বাংলা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
7.1.
"উচ্চশিক্ষা স্তরে 'বিষয়' নির্বাচনের গুরুত্ব" প্রসঙ্গে দুই বন্ধুর সংলাপ রচনা করো।
7.2.
উপযুক্ত শিরোনামসহ নিচের সংকেত অনুসরণে একটি খুদেগল্প লেখো:
চার ভাই-বোনের মধ্যে রাজু সবার বড়ো। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিলো। পিতার আকস্মিক মৃত্যুতে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। একদিকে নিজের উচ্চশিক্ষা, অন্যদিকে...
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
৭.১. "উচ্চশিক্ষা স্তরে 'বিষয়' নির্বাচনের গুরুত্ব" প্রসঙ্গে দুই বন্ধুর সংলাপ:
স্থান: কলেজের লাইব্রেরি কক্ষের সামনে।
চরিত্র: অনিক ও রাহাত।
অনিক: কেমন আছিস রাহাত? এইচএসসি পরীক্ষা তো শেষ হলো, এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছিস?
রাহাত: ভালো আছি অনিক। সত্যি বলতে, উচ্চশিক্ষার জন্য কোন বিষয় নিয়ে পড়ব, তা নিয়ে বেশ চিন্তায় আছি।
অনিক: চিন্তা হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ উচ্চশিক্ষার স্তর হলো জীবনের গতিপথ নির্ধারণের প্রধান ধাপ। এখানে সঠিক বিষয় নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাহাত: তুই ঠিকই বলেছিস। অনেকে শুধু ট্রেন্ড বা অন্যদের দেখাদেখি বিষয় বাছাই করে, পরে মাঝপথে গিয়ে হতাশায় ভোগে।
অনিক: একদম তাই। বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের আগ্রহ ও মেধার বিষয়টি সবার আগে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। যে বিষয়ে পড়তে আনন্দ পাওয়া যায়, সেখানেই ভালো ফল করা সম্ভব।
রাহাত: আবার বর্তমান ও ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান বা চাহিদার বিষয়টিও মাথায় রাখা দরকার। মেধা, আগ্রহ এবং ক্যারিয়ারের সম্ভাবনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি।
অনিক: যথার্থ বলেছিস। অভিভাবক বা শিক্ষকদের সুপরামর্শ নিয়ে নিজের শক্তির ক্ষেত্রটি চিহ্নিত করাই এখন আমাদের মূল কাজ।
রাহাত: পরামর্শটির জন্য অনেক ধন্যবাদ বন্ধু। আমি আমার প্রিয় বিষয়গুলোর তালিকা করে ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নেব।
অনিক: তোকে স্বাগতম। শুভকামনা রইল তোর জন্য।
৭.২. খুদেগল্প:
আলোর দিশারি
চার ভাই-বোনের মধ্যে রাজু সবার বড়ো। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিলো। পড়াশোনায় ভালো হওয়ায় শিক্ষক ও পরিবার সবারই রাজুকে নিয়ে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন ছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে পিতার আকস্মিক মৃত্যুতে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে তারা অথই সাগরে পড়ল। একদিকে নিজের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন, অন্যদিকে মা ও ছোট তিন ভাই-বোনের বেঁচে থাকার লড়াই।
রাজু ভেঙে পড়েনি। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে সে সকালে টিউশনি এবং বিকেলে একটি স্থানীয় দোকানে হিসাবরক্ষকের কাজ শুরু করল। এর পাশাপাশি গভীর রাতে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে লাগল। একবেলা না খেয়ে অন্য বেলার আহার জোগাড় করার মতো কঠিন দিনও তাদের গেছে। তবুও ছোট ভাই-বোনদের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেয়নি রাজু।
কঠোর অধ্যবসায় ও আত্মত্যাগের ফলে রাজু সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়। রাজুর এই অবিচল সংগ্রাম শুধু নিজের স্বপ্নকেই বাঁচিয়ে তোলেনি, বরং পুরো পরিবারকে এক নতুন আত্মমর্যাদার সন্ধান দিয়েছে। প্রমাণ হয়েছে—ধৈর্য ও অদম্য ইচ্ছা থাকলে অন্ধকারের বুক চিরে আলো ফুটবেই।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও