যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

প্রথম বাক্য: ভাইরাস হয় এক শ্রেণির জীবাণু। দ্বিতীয় বাক্য: মানুষ হয় হাস্যপ্রিয়।

  1. ক)

    বিভেদক কী?

    (1)
  2. খ)

    নঞর্থক বাক্যে বিধেয়ক থাকে না কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথম বাক্যে যে দুটি বিধেয়কের প্রকাশ ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ২য় বাক্যে উদ্দেশ্য পদের সাথে বিধেয় পদের যে সম্পর্ক প্রকাশিত হয়েছে তার সাথে বিধেয়ের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে গুণ বা গুণাবলি একই জাতির অন্তর্গত একটি উপজাতিকে তার সমকক্ষ অন্য উপজাতিগুলো থেকে পৃথক করে, তাকে লক্ষণ বা বিভেদক লক্ষণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিধেয়ক হলো কোনো সদর্থক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যকার সম্পর্কের ধরন। নঞর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয়কে পুরোপুরি অস্বীকার বা বর্জন করা হয়, ফলে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যে কোনো অভ্যন্তরীণ বা শ্রেণিগত সম্পর্ক স্থাপিত হয় না। সম্পর্ক স্বীকৃত না হওয়ায় নঞর্থক যুক্তিবাক্যে বিধেয়কের অস্তিত্ব থাকে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথম বাক্যে ("ভাইরাস হয় এক শ্রেণির জীবাণু") দুটি বিধেয়ক—'উপজাতি' (Species) এবং 'জাতি' (Genus)-র প্রকাশ ঘটেছে।

    যখন দুটি শ্রেণিবাচক পদের মধ্যে একটির ব্যক্তার্থ কম এবং অন্যটির ব্যক্তার্থ বেশি হয় এবং কম ব্যক্তার্থবিশিষ্ট শ্রেণিটি বেশি ব্যক্তার্থবিশিষ্ট শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন কম ব্যক্তার্থবিশিষ্ট পদটিকে 'উপজাতি' এবং বেশি ব্যক্তার্থবিশিষ্ট পদটিকে 'জাতি' বলে।
    উদ্দীপকের বাক্যে উদ্দেশ্য পদ 'ভাইরাস' হলো উপজাতি এবং বিধেয় পদ 'এক শ্রেণির জীবাণু' তথা 'জীবাণু' হলো এর সাপেক্ষে জাতি। কারণ জীবাণুর ব্যক্তার্থ ভাইরাসের চেয়ে ব্যাপক এবং ভাইরাসের শ্রেণিটি জীবাণু শ্রেণির অন্তর্গত। সুতরাং, প্রথম বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের সম্পর্কের ভিত্তিতে উপজাতি ও জাতির প্রকাশ ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় বাক্যটি হলো: "মানুষ হয় হাস্যপ্রিয়।" এখানে উদ্দেশ্য 'মানুষ' পদের সাথে বিধেয় 'হাস্যপ্রিয়' পদের যে সম্পর্কটি প্রকাশ পেয়েছে তা হলো 'উপলক্ষণ' (Proprium)। নিম্নে এই সম্পর্কের সাথে সাধারণ অর্থে 'বিধেয়'-এর পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ধারণাগত পার্থক্য: বিধেয় হলো যুক্তিবাক্যের একটি পদ যা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে। পক্ষান্তরে, 'উপলক্ষণ' বা বিধেয়ক হলো উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যকার এক প্রকার গুণগত সম্বন্ধ। অর্থাৎ, বিধেয় একটি পদ কিন্তু উপলক্ষণ হলো বিধেয়ক বা একটি সম্পর্ক।
    ২. অস্তিত্বের ক্ষেত্র: বিধেয় যে-কোনো ধরনের যুক্তিবাক্যে (সদর্থক ও নঞর্থক) থাকতে পারে। কিন্তু উপলক্ষণ কেবল সদর্থক যুক্তিবাক্যেই উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের সম্পর্ক হিসেবে বিদ্যমান থাকে।
    ৩. স্বরূপগত পার্থক্য: উদ্দীপকে 'হাস্যপ্রিয়' শব্দটি ব্যাকরণ ও যুক্তিবিদ্যার গঠন অনুসারে বিধেয় পদ। তবে সম্পর্কের দিক থেকে এটি মানুষের জাত্যর্থের অংশ না হয়েও জাত্যর্থ (বুদ্ধিবৃত্তি) থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত একটি গুণ, যা বিধেয়কের শ্রেণিবিভাগে 'উপলক্ষণ' হিসেবে বিবেচিত হয়।
    ৪. ভূমিকা: বিধেয় কোনো সম্পর্কের নাম নয়, এটি স্বয়ং একটি শব্দ বা পদ। অন্যদিকে উপলক্ষণ উদ্দেশ্যের সাথে বিধেয়টির সুনির্দিষ্ট যৌক্তিক সম্বন্ধকে প্রকাশ করে।

    সুতরাং, উদ্দীপকের ২য় বাক্যে 'হাস্যপ্রিয়' পদটি বিধেয় হলেও উদ্দেশ্য পদের সাথে এর সম্পর্কটি হলো উপলক্ষণরূপ বিধেয়ক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন