কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
কৃষিজীবী সিফাত মিয়া সকালবেলা গোয়ালঘর হতে গরু বাহিরে বের করতে গিয়ে দেখলেন যে, তার একটি গাভী স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছে না। তিনি ভালভাবে লক্ষ করলেন যে, গাভীটির পায়ের খুরার সংযোগস্থল ও মুখে ক্ষত দেখা দিয়েছে। তিনি দেরি না করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ নিলেন এবং তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী গাভীটির চিকিৎসা শুরু করলেন।
- ক)(1)
সাইলেজ কী?
- খ)(2)
ছাগলকে গরিবের গাভী বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের উল্লিখিত সিফাত মিয়ার গাভীটি যে রোগে আক্রান্ত হয়েছে তার কারণ ও লক্ষণসমূহ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
গাভীটির আক্রান্ত রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিকারে করণীয় সম্পর্কে তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সবুজ বা কাঁচা ঘাসকে ফুল আসার সময়ে কেটে নির্দিষ্ট আর্দ্রতায় বাতাসহীন অবস্থায় গাঁজন (ফার্মেন্টেশন) প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করাকে সাইলেজ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছাগল লালন-পালনে অত্যন্ত কম খরচ ও ছোট পরিসরে জায়গা লাগে এবং সাধারণ ঘাস-লতাপাতা খেয়েই এরা জীবনধারণ করতে পারে। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বল্প পুঁজিতে ছাগল পালন করে স্বল্প সময়ে দুধ ও মাংস উৎপাদনের মাধ্যমে সহজেই আর্থিক লাভবান হতে পারে। এ কারণে ছাগলকে 'গরিবের গাভী' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সিফাত মিয়ার গাভীটির হাঁটায় সমস্যা, খুরের সংযোগস্থল ও মুখে ক্ষত সৃষ্টির লক্ষণ দ্বারা বোঝা যায় গাভীটি 'খুরা রোগ' বা Foot and Mouth Disease (FMD)-এ আক্রান্ত হয়েছে।
কারণ: খুরা রোগ একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি পিকরনাভাইরাস (Picornavirus) গোত্রের একপ্রকার ভাইরাসের সংক্রমণে হয়ে থাকে। আক্রান্ত পশুর লালা, সর্দি, মলমূত্র, দুধ এবং দূষিত বাতাস ও পাত্রের মাধ্যমে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
লক্ষণসমূহ:
১. আক্রান্ত পশুর শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং তীব্র জ্বর আসে।
২. জিহ্বা, মাড়ি, ঠোঁটের ভেতরের অংশ এবং খুরের ফাঁকে ফোস্কা পড়ে এবং তা ফেটে ক্ষতের সৃষ্টি হয়।
৩. মুখ দিয়ে অনবরত ঘন লালা বা ফেনা ঝরে।
৪. খুরের সংযোগস্থলে ক্ষতের কারণে পশু খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটে বা শুয়ে থাকতে বাধ্য হয়।
৫. খাবার গ্রহণে অরুচি দেখা দেয় এবং দুধ উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খুরা রোগ অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় এর সময়োপযোগী প্রতিকার ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত আবশ্যক। নিচে এ সংক্রান্ত মতামত বিশ্লেষণ করা হলো:
প্রতিকারে করণীয়:
১. আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার ও চিকিৎসা: মুখ ও জিহ্বার ক্ষত পটাশ বা ফিটকিরি মিশ্রিত হালকা গরম পানি দিয়ে দিনে ২-৩ বার ধুয়ে দিতে হবে। খুরের ক্ষত তুঁতের দ্রবণ বা পটাশ পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।
২. সহজপাচ্য খাদ্য প্রদান: মুখে ক্ষতের কারণে পশু শক্ত ঘাস খেতে পারে না, তাই নরম ভাতের মাড়, জাও বা তরল খাদ্য দিতে হবে।
৩. সেকেন্ডারি ইনফেকশন রোধ: ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রোধে রেজিস্টার্ড পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ইনজেকশন ব্যবহার করতে হবে।প্রতিরোধে করণীয়:
১. পৃথকীকরণ: আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশুদের দল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে পরিষ্কার ও শুকনো জায়গায় রাখতে হবে।
২. টিকা প্রদান: খামারের সকল সুস্থ পশুকে নিয়মিত বিরতিতে খুরা রোগের প্রতিষেধক টিকা (FMD Vaccine) দিতে হবে।
৩. জৈব নিরাপত্তা: খামার ও গোয়ালঘর নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। মৃত পশুকে মাটিতে গভীরভাবে পুঁতে ফেলতে হবে।অতএব, সঠিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিয়মিত টিকাদান এবং আক্রান্ত পশুর দ্রুত পরিচর্যা ও চিকিৎসার মাধ্যমেই এ রোগের ক্ষতি থেকে খামার রক্ষা করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও