উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশে 4G মোবাইলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় মিলন রাজশাহীর নিউমার্কেটে ৩৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে 'রংধনু টেলিকম' নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ১২০ জন মোবাইল বিশেষজ্ঞ ও বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দিয়ে তিনি এ কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তীতে আরও ১৫০ জন বিশেষজ্ঞ কর্মী নিয়োগ দেন। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের সফলতা দিন দিন বাড়ছে ।
- ক)(1)
মিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্ৰা কী?
- খ)(2)
কেন মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান ভিন্ন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'রংধনু টেলিকম' প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান? ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে 'রংধনু টেলিকম' কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারে বলে তুমি মনে করো? মতামত দাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনের যে নির্দিষ্ট স্তরে বা মাত্রায় পণ্য প্রতি গড় উৎপাদন ব্যয় সর্বনিম্ন হয়, তাকে মিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূলধনের পরিমাণ ও নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যার পার্থক্যের কারণেই মূলত ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান ভিন্ন হয়।
জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, উৎপাদনমুখী বা সেবামুখী উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষুদ্র শিল্পের তুলনায় মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগকৃত স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ এবং কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা অনেক বেশি থাকে। মাঝারি শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা, কার্যপরিধি ও ঝুঁকি ক্ষুদ্র শিল্পের চেয়ে তুলনামূলকভাবে অনেক বড় ও বিস্তৃত। এ কারণে ক্ষুদ্র শিল্প ও মাঝারি শিল্প একে অপরের থেকে ভিন্ন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'রংধনু টেলিকম' প্রতিষ্ঠানটি সেবা খাতের আওতায় একটি 'বৃহৎ শিল্প' প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশের জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, সেবা শিল্পে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৩০ কোটি টাকার অধিক কিংবা কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ১২০ জনের অধিক হয়, সেগুলোকে বৃহৎ শিল্প হিসেবে গণ্য করা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মিলন রাজশাহীর নিউমার্কেটে ৩৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে 'রংধনু টেলিকম' প্রতিষ্ঠা করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে সেখানে ১২০ জন বিশেষজ্ঞ ও বিক্রয়কর্মী নিয়োজিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে আরও ১৫০ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয় (মোট ২৭০ জন)। বিনিয়োগের পরিমাণ ৩০ কোটি টাকার বেশি এবং মোট জনবল ১২০ জনের অধিক হওয়ায় এটি নিশ্চিতভাবেই সেবা খাতের একটি বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে 'রংধনু টেলিকম' কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বৃহৎ আকারের সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। বিশেষ করে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ডিজিটাল রূপান্তর, কর্মসংস্থান ও জাতীয় উৎপাদনে সরাসরি অবদান রাখে।
উদ্দীপকের আলোকে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা নিম্নরূপ বিশ্লেষণ করা যায়:
১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: রংধনু টেলিকমে ইতিমধ্যে ২৭০ জন দক্ষ কর্মী (১২০ + ১৫০ জন) কাজ করছেন। এর ফলে দেশের বেকারত্ব হ্রাস এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
২. প্রযুক্তির প্রসার ও আধুনিকায়ন: ৪জি প্রযুক্তির সেবা ও পণ্য সহজলভ্য করার মাধ্যমে এটি জনগণের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করছে, যা সার্বিক ব্যবসায়-বাণিজ্য পরিচালনায় গতি আনবে।
৩. রাজস্ব আয় বৃদ্ধি: ৩৮ কোটি টাকা মূলধনের এমন একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠান সরকারকে বিপুল পরিমাণ কর (ট্যাক্স ও ভ্যাট) প্রদান করে জাতীয় রাজস্ব তহবিলে বড় অবদান রাখবে।অতএব, উপর্যুক্ত দিকগুলো বিবেচনা করে বলা যায়, রংধনু টেলিকম দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল ও সমৃদ্ধ করতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও