ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্দীপকে প্রদত্ত মানচিত্রটি লক্ষ্য কর এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

  1. ক)

    ভূমিকম্প কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সুনামি সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ক' অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'খ' ও 'গ' ভূপ্রকৃতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভূঅভ্যন্তরে হঠাৎ সৃষ্ট কোনো আলোড়নের কারণে ভূতকের কোনো অংশ আকস্মিকভাবে ও ক্ষণস্থায়ীভাবে কেঁপে ওঠাকে ভূমিকম্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুনামি সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো সমুদ্রের তলদেশে সংগঠিত শক্তিশালী ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা বিশাল ভূমিধস। সমুদ্রের তলদেশে টেকটোনিক প্লেটের স্থানচ্যুতির ফলে যখন পানির বিশাল স্তম্ভে প্রচণ্ড আলোড়ন ঘটে, তখন সমুদ্রে দানবীয় ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় যা ঘণ্টায় শত শত কিলোমিটার বেগে উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়ে সুনামির রূপ নেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ক' অঞ্চলটি হলো বাংলাদেশের বরেন্দ্র ভূমি (প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ)।

    এর ভূপ্রকৃতির বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. অবস্থান ও বিস্তার: এটি দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার অংশবিশেষ জুড়ে অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
    ২. উচ্চতা: প্লাবন সমভূমি থেকে এই সোপানের উচ্চতা সাধারণত ৬ থেকে ১২ মিটার।
    ৩. মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্য: এখানকার মৃত্তিকা মূলত লাল ও ধূসর বর্ণের এবং কঙ্করময় ও কম উর্বর।
    ৪. ভূমিরূপ: এই অঞ্চলটি সামান্য ঢেউখেলানো বা উঁচু-নিচু এবং নদী উপত্যকাগুলো তুলনামূলকভাবে গভীর।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মানচিত্রে 'খ' অঞ্চলটি হলো সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তর্গত উপকূলীয়/ম্যানগ্রোভ অঞ্চল (সুন্দরবন) এবং 'গ' অঞ্চলটি হলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ (চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়)। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. উৎপত্তির সময়কাল: 'গ' অঞ্চলটি টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত সৃষ্টির সময় ভাঁজ প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েছিল। পক্ষান্তরে, 'খ' অঞ্চলটি অতি সাম্প্রতিককালে নদী দ্বারা পরিবাহিত পলির অবক্ষেপণের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে।
    ২. ভূমির উচ্চতা ও প্রকৃতি: 'গ' অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা প্রায় ৬১০ মিটার এবং এটি খাড়া ঢালবিশিষ্ট পাহাড়ি অঞ্চল। অপরদিকে 'খ' অঞ্চল সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি উচ্চতায় অবস্থিত এক বিস্তীর্ণ সমতল ভূমি।
    ৩. শিলা ও মাটি: 'গ' অঞ্চল বেলেপাথর, কাদাপাথর ও শেল শিলা দ্বারা গঠিত। বিপরীতে 'খ' অঞ্চল কোমল পলি, কাদা এবং লবণাক্ত মাটিতে সমৃদ্ধ।
    ৪. পরিবেশ ও প্রভাব: 'গ' অঞ্চল চিরহরিৎ ও পত্রপতনশীল উদ্ভিদে আচ্ছাদিত এবং ভূমিধসের ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে 'খ' অঞ্চল জোয়ার-ভাটার দ্বারা প্রভাবিত উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনভূমির অংশ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে।

    অতএব, গঠন এবং ভূমিরূপগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে 'খ' ও 'গ' অঞ্চল পরস্পরের বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন