পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'একতা' এমন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যেটি কেবল একটি ধর্মের অনুসারীদের প্রধান দেশগুলো নিয়ে গঠিত হয়েছে। শুরুতে সংস্থাটি যে নামে যাত্রা শুরু করেছিল বর্তমানে তার কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় 'বন্ধন' নামক আরেকটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা রয়েছে। যেটি কয়েকটি প্রতিবেশী দেশ তৈরি করে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে।
- ক)(1)
বাংলাদেশ কত সালে জাতিসংঘের সদস্য পদ অর্জন করে?
- খ)(2)
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
'বন্ধন' সংস্থার সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন সংস্থার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
একতা' সংস্থার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ভূনিষ্ঠ- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য পদ অর্জন করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে বোঝায় আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ বা কোনো বাহ্যিক রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ বা প্রভাবমুক্ত হয়ে বিচারকদের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও সততার সাথে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার ক্ষমতা। এতে বিচারকদের কার্যকালের নিরাপত্তা, আর্থিক স্বাধীনতা এবং কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়া রায় প্রদানের পূর্ণ স্বাধীনতা অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'বন্ধন' সংস্থার সাথে আমাদের পাঠ্যবইয়ে আলোচিত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা 'সার্ক' (SAARC - South Asian Association for Regional Cooperation)-এর মিল রয়েছে।
ব্যাখ্যা: সার্ক হলো দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশ নিয়ে গঠিত একটি আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক সংস্থা। ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল লক্ষ্য দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং যৌথ আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করা।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় 'বন্ধন' নামক একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা রয়েছে, যা কয়েকটি প্রতিবেশী দেশ মিলে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে তৈরি করেছে। সার্কও একইভাবে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান—এই দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশী দেশগুলো নিয়ে তাদের অভিন্ন স্বার্থ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকের 'বন্ধন' সংস্থাটি আমাদের পাঠ্যবইয়ের সার্ক সংস্থাকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'একতা' সংস্থাটি মূলত মুসলিম প্রধান দেশগুলো নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ওআইসি (Organisation of Islamic Cooperation - পূর্বে Organisation of the Islamic Conference)-কে ইঙ্গিত করে। ওআইসি বা 'একতা' সংস্থার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়—উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশ্লেষণ:
১. সদস্যপদ লাভ ও সংহতি: ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। তখন থেকে বাংলাদেশ মুসলিম বিশ্বের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সুদৃঢ় ঐক্য বজায় রেখে আসছে।
২. রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে, যেমন ফিলিস্তিনের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের প্রশ্নে বাংলাদেশ ওআইসি-র কাঠামোর ভেতরে থেকে জোরালো ভূমিকা পালন করে আসছে।
৩. অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক সহযোগিতা: ওআইসির অঙ্গসংস্থা ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে।
৪. বৈদেশিক কর্মসংস্থান: ওআইসিভুক্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং রেমিট্যান্স অর্জনে প্রধান ভূমিকা রাখছে।
৫. রোহিঙ্গা সংকটে ভূমিকা: রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা মোকাবিলা ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে ওআইসি বাংলাদেশের পক্ষে বলিষ্ঠ সমর্থন দিয়েছে।সুতরাং, ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সকল দিক থেকেই 'একতা' অর্থাৎ ওআইসির সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও টেকসই।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও