কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • বিশেষ উৎপাদন সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

আবু নাসের একজন গরিব কৃষক। তার জমিতে ভালো ফসল হয় না। অন্যদিকে তার পাশের জমির মালিক করিম মিয়ার ফসলের উৎপাদন ভালো হয়। আবু নাসের করিম মিয়ার কাছে তার ভালো ফসল উৎপাদনের কারণ জানতে চাইলেন। তিনি তাঁকে অণুজীব সার ব্যবহারের পরামর্শ দেন যা মসুর, খেসারী, মুগ, ছোলা প্রভৃতি ডাল ফসলের শিকড়ের গুটি থেকে তৈরি করা যায়।

  1. ক)

    বায়োফানজিসাইড কী?

    (1)
  2. খ)

    অণুজীব সার পরিবেশবান্ধব কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সারটি কীভাবে তৈরি করবে?

    (3)
  4. ঘ)

    বেলে মাটিকে দোআঁশ মাটিতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে উল্লিখিত। সারটি ভূমিকা রাখতে পারবে কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে। মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফসলের ক্ষতিকর ছত্রাকজনিত রোগ দমনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত উপকারী অণুজীব বা জৈব উপাদানভিত্তিক ছত্রাকনাশককে বায়োফানজিসাইড (Bio-fungicide) বা জৈব ছত্রাকনাশক বলে (যেমন- ট্রাইকোডার্মা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অণুজীব সার হলো জীবিত বা সুপ্ত অবস্থায় থাকা উপকারী অণুজীবযুক্ত সার, যা প্রাকৃতিকভাবে মাটির পুষ্টি উপাদান বাড়ায়। এটি রাসায়নিক সারের মতো মাটিতে কোনো ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ বা বিষাক্ত প্রভাব ফেলে না। অণুজীব সার ব্যবহারে মাটির অম্লত্ব বা ক্ষারত্ব নষ্ট হয় না, উপকারী অণুজীবের ক্ষতি হয় না এবং ভূগর্ভস্থ পানি বা পরিবেশের কোনো দূষণ ঘটে না। মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতা বৃদ্ধি ও বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষায় সহায়ক হওয়ায় অণুজীব সার পরিবেশবান্ধব।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সারটি হলো 'রাইজোবিয়াম অণুজীব সার'। এটি তৈরির ধাপগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
    ১. নডিউল বা গুটি সংগ্রহ: সুস্থ-সবল ও পরিপুষ্ট ডাল জাতীয় ফসল (যেমন: মসুর, খেসারী, ছোলা ইত্যাদি) থেকে ফুল আসার সময় শিকড়সহ তুলে শিকড়ের নডিউল বা গুটি সংগ্রহ করা হয়।
    ২. অণুজীব পৃথকীকরণ ও কালচার: গবেষণাগারে সংগৃহীত নডিউল জীবাণুমুক্ত করে সেখান থেকে রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া পৃথক করে কৃত্রিম পুষ্টি মাধ্যমে (যেমন- ইস্ট এক্সট্র্যাক্ট ম্যানিটল ব্রথ) উপযোগী তাপমাত্রা ও পরিবেশে কালচার করে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়।
    ৩. বাহক বা ক্যারিয়ার প্রস্তুতি: জীবাণুমুক্ত পিটমাটি বা কয়লার গুঁড়া বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
    ৪. মিশ্রণ ও সংরক্ষণ: ব্রথ বা কালচার করা ব্যাকটেরিয়ার দ্রবণ নির্দিষ্ট অনুপাতে জীবাণুমুক্ত পিটমাটির সাথে ভালোভাবে মেশানো হয়। এরপর পলিথিন প্যাকেটে ভরে আর্দ্র ও শীতল স্থানে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়। এভাবেই জমিতে বা বীজে ব্যবহারের উপযোগী অণুজীব সার প্রস্তুত করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, বেলে মাটিকে দোআঁশ মাটিতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে অণুজীব সার এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ডাল ফসলের চাষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

    বেলে মাটিতে বালির কণার পরিমাণ বেশি থাকে (৭০% বা তার বেশি), যার ফলে মাটির পানি ও পুষ্টি উপাদান ধারণক্ষমতা খুবই কম থাকে। অন্যদিকে দোআঁশ মাটিতে বালি, পলি ও কাদার সুষম সমন্বয় থাকে এবং মাটির গঠন উন্নত হয়।

    ১. জৈব পদার্থ বৃদ্ধি: উদ্দীপকে উল্লিখিত অণুজীব সার ব্যবহারের মাধ্যমে জমিতে ডাল ফসল চাষ করলে প্রচুর শিকড়, পাতা এবং অণুজীবীয় অবশিষ্টাংশ মাটিতে যোগ হয়। পরবর্তীতে ফসল তোলার পর অবশিষ্টাংশ পচে মাটিতে হিউমাস বা জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়ে।
    ২. মাটির কণার সংযুক্তি (Aggregation): রাইজোবিয়াম ও অন্যান্য উপকারী অণুজীব মাটির কণাগুলোকে একত্রে আটকে রাখতে সাহায্য করে এমন আঠালো পদার্থ (পলিস্যাকারাইড) ক্ষরণ করে। ফলে বেলে মাটির শিথিল ও বিচ্ছিন্ন কণাগুলো একত্রিত হয়ে দানাদার দোআঁশ মাটির মতো গঠন লাভ করে।
    ৩. নাইট্রোজেন সংবন্ধন: রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বায়ুমণ্ডলের মুক্ত নাইট্রোজেন মাটিতে সংবন্ধন করে মাটির জৈব উর্বরতা বহুগুণ বৃদ্ধি করে।
    ৪. পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি: নিয়মিত ডাল জাতীয় ফসল ও অণুজীব সার ব্যবহারের ফলে মাটিতে জৈব পদার্থ বৃদ্ধি পেয়ে বেলে মাটির পানি ও খাদ্যোপাদান ধরে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা দোআঁশ মাটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

    সুতরাং, দীর্ঘমেয়াদে অণুজীব সার ব্যবহার ও ডাল ফসলের অবশিষ্টাংশ মাটিতে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বেলে মাটির ভৌত ও রাসায়নিক গুণাগুণ উন্নত হয়ে তা দোআঁশ মাটির গুণাবলি অর্জন করতে সক্ষম হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন