সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
কলেজ শিক্ষক তারেক সাহেব বলেন, বর্তমান যুগে কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ইমেইল ব্যবহার করে ঘরে বসে যে কোন দেশের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। তথ্যের আদান প্রদান করা যায়। কিন্তু আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা মোবাইল ও কম্পিউটার ব্যবহার করে গান, নাটক, সিনেমা দেখে। যার কারণে সমাজে ইভটিজিং বেড়ে গেছে। তিনি বলেন আমাদের মানসিকতা, ধ্যান-ধারনা ও জ্ঞানের অপ্রতুলতাই এর জন্য দায়ী।
- ক)(1)
লোকাচার কি?
- খ)(2)
সামাজিক বিবর্তন বলতে কী বোঝো?
- গ)(3)
উদ্দীপকে সামাজিক পরিবর্তনের কোন কারণটির কথা বলা হয়েছ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের তারেক সাহেবের উক্তির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লোকাচার (Folkways) হলো সমাজের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রচলিত অভ্যাস, রীতি ও প্রথাগত আচরণের সমষ্টি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক বিবর্তন বলতে সমাজের এমন একটি ধীর, স্বতঃস্ফূর্ত ও ধারাবাহিক রূপান্তর প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যার মাধ্যমে মানব সমাজ সরল পর্যায় থেকে ক্রমান্বয়ে জটিল ও উন্নততর পর্যায়ে রূপান্তরিত হয়। সমাজবিজ্ঞানী হার্বার্ট স্পেন্সার ডারউইনের জৈব বিবর্তন ধারণার আলোকে দেখিয়েছেন যে, সমাজও জীবদেহের মতো অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অবিরাম পরিবর্তিত হচ্ছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সামাজিক পরিবর্তনের 'প্রযুক্তিগত কারণ' বা প্রযুক্তির প্রভাবের কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আবিষ্কার ও ব্যবহার সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন মানুষের চিন্তা-ভাবনা, জীবনযাত্রা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এনে দেয়।
উদ্দীপকে তারেক সাহেব কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ইমেইল এবং মোবাইল ফোনের ব্যবহারের মাধ্যমে ঘরে বসে যে কোনো দেশের সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও তথ্য আদান-প্রদানের কথা তুলে ধরেছেন। প্রযুক্তির এই বিকাশ সমাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রূপান্তর সাধন করছে। সুতরাং উদ্দীপকে সামাজিক পরিবর্তনের প্রযুক্তিগত কারণটির প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে তারেক সাহেবের উক্তিটি সামাজিক পরিবর্তনের সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ যথার্থ।
সমাজবিজ্ঞানী উইলিয়াম এফ. অগবার্ন তাঁর 'সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্বে' (Cultural Lag Theory) দেখিয়েছেন যে, সংস্কৃতির দুটি রূপ রয়েছে—বস্তুগত (যেমন: কম্পিউটার, ইন্টারনেট, মোবাইল ইত্যাদি) এবং অবস্তুগত (যেমন: মানুষের ধ্যান-ধারণা, মানসিকতা, মূল্যবোধ, জ্ঞান ইত্যাদি)। তাঁর মতে, বস্তুগত সংস্কৃতি যে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যায়, অবস্তুগত সংস্কৃতি সেই গতিতে পরিবর্তিত হতে পারে না। ফলে দুইয়ের মধ্যে একটি ব্যবধান সৃষ্টি হয়, যা সমাজে নানাবিধ বিশৃঙ্খলা ও নৈতিক অবক্ষয়ের জন্ম দেয়।
উদ্দীপকে তারেক সাহেব যথার্থই উল্লেখ করেছেন যে, প্রযুক্তিগতভাবে আমরা অত্যন্ত আধুনিক উপকরণ (কম্পিউটার, ইন্টারনেট, স্মার্টফোন) অর্জন করেছি; কিন্তু সেগুলোর গঠনমূলক ব্যবহারের মানসিকতা ও প্রয়োজনীয় জ্ঞানের ঘাটতি আমাদের তরুণ সমাজের রয়েছে। এর ফলে মোবাইল-কম্পিউটার অপব্যবহার করে অপসংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়া এবং ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক বিচ্যুতির সৃষ্টি হচ্ছে। প্রযুক্তি নিজে কোনো সমস্যা নয়, বরং প্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহারের জন্য মানসিকতা ও মূল্যবোধের অভাবই এই সংকটের প্রধান কারণ।
অতএব, অগবার্নের সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্বের নিরিখে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে অবস্তুগত সংস্কৃতির সামঞ্জস্যহীনতা নির্দেশকারী তারেক সাহেবের বক্তব্যটি পুরোপুরি যৌক্তিক ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও