ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব রায়হান তাঁর পাওনাদার জন্নাব রিপনকে ০৪.০১.২০২৩ ইং তারিখে একটি চেক ইস্যু করেন। তিনি উক্ত চেকের বাম পাশে দুটি সমান্তরাল রেখা টেনে দেন। জনাব রিপনকে চিকিৎসার জন্য কয়েক মাস পর বিদেশে যেতে হয়। তাই তিনি জনাব রায়হানের নিকট থেকে প্রাপ্ত চেকের টাকা উত্তোলনের জন্য ১০.০৭.২০২৩ ইং তারিখে ব্যাংকে উপস্থাপন করেন। কিন্তু ব্যাংক চেকটি প্রত্যাখ্যান করে।

  1. ক)

    MICR-এর পূর্ণরূপ লেখো।

    (1)
  2. খ)

    চেকের অনুমোদন প্রয়োজন হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত চেকটি কোন ধরনের চেক? চিত্র দিয়ে উপস্থাপন করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত চেকটি প্রত্যাখান করা কি যৌক্তিক বলে মনে হয়? তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    MICR-এর পূর্ণরূপ হলো Magnetic Ink Character Recognition (ম্যাগনেটিক ইংক ক্যারেক্টার রিকগনিশন)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চেকের মালিকানা বা এতে উল্লিখিত অর্থ পাওয়ার অধিকার অন্য কোনো ব্যক্তির অনুকূলে আইনগতভাবে হস্তান্তর করার জন্য চেকের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। আদেশানুসারে দেয় (Order Check) চেকের ক্ষেত্রে প্রাপক বা ধারক নিজে অর্থ গ্রহণ না করে তা অন্য কাউকে দিতে চাইলে চেকের পেছনে স্বাক্ষর করে হস্তান্তর করেন। এর ফলে চেকটির আইনগত স্বত্ব নতুন ধারকের নিকট বর্তায় এবং তিনি ব্যাংকের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের বৈধ অধিকার লাভ করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত চেকটি একটি ‘রেখাঙ্কিত চেক’ (Crossed Cheque)।

    যে চেকের বাম কোণে দুটি আড়াআড়ি সমান্তরাল সরলরেখা টেনে দেওয়া হয় এবং যার অর্থ ব্যাংক কাউন্টার থেকে সরাসরি নগদে না দিয়ে প্রাপকের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হয়, তাকে রেখাঙ্কিত চেক বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রায়হান তাঁর পাওনাদার জনাব রিপনকে চেক দেওয়ার সময় এর বাম পাশে দুটি সমান্তরাল রেখা টেনে দেন। রেখাঙ্কিত চেকের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো এর উপরিভাগের বাম কোণে দুটি আড়াআড়ি সমান্তরাল রেখা অঙ্কন করা। ফলে এটি সাধারণ বা খোলা চেক না হয়ে রেখাঙ্কিত চেকে রূপান্তরিত হয়।

    চিত্রসহ উপস্থাপন:
    +-------------------------------------------------------------+
    | // তারিখ: ০৪.০১.২০২৩ |
    | // |
    | প্রাপক: জনাব রিপন বা বাহককে |
    | টাকার পরিমাণ (কথায়): ........................ |
    | টাকা (অংকে): [ ] |
    | |
    | হিসাব নং: ................... স্বাক্ষর: রায়হান |
    +-------------------------------------------------------------+
    (উপরের চিত্রে বাম কোণে অঙ্কিত দুটি সমান্তরাল রেখা (//) দ্বারা সাধারণ রেখাঙ্কন প্রদর্শন করা হয়েছে।)

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত চেকটি প্রত্যাখ্যান করা ব্যাংকের জন্য সম্পূর্ণ যৌক্তিক হয়েছে।

    ব্যাংকিং আইন ও রীতি অনুযায়ী, কোনো চেকের ওপর উল্লিখিত তারিখের পরবর্তী ৬ মাস (বা ১৮০ দিন) পর্যন্ত চেকটি বৈধ থাকে। ইস্যুর তারিখ থেকে ৬ মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেই চেকটির কার্যকারিতা নষ্ট হয় এবং তা ‘বাসি চেক’ বা ‘মেয়াদোত্তীর্ণ চেক’ (Stale Cheque) হিসেবে গণ্য হয়। ব্যাংক কোনো বাসি বা মেয়াদোত্তীর্ণ চেকের অর্থ পরিশোধ করতে পারে না এবং এরূপ চেক উপস্থাপন করা হলে তা প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য থাকে।

    উদ্দীপকে জনাব রায়হান তাঁর পাওনাদার জনাব রিপনকে ০৪.০১.২০২৩ তারিখে একটি চেক প্রদান করেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে থাকায় জনাব রিপন চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপন করেন ১০.০৭.২০২৩ তারিখে। এখানে চেকের তারিখ (০৪.০১.২০২৩) থেকে উপস্থাপনের তারিখ (১০.০৭.২০২৩) পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান দাঁড়ায় ৬ মাসেরও বেশি (৬ মাস ৬ দিন)। ফলে চেকটি বাসি চেকে পরিণত হয়েছে।

    সুতরাং, চেকটির আইনগত মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং নিয়মানুযায়ী ব্যাংক চেকটির অর্থ পরিশোধ না করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই ব্যাংকের এ পদক্ষেপ যথার্থ ও যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন