পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • ঢাকা কলেজ • ঢাকা কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
'ক' রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের ভোটে নির্বাচিত। রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনিই সর্বেসর্বা। তাকে আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে হয় না। তিনি তার ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো মন্ত্রীকে অপসারণ করতে পারেন।
- ক)(1)
গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দাও।
- খ)(2)
মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
'ক' রাষ্ট্রে কী ধরনের সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'ক' রাষ্ট্রে বিদ্যমান সরকার ব্যবস্থাকে তুমি কি সর্বোত্তম মনে কর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অধ্যাপক গেটেলের মতে, "যে শাসনব্যবস্থায় জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার প্রয়োগে অংশ গ্রহণ করার অধিকারী, তাকে গণতন্ত্র বলে।" (অথবা আব্রাহাম লিংকনের মতে, "Democracy is a government of the people, by the people, for the people.")
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা হলো এমন এক ধরনের সরকার, যেখানে শাসন বিভাগ তাদের নীতি ও যাবতীয় কর্মকাণ্ডের জন্য আইনসভার কাছে প্রত্যক্ষভাবে দায়ী থাকে। এ ব্যবস্থায় একজন নামমাত্র বা নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন এবং প্রকৃত শাসনক্ষমতা ন্যস্ত থাকে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিপরিষদের হাতে। আইনসভার আস্থা হারালে এ সরকারকে পদত্যাগ করতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রে 'রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার' (Presidential Form of Government) ব্যবস্থা বিদ্যমান।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার হলো এমন এক শাসন ব্যবস্থা, যেখানে শাসন বিভাগের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি আইনসভার প্রভাবমুক্ত থেকে প্রকৃত ক্ষমতা পরিচালনা করেন। এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি আইনসভার নিকট তাঁর কাজের জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন না এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা রাষ্ট্রপতির অধীনে কাজ করেন; রাষ্ট্রপতি তাঁদের যেকোনো সময় অপসারণ করতে পারেন।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনিই সর্বেসর্বা। তিনি আইনসভার নিকট জবাবদিহি করেন না এবং ইচ্ছামতো মন্ত্রীদের অপসারণ করতে পারেন। এই বৈশিষ্ট্যগুলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের মৌলিক বৈশিষ্ট্যের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং, 'ক' রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে বিদ্যমান রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থাকে কোনোভাবেই একমাত্র বা অবিসংবাদিত সর্বোত্তম সরকার ব্যবস্থা বলা যায় না।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে, যেমন—সরকারের স্থায়িত্ব, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণ প্রভাব থেকে তুলনামূলক মুক্তি। তবে এর কিছু মারাত্মক ত্রুটিও রয়েছে। এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির আইনসভার কাছে কোনো জবাবদিহিতা না থাকায় তাঁর স্বৈরাচারী বা কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে ওঠার আশঙ্কা প্রবল থাকে। আইনসভা ও শাসন বিভাগের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।
পক্ষান্তরে, মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ সার্বক্ষণিক আইনসভা ও জনগণের প্রতিনিধিদের নিকট দায়বদ্ধ থাকে। ফলে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা সহজ হয় এবং গণতন্ত্রের প্রকৃত চেতনা বা জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। অধ্যাপক বার্কারসহ বহু রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতে, যে শাসনব্যবস্থায় দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা সর্বোচ্চ, সেটিই অধিক গণতান্ত্রিক।
সুতরাং, সার্বিক বিবেচনায় কেবল রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থাকেই 'সর্বোত্তম' বলা যায় না; বরং পরিস্থিতির বিচারে জবাবদিহিমূলক সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই অধিক কাম্য ও গ্রহণযোগ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও