যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    যৌক্তিক বিভাগ কী?

    (1)
  2. খ)

    ক্ষুদ্রতম উপজাতিকে বিভক্ত করা যায়না কেন?

    (2)
  3. গ)

    ছক-১-এ যৌক্তিক বিভাগের কোন নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ছক-২ ও ছক-৩ এর মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি না? তা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো একটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে একটি উচ্চতর জাতিকে তার অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন উপজাতিতে মানসিক প্রক্রিয়ায় বিভক্ত করাকে যৌক্তিক বিভাগ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্ষুদ্রতম উপজাতিকে (Infima species) যৌক্তিক বিভাগে আর কোনো উপজাতিতে বিভক্ত করা যায় না। কারণ, ক্ষুদ্রতম উপজাতির নিচে আর কোনো উপজাতি থাকে না, কেবল একক ব্যক্তি বা বস্তু অবশিষ্ট থাকে। কিন্তু যৌক্তিক বিভাগ সবসময় কোনো শ্রেণি বা জাতিকে তার উপজাতিতে বিভক্ত করে, কোনো একক ব্যক্তি বা বস্তুতে নয়। কোনো উপজাতিকে ব্যক্তিবর্গে ভাগ করলে তা যৌক্তিক বিভাগ না হয়ে ব্যক্তিসূচক বা ব্যক্তিবাচক বিভাগ হয়ে যায়। তাই ক্ষুদ্রতম উপজাতিকে বিভক্ত করা যায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছক-১ এ যৌক্তিক বিভাগের দ্বিতীয় নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং এর ফলে ‘সংকর বিভাগ’ (Cross division) অনুপপত্তি ঘটেছে।

    যৌক্তিক বিভাগের দ্বিতীয় নিয়মটি হলো: “যৌক্তিক বিভাগের প্রক্রিয়ায় সবসময় একটিমাত্র মূলনীতি বা ভিত্তি গ্রহণ করতে হবে; একই সঙ্গে একাধিক মূলনীতি গ্রহণ করা চলবে না।” এ নিয়ম অমান্য করে একই সাথে একাধিক মূলনীতির ভিত্তিতে বিভাজন করলে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে।

    উদ্দীপকের ছক-১ এ ‘আলু’-কে ‘মিষ্টি আলু’, ‘গোল আলু’ ও ‘লাল আলু’ হিসেবে বিভক্ত করা হয়েছে। এখানে একই সময়ে একাধিক মূলসূত্র প্রয়োগ করা হয়েছে; যেমন—স্বাদ (মিষ্টি আলু), আকার (গোল আলু) এবং রং (লাল আলু)। একটিমাত্র মূলনীতি অনুসরণ না করে স্বাদ, আকার ও বর্ণ—এই তিনটি পৃথক মূলনীতি একই সাথে ব্যবহার করার ফলে বিভাগটি পরস্পর-অতিক্রমী হয়ে পড়েছে। সুতরাং, ছক-১-এ যৌক্তিক বিভাগের দ্বিতীয় নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে সংকর বিভাগজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, ছক-২ ও ছক-৩ এর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ছক-২ এ ‘গুণগত বিভাগ’ এবং ছক-৩ এ ‘অঙ্গগত বিভাগ’ প্রদর্শিত হয়েছে।

    যুক্তিবিদ্যায় যৌক্তিক বিভাগ কেবল শ্রেণি বা জাতির ক্ষেত্রেই সম্ভব, কোনো বিশিষ্ট বা একক বস্তুর ক্ষেত্রে নয়। কোনো একক বস্তু বা ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা গুণাবলির বিভাজনকে অনুপযুক্ত বা অপ্রকৃত বিভাগ বলা হয়, যার মধ্যে গুণগত বিভাগ ও অঙ্গগত বিভাগ অন্যতম।

    ছক-২ ও ছক-৩ এর মধ্যকার পার্থক্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ধারণাগত পার্থক্য: ছক-২ এ 'ক' মডেল বিদ্যালয়টিকে তার গুণ বা বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিভক্ত করা হয়েছে (যেমন: প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ পরিচালনা, ভালো ফলাফল)। এটি একটি গুণগত বিভাগ (Qualitative division)। অন্যদিকে, ছক-৩ এ 'খ' মডেল বিদ্যালয় নামক একটি সামগ্রিক প্রতিষ্ঠানকে তার বাস্তব অবকাঠামোগত অংশে ভাগ করা হয়েছে (যেমন: শ্রেণি কক্ষ, অফিস কক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন, গ্রন্থাগার)। এটি একটি অঙ্গগত বিভাগ (Physical division)।

    ২. বিভাজনের প্রকৃতি: ছক-২ এর বিভাজনটি বিমূর্ত গুণাবলির ওপর নির্ভরশীল, যা বিদ্যালয়ের উৎকর্ষ ও বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। পক্ষান্তরে, ছক-৩ এর বিভাজনটি প্রত্যক্ষ বা বাস্তব অবয়বের খণ্ডাংশের ওপর নির্ভরশীল, যা বিদ্যালয়টির ভৌত অবকাঠামো নির্দেশ করে।

    ৩. অবিভাজ্যতা বনাম স্থানিকতা: ছক-২ এ উল্লিখিত গুণাবলি বিদ্যালয়টির সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত এবং এগুলো কোনো স্থান দখল করে না। কিন্তু ছক-৩ এর অঙ্গগুলো বিদ্যালয় কাঠামোর নির্দিষ্ট স্থান দখল করে থাকে এবং এদেরকে দৈহিকভাবে পৃথক করা সম্ভব।

    অতএব, ছক-২ একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের গুণাবলির বিশ্লেষণ (গুণগত বিভাগ) এবং ছক-৩ একটি সমগ্র কাঠামোর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিভাজন (অঙ্গগত বিভাগ) হওয়ায় এ দুটির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন