পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
‘ক’ রাষ্ট্রের একটি প্রাদেশিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কয়েকটি রাজনৈতিক দল একজোট হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অল্পদিনের ভেতরে সেই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
- ক)(1)
ভাষা আন্দোলন কী?
- খ)(2)
যুক্তফ্রন্ট বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো প্রাদেশিক নির্বাচনের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচনের বিজয় ছিল মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিজয়— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাতৃভাষা বাংলাকে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত পরিচালিত গণআন্দোলনই হলো ভাষা আন্দোলন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-প্রজা পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং গণতন্ত্রী দল— এই প্রধান চারটি রাজনৈতিক দল মিলে যে নির্বাচনী জোট গঠন করেছিল, তাকে 'যুক্তফ্রন্ট' বলা হয়। ২১ দফার ভিত্তিতে এই জোট গঠিত হয় এবং নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের প্রাদেশিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধ হয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে, কিন্তু ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অল্পদিনের মধ্যে তাদের ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী দলগুলো মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে এবং ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টিতে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। কিন্তু কায়েমী স্বার্থবাদী পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় আদমজী পাটকলের দাঙ্গাকে উসিলা বানিয়ে ৯২(ক) ধারা জারি করে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়। তাই উদ্দীপকের ঘটনাটি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের প্রাদেশিক নির্বাচনের প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয় ছিল মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক বিজয়— উক্তিটি যথার্থ।
১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও শুরু থেকেই পূর্ব বাংলার জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দ্বারা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বঞ্চনার শিকার হতে থাকে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির মধ্যে যে স্বাধিকার চেতনা ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটেছিল, ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে তা ব্যালটের মাধ্যমে রাজনৈতিক রূপ লাভ করে।
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচিতে বাংলা ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, স্বায়ত্তশাসন, জমিদারি প্রথা উচ্ছেদসহ পূর্ব বাংলার সার্বিক মুক্তির দাবি প্রতিফলিত হয়েছিল। এ নির্বাচনে পূর্ব বাংলার জনগণ সাম্প্রদায়িক মুসলিম লীগকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে অসাম্প্রদায়িক ও বাঙালি জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্বাচিত করে। যদিও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে, তথাপি এ নির্বাচন বাঙালিদের মনে এ আত্মবিশ্বাস তৈরি করে দেয় যে ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে জয়লাভ সম্ভব।
অতএব, ১৯৫৪ সালের এ নির্বাচনের বিজয় বাঙালিকে স্বাধিকার থেকে পরবর্তীকালে স্বাধীনতার দিকে ধাবিত করেছিল, যা মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদেরই বিজয় ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও