অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জনের পর থেকেই বাংলাদেশ ক্রমাগত উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে। GDP-এর প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ হচ্ছে। জীবনযাত্রার মান, শিক্ষার হার, নারী শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশটির ভূ-প্রকৃতি, ভৌগোলিক অবস্থান, নদ-নদী, মৃত্তিকাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান উন্নয়নে সহায়তা করছে। আশা করা যায়, এ ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে।

  1. ক)

    উন্নয়নশীল দেশ বলতে কী বোঝ ?

    (1)
  2. খ)

    অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে ২টি পার্থক্য লেখো।

    (2)
  3. গ)

    বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ কি না উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত উপাদানগুলো উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রাখছে - বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব দেশের মাথাপিছু প্রকৃত আয় ও জীবনযাত্রার মান উন্নত দেশগুলোর তুলনায় কম, কিন্তু প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে, সেগুলোকে উন্নয়নশীল দেশ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য হলো:
    ১. মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান: অনুন্নত দেশের মাথাপিছু প্রকৃত আয় ও জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ে থাকে; পক্ষান্তরে, উন্নয়নশীল দেশে মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান তুলনামূলকভাবে বেশি এবং তা ক্রমাগত বৃদ্ধির দিকে থাকে।
    ২. অর্থনৈতিক রূপান্তর ও প্রবৃদ্ধি: অনুন্নত দেশে অর্থনীতির মূল খাত কৃষির উৎপাদনশীলতা স্থবির থাকে এবং শিল্প খাতের বিকাশ ঘটে না; অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশে শিল্পের বিকাশ এবং জিডিপি (GDP)-র প্রবৃদ্ধির হার সন্তোষজনক গতিতে বৃদ্ধি পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবেই একটি উন্নয়নশীল দেশ।

    একটি উন্নয়নশীল দেশের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে জিডিপি প্রবৃদ্ধির আশানুরূপ গতি, জীবনযাত্রার মানের উন্নতি, শিক্ষার হার ও সাক্ষরতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক কাঠামোগত রূপান্তর এবং নারীর ক্ষমতায়ন।

    উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্রমাগত সমৃদ্ধির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এখানে জিডিপির আশানুরূপ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাশাপাশি নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান, সার্বিক শিক্ষার হার, নারী শিক্ষা এবং সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন দ্রুত বাড়ছে। এসব লক্ষণ একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতির প্রত্যক্ষ সূচক। অনুন্নত দেশের বৈশিষ্ট্য অতিক্রম করে বাংলাদেশ অর্থনীতিকে সম্প্রসারিত করে উন্নত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অতএব, উদ্দীপকের তথ্যাবলির ভিত্তিতে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাকৃতিক উপাদানসমূহ—যেমন ভূ-প্রকৃতি, ভৌগোলিক অবস্থান, নদ-নদী ও মৃত্তিকা—বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    ১. উর্বর মৃত্তিকা ও ভূ-প্রকৃতি: বাংলাদেশের সমতল ভূমি এবং পলিগঠিত উর্বর মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এর ফলে ধান, পাট, শাকসবজি ও নানাবিধ ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ করছে।

    ২. নদ-নদী: নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের নদ-নদীগুলো অভ্যন্তরীণ সুলভ নৌ-পরিবহন ও বাণিজ্য যোগাযোগে সাহায্য করে। এছাড়া কৃষিতে স্বল্পব্যয়ে সেচ প্রদান এবং মিঠা পানির মৎস্য সম্পদের অন্যতম প্রধান উৎস এই নদ-নদী।

    ৩. ভৌগোলিক অবস্থান: ভৌগোলিক দিক থেকে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং এর দক্ষিণে রয়েছে সুবিশাল বঙ্গোপসাগর। চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরসহ গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবেশী স্থলবেষ্টিত অঞ্চলগুলোর সাথে ট্রানজিট ও অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে দেশের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান সুবিধাজনক।

    পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে নির্দেশিত অনুকূল প্রাকৃতিক উপাদানগুলো কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত প্রসারে সহায়ক হিসেবে কাজ করে বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিচ্ছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন