অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

স্বপন মিয়া একজন দরিদ্র কৃষক। প্রাতিষ্ঠানিক ঋণগ্রহণের জটিলতার কারণে আত্মীয় স্বজন, গ্রাম্য মহাজন ও বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে যে ঋণ গ্রহণ করেছেন তা চাষাবাদের প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প। সম্প্রতি সরকার কৃষকদের সহায়তা করার জন্য ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে অল্পমূল্যে রাসায়নিক সার, বীজ, কীটনাশক ইত্যাদি উপকরণ পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে স্বপন মিয়ার মতো কৃষকদের চাষাবাদের প্রতি দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে।

  1. ক)

    পানি সেচ কী?

    (1)
  2. খ)

    ‘কৃষি জাতীয় উন্নয়নে সহায়ক’— ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত যে উৎস হতে স্বপন মিয়া ঋণ গ্রহণ করছেন তা বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফসলের জমিতে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও অধিক ফলনের জন্য কৃত্রিম উপায়ে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করাকে পানি সেচ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে কৃষির অবদান অনস্বীকার্য। কৃষির উন্নয়ন ঘটলে জনগণের আয় বাড়ে, দারিদ্র্য হ্রাস পায় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। তাই বলা হয় ‘কৃষি জাতীয় উন্নয়নে সহায়ক’—কারণ কৃষির উন্নতি ছাড়া জাতীয় অর্থনীতির সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত স্বপন মিয়া যে উৎসগুলো হতে ঋণ গ্রহণ করেছেন, সেগুলো হলো কৃষি ঋণের ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস’ (আত্মীয়-স্বজন, গ্রাম্য মহাজন ও বন্ধু-বান্ধব)।

    অপ্রাতিষ্ঠানিক কৃষি ঋণ ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতি নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. উচ্চ সুদের হার: বিশেষ করে গ্রাম্য মহাজনদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার অত্যন্ত চড়া ও শোষণমূলক হয়, যার ফলে কৃষক ঋণের জালে আটকে পড়ে।
    ২. জামানতহীন বা সহজলভ্য ঋণ: প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের মতো জটিল কাগজপত্র ও জামানতের প্রয়োজন না থাকায় কৃষকরা জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত এই উৎস থেকে ঋণ পায়।
    ৩. পরিমাণের অপ্রতুলতা: এই উৎস থেকে প্রাপ্ত ঋণের পরিমাণ সাধারণত কৃষকের প্রয়োজনীয় চাষাবাদের তুলনায় খুবই স্বল্প ও অপর্যাপ্ত হয়, যা উদ্দীপকেও উল্লেখ রয়েছে।
    ৪. কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকা: ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে বা অলিখিত শর্তে এই ঋণ দেওয়া হয়, ফলে আইনি সুরক্ষার অভাব থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও কার্যকর।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকার কৃষকদের কৃষি উপকরণে ভর্তুকি দিয়ে স্বল্পমূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক ইত্যাদি পৌঁছে দিচ্ছে, যার ফলে স্বপন মিয়ার মতো দরিদ্র কৃষকদের চাষাবাদের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা নিচে মূল্যায়ন করা হলো:

    ১. কৃষি উপকরণে ভর্তুকি প্রদান: সার, ডিজেল, বিদ্যুৎ ও উন্নত বীজে নিয়মিত ভর্তুকি দিয়ে সরকার কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করেছে, যা খাদ্যশস্য উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সহায়তা করেছে।
    ২. কৃষি ঋণের সহজলভ্যতা: প্রাতিষ্ঠানিক কৃষি ঋণ বিতরণ সহজীকরণ (যেমন ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ) করে সরকার অপ্রাতিষ্ঠানিক মহাজনি ঋণের হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করার উদ্যোগ নিচ্ছে।
    ৩. সেচ ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার: আধুনিক সেচযন্ত্র ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণে প্রণোদনা দিয়ে সরকার কৃষিকে সনাতন থেকে আধুনিক বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর করছে।
    ৪. ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ: সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও গম ক্রয়ের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হচ্ছে।

    পরিশেষে বলা যায়, সরকারের সময়োপযোগী কৃষি নীতি, ভর্তুকি সহায়তা ও গবেষণার প্রসারের ফলেই প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝেও বাংলাদেশের কৃষি খাতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন