আবার বাইরের বই পড়ার সময় পাও কীভাবে?
রাহাত: অনিক, পাঠ্যবই আমাদের পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান দেয় ঠিকই, কিন্তু চিন্তাশক্তিকে প্রসারিত করতে বই পড়ার বিকল্প নেই। প্রমথ চৌধুরী যথার্থই বলেছেন, 'বই পড়ার অভ্যাসটা আমাদের বজায় রাখা উচিত।'
অনিক: তা ঠিক, কিন্তু আজকের ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেটে তো সবকিছুই পাওয়া যায়, তবে আলাদা করে বই পড়ার কী দরকার?
রাহাত: ইন্টারনেটে তথ্য পাওয়া যায় সত্য, কিন্তু বই পাঠের গভীরতা ও ধৈর্য সেখানে মেলে না। একটি ভালো বই পড়ার মাধ্যমে আমরা দেশ-বিদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মানুষের অন্তর্জগতের সাথে পরিচিত হতে পারি। তা ছাড়া বই মানুষের কল্পনাশক্তি বাড়ায় ও নৈতিক চরিত্র গঠনে সহায়তা করে।
অনিক: একদম বাস্তব কথা বলেছ। বই পড়লে মানুষের একাকীত্ব দূর হয় এবং মনের পরিধি বিস্তৃত হয়।
রাহাত: ঠিক তাই। তাছাড়া বই পড়ার অভ্যাস আমাদের ভাষাজ্ঞান ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে, যা বাস্তব জীবনে খুবই কাজে লাগে।
অনিক: ধন্যবাদ রাহাত! আজ থেকেই আমিও নিয়মিত সাহিত্য ও জ্ঞানমূলক বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলব।
রাহাত: তোমাকে স্বাগতম, অনিক! তুমি চাইলে আমার কাছ থেকেও বই ধার নিতে পারো।
১১.২. খুদেগল্প:
স্বপ্নের সিঁড়ি
সংসারের চাকা সচল রাখতে রোমানা অন্যের বাসায় ঝি-এর কাজ বেছে নেয়, তার একমাত্র মেধাবী কন্যার স্বপ্ন পূরণের জন্য। বছর পাঁচেক আগে স্বামী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার পর রোমানার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু চারপাশের অন্ধকারের মাঝেও সে লক্ষ্য হারায়নি; কারণ তার কোলজুড়ে ছিল তার একমাত্র সন্তান—মেয়ে ফারিহা।
ফারিহা ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ায় অত্যন্ত মনোযোগী। ক্লাসে সবসময় প্রথম হতো। দারিদ্র্যের কশাঘাতে যখন ঘরে একবেলা অন্ন জোটা কঠিন হয়ে পড়ত, তখনো ফারিহা টিমটিমে কুপি জ্বালিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত পড়ত। রোমানা সকালে উঠে বিভিন্ন বাড়ি গিয়ে বাসন মাজা, কাপড় ধোয়ার হাড়ভাঙা খাটুনি করত। হাত ফেটে রক্ত বের হলেও মুখে কোনো অভিযোগ ছিল না। তার একমাত্র স্বপ্ন ছিল মেয়েকে শিক্ষিত করে সমাজের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানো।
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্যের পর ফারিহা সুযোগ পেয়ে যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে। মেডিকেল শিক্ষার পড়াশোনা অনেক ব্যয়বহুল। রোমানা নিজের সামান্য সম্বল যা ছিল, তা বিক্রি করে এবং দিনরাত অতিরিক্ত কাজ করে মেয়ের পড়ালেখার খরচ জোগাতে থাকে। মায়ের এই আত্মত্যাগ ফারিহাকে প্রতি মুহূর্তে শক্তি জোগাত।
আজ মেডিকেলের সমাবর্তন অনুষ্ঠান। মিলনায়তন জুড়ে হাততালির গর্জন। ফারিহা গোল্ড মেডেল পেয়েছে। স্টেজে উঠে মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে সে অশ্রুসজল চোখে বলল, “আজ আমি একজন ডাক্তার হতে পেরেছি শুধু একজন মহীয়সী নারীর জন্য—তিনি আমার মা। তিনি অন্যের বাসায় কাজ করে আমাকে জ্ঞানের আলোয় পৌঁছে দিয়েছেন।” দর্শকসারির পেছনের সারিতে দাঁড়িয়ে রোমানা আঁচল দিয়ে চোখ মুছল। আজ তার দীর্ঘ বছরের ঘাম আর কষ্টের প্রতিটি ফোঁটা এক অনাবিল তৃপ্তির হাসিতে রূপ নিয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও