ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

মসজিদের ইমাম মাওলানা মানসুর মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে ইসলামের ভিত্তিসমূহ উল্লেখ করে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। একপর্যায় তিনি রাসুল (সা.)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “হারাম সম্পদে তৈরি মাংস (শরীর) বেহেশতে প্রবেশ করবে না এবং হারাম সম্পদে তৈরি প্রতি টুকরো মাংসের জন্য দোযখই যথোপযুক্ত আবাস।”

  1. ক)

    ايمان (ইমান) শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির নাম লেখ ।

    (2)
  3. গ)

    হালাল খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব বর্ণনা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত হাদিসের বাস্তব শিক্ষা মূল্যায়ন কর ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ঈমান' (إيمان) শব্দের আভিধানিক অর্থ বিশ্বাস করা, স্বীকৃতি দেওয়া, আস্থা স্থাপন করা বা মেনে নেওয়া।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইসলামের পাঁচটি ভিত্তি বা স্তম্ভ হলো:
    ১. কালিমা শাহাদাত বা তাওহিদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য দেওয়া ('লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ')
    ২. সালাত বা নামাজ কায়েম করা
    ৩. জাকাত আদায় করা
    ৪. সাওম বা রমজানের রোজা পালন করা
    ৫. সামর্থ্যবানদের জন্য হজ পালন করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইসলামে হালাল খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন, 'হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র বস্তু রয়েছে তা থেকে তোমরা ভক্ষণ করো।' (সুরা আল-বাকারা: ১৬৮)।

    হালাল উপার্জনের মাধ্যমে সংগৃহীত হালাল খাদ্য মানুষের দেহ ও মনকে পবিত্র রাখে এবং নেক আমলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে। পক্ষান্তরে, হারাম খাদ্য খেলে কোনো ইবাদত বা দোয়া কবুল হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একজন ব্যক্তি দীর্ঘ সফর করে উষ্কখুষ্ক চুলে আল্লাহর কাছে হাত তুলে প্রার্থনা করে, কিন্তু তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম এবং তার শরীর পুষ্ট হয়েছে হারামে—তাহলে কীভাবে তার দোয়া কবুল হতে পারে? তাই সার্বিক ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হিসেবে হালাল খাদ্য গ্রহণ অত্যন্ত আবশ্যক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট করেছেন যে, হারাম সম্পদে গঠিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না এবং জাহান্নামই হবে তার চূড়ান্ত পরিণতি।

    বর্তমান বাস্তব সমাজে সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, আত্মসাৎ, প্রতারণা ও অন্যায় উপার্জনের ব্যাপক বিস্তার লক্ষ্য করা যায়। মানুষ অনেক সময় পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য হালাল-হারামের তোয়াক্কা করে না। উদ্দীপকের হাদিসটির বাস্তব শিক্ষা হলো—হারাম উপার্জন মানুষের আধ্যাত্মিক জীবনকে ধ্বংস করে দেয় এবং আখিরাতে তাকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করে। হারাম সম্পদ দিয়ে দান-সদকা বা নেক কাজ করলেও তা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না।

    অতএব, একজন মুসলিমের জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে হালাল উপার্জনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং হারাম খাদ্য ও সম্পদ পরিহার করতে হবে। এই নীতি সমাজ থেকে দুর্নীতি, অবিচার ও শোষণ দূর করে সততা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন