ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্দীপকটি লক্ষ্য কর এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

  1. ক)

    বায়ুমণ্ডল কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ট্রপোস্ফিয়ার কী? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে চিত্রকল্প-২ এ উল্লিখিত বিষয়টির কারণ বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে চিত্রকল্প-১ এ উল্লিখিত স্তর-২ এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে অদৃশ্য গ্যাসীয় আবরণ সমগ্র পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তরকে ট্রপোস্ফিয়ার বলে।

    এটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে শুরু করে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিমি এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, ঝড়, বজ্রপাত প্রভৃতি আবহাওয়ার যাবতীয় ঘটনা এই স্তরেই ঘটে থাকে। উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এ স্তরে বায়ুর তাপমাত্রা ও চাপ কমতে থাকে। বায়ুমণ্ডলের মোট ওজনের প্রায় ৭৫% এবং যাবতীয় জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণার অধিকাংশ এই স্তরে অবস্থান করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে চিত্রকল্প-২ এ উল্লিখিত বিষয়টি হলো 'বায়ুদূষণ' (বায়ুর স্বাভাবিক অবস্থার পরিবর্তন ও মানুষের ক্ষতির কারণ)। নিচে বায়ুদূষণের কারণ বর্ণনা করা হলো:

    ১. শিল্পায়ন ও কলকারখানার ধোঁয়া: কলকারখানা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস (যেমন- সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড) এবং ধোঁয়া সরাসরি বাতাসে মিশে বায়ুকে দূষিত করে।
    ২. জীবাশ্ম জ্বালানি ও যানবাহনের ধোঁয়া: মোটরযান, বাস, ট্রাক ইত্যাদিতে পেট্রোল, ডিজেল প্রভৃতি জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড, সিসা ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে।
    ৩. বনভূমি উজাড়করণ বা বৃক্ষনিধন: অপরিকল্পিতভাবে গাছপালা কেটে ফেলার ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের ক্ষমতা কমে যায়, ফলে বায়ুর ভারসাম্য নষ্ট হয়।
    ৪. বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা: উন্মুক্ত স্থানে আবর্জনা পোড়ানো, ড্রেন ও ডাস্টবিনের পচনশীল বর্জ্য থেকে মিথেনসহ নানা দুর্গন্ধযুক্ত ক্ষতিকারক গ্যাস বায়ুতে মিশে বায়ুদূষণ ঘটায়।
    ৫. তেজস্ক্রিয় ও রাসায়নিক পদার্থ: পারমাণবিক গবেষণা, যুদ্ধাস্ত্র পরীক্ষা এবং কৃষিক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলেও বায়ু দূষিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রকল্প-১ এ উল্লিখিত বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলোর মধ্যে স্তর-১ হলো ট্রপোস্ফিয়ার এবং স্তর-২ হলো 'স্ট্রাটোস্ফিয়ার' (যে স্তরে ওজোন বা O₃ স্তরের অবস্থান দেখানো হয়েছে)। নিম্নে স্তর-২ বা স্ট্রাটোস্ফিয়ারের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ: স্ট্রাটোস্ফিয়ারের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো ওজোন স্তর (O3O_3)। ওজোন গ্যাস সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV-rays) শোষণ করে নেয়। ফলে পৃথিবীর জীবজগৎ ত্বকের ক্যানসার, চোখের ছানি এবং নানাবিধ মারাত্মক ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়। ওজোন স্তর না থাকলে পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব টিকে থাকা অসম্ভব হতো।
    ২. বিমান চলাচলের জন্য উপযোগী: স্ট্রাটোস্ফিয়ারে জলীয় বাষ্প, ধূলিকণা বা মেঘ-বৃষ্টির মতো আবহাওয়াগত গোলযোগ থাকে না। বায়ুর গতিবেগ অত্যন্ত শান্ত ও স্থিতিশীল থাকায় এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত দূরপাল্লার দ্রুতগামী বাণিজ্যিক জেট বিমানগুলো নিরাপদে চলাচল করে।
    ৩. তাপমাত্রার ভারসাম্য: এই স্তরে ওজোন গ্যাস অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করায় এর ওপরের অংশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা বায়ুমণ্ডলের উলম্ব তাপমাত্রিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

    পরিশেষে বলা যায়, স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরটি বিশেষ করে ওজোন স্তর ধারণের মাধ্যমে পৃথিবীকে একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় প্রদান করে মানবজাতি তথা সমগ্র জীবমণ্ডলের জীবনধারণ উপযোগী পরিবেশ বজায় রেখেছে। তাই বায়ুমণ্ডলে স্তর-২ এর গুরুত্ব অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন