যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: রাশেদের মা বলল, 'তুমি পড়ার টেবিলের প্রথম তাকে পাঠ্যবই, দ্বিতীয় তাকে গল্পের বই, তৃতীয় তাকে খাতা-কলম সাজিয়ে রাখবে।'দৃশ্যকল্প-২: শফিক বললো, 'প্রাণিজগৎ, উদ্ভিদজগৎ ও অন্যান্য বস্তুরাজিকে প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে বিন্যস্ত করে রেখেছে।'
- ক)(1)
শ্রেণিকরণ কী?
- খ)(2)
ক্রমিক শ্রেণিকরণ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ কোন শ্রেণিকরণকে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প-২ এর দ্বারা নির্দেশিত শ্রেণিকরণের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে বস্তু বা ঘটনাসমূহকে তাদের মধ্যকার সাদৃশ্যের ভিত্তিতে একত্রিত করা এবং বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে পৃথক করার মানসিক প্রক্রিয়াকে শ্রেণিকরণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শ্রেণিকরণে কোনো বিশেষ নীতি বা মাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে বস্তুসমূহকে ক্রমানুসারে সাজানো হয়, তাকে ক্রমিক শ্রেণিকরণ বলে।
এ প্রক্রিয়ায় বস্তুগুলোকে তাদের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের পরিমাণগত তারতম্য অনুযায়ী উচ্চ থেকে নিম্ন অথবা নিম্ন থেকে উচ্চ স্তরে বা পর্যায়ক্রমে বিন্যস্ত করা হয়। যেমন- উদ্ভিদের গঠন জটিলতার মাত্রা অনুযায়ী সরল থেকে জটিল পর্যায়ে সাজানো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ কৃত্রিম শ্রেণিকরণকে নির্দেশ করছে।
মানুষ যখন তার কোনো বিশেষ ব্যবহারিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সাধনের জন্য বাহ্যিক বা অগভীর কোনো সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বস্তুসমূহকে শ্রেণিবদ্ধ করে, তখন তাকে কৃত্রিম শ্রেণিকরণ বলে। কৃত্রিম শ্রেণিকরণে বস্তুর মৌলিক বা অন্তর্নিহিত প্রকৃতির চেয়ে ব্যবহারিক সুবিধাই মুখ্য বিবেচিত হয়।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ দেখা যায়, রাশেদের মা পড়ার টেবিলে বই ও অন্যান্য উপকরণ সহজে খুঁজে পাওয়ার সুবিধার্থে প্রথম তাকে পাঠ্যবই, দ্বিতীয় তাকে গল্পের বই এবং তৃতীয় তাকে খাতা-কলম সাজিয়ে রাখতে বলেছে। এটি একান্তই একটি বাহ্যিক ও ব্যক্তিগত সুবিধাজনক ব্যবস্থাপনামূলক বিন্যাস। এতে কোনো প্রাকৃতিক বা মৌলিক নিয়মের প্রতিফলন নেই। সুতরাং, এটি কৃত্রিম শ্রেণিকরণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ কৃত্রিম শ্রেণিকরণ এবং দৃশ্যকল্প-২ এ প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ নির্দেশিত হয়েছে। নিচে এদের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. উদ্দেশ্যের দিক থেকে পার্থক্য: কৃত্রিম শ্রেণিকরণ মানুষের কোনো বিশেষ বা ব্যবহারিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য করা হয় (যেমন—রাশেদের পড়ার টেবিল সাজানো)। অন্যদিকে, প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃতির অন্তর্নিহিত নিয়ম ও বস্তুর যথার্থ স্বরূপ অনুধাবন করা (যেমন—প্রকৃতির নিয়মে প্রাণিজগৎ ও উদ্ভিদজগতের বিন্যাস)।
২. লক্ষণের গুরুত্ব: কৃত্রিম শ্রেণিকরণে কোনো অগুরুত্বপূর্ণ, পরিবর্তনশীল বা বাহ্যিক লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। কিন্তু প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণে বস্তুর মৌলিক, অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করা হয়।
৩. স্থায়িত্ব ও সার্বজনীনতা: কৃত্রিম শ্রেণিকরণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং এটি সাময়িক বা পরিবর্তনশীল। পক্ষান্তরে, প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ সার্বজনীন, সুনির্দিষ্ট এবং প্রকৃতির নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এটি অত্যন্ত স্থায়ী ও সুসংবদ্ধ।
৪. বৈজ্ঞানিক মূল্য: কৃত্রিম শ্রেণিকরণের বৈজ্ঞানিক মূল্য কম, কারণ এটি কেবল দৈনন্দিন কার্যোদ্ধারে সাহায্য করে। অপরপক্ষে, প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে জড়িত এবং এর বৈজ্ঞানিক মূল্য অপরিসীম।
সুতরাং দেখা যায়, দৃশ্যকল্প-১ এর কৃত্রিম শ্রেণিকরণ কেবল মানুষের তৈরি ব্যবহারিক সুবিধার জন্য প্রযোজ্য, কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ এর প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ প্রকৃতির স্বতঃস্ফূর্ত ও বস্তুনিষ্ঠ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও