ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
ফাল্গুন মাসের কোনো এক প্রভাতে পাজামা-পাঞ্জাবি পরে খালি পায়ে রেদওয়ান বেরিয়ে গেল। বন্ধুদের সাথে এক হয়ে ধীরে ধীরে চলছে এক উঁচু বেদির দিকে। তাদের হাতে ফুল। মুখে গান- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো......................।
- ক)(1)
কত খ্রিষ্টাব্দে তমুদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়?
- খ)(2)
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের যে কোনো চারটি দফা লিখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়বস্তু পাঠ্যবইয়ের যে আন্দোলনকে ইঙ্গিত করে, তার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত আন্দোলনে ছাত্রসমাজ ও নারীসমাজের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তমুদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য চারটি দফা হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান করা।
২. জমিদারি প্রথা ও সকল প্রকার মধ্যস্বত্ব বিনা ক্ষতিপূরণে উচ্ছেদ করা এবং উদ্বৃত্ত জমি ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা।
৩. পাট ব্যবসাকে জাতীয়করণ করা এবং পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে পাট কেলেঙ্কারির তদন্ত ও অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া।
৪. সমবায়ভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার প্রবর্তন ও কুটির শিল্পের উন্নয়ন সাধন করা। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত খালি পায়ে প্রভাতফেরি, শহিদ বেদিতে ফুল দেওয়া এবং 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো...' গানটি ১৯৫২ সালের মহান 'ভাষা আন্দোলন'-কে ইঙ্গিত করে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র শুরু করে। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব করা হয়। এর প্রতিবাদে ঢাকায় ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী মহল বিক্ষোভ গড়ে তোলে এবং গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ।
১৯৪৮ সালের মার্চে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এসে ঘোষণা দেন 'Urdu and only Urdu shall be the state language of Pakistan', যার বিরুদ্ধে বাঙালি ছাত্রসমাজ তীব্র প্রতিবাদ জানায়। পরবর্তীতে ১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে খাজা নাজিমুদ্দীন পুনরায় একই ঘোষণা দিলে আন্দোলন চরম রূপ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিতে বরকত, সালাম, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন এবং এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে তৎকালীন ছাত্রসমাজ ও নারীসমাজের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অগ্রণী।
ছাত্রসমাজের ভূমিকা: ভাষা আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিল ছাত্রসমাজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রথম থেকেই পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্যমূলক ভাষা নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ, ধর্মঘট এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারের জারি করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ছাত্ররাই গ্রহণ করেছিল। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার প্রমুখ ছাত্রদের বুকের রক্ত ঢেলে দেওয়ার মাধ্যমেই বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করেছিল এবং তৈরি হয়েছিল বাঙালির প্রথম শহিদ মিনার।
নারীসমাজের ভূমিকা: ভাষা আন্দোলনে নারীদের অবদান ছিল অনন্য ও প্রশংসনীয়। পোস্টার লেখা, অর্থ সংগ্রহ, সভা-সমাবেশ সংগঠন এবং মিছিলে নারীরা সম্মুখসারিতে অংশগ্রহণ করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভাঙার মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন স্কুলের নারী শিক্ষার্থীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের মধ্যেও তাঁরা আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সেবা প্রদান করেন। লায়লা সামাদ, রওশন আরা বাচ্চু, শাফিয়া খাতুন, সুফিয়া আহমেদ প্রমুখের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।
সুতরাং বলা যায়, ছাত্রসমাজের আপসহীন নেতৃত্ব ও সাহসিকতা এবং নারীসমাজের সাহসী অংশগ্রহণ ও প্রেরণা ভাষা আন্দোলনকে সফল করে তুলেছিল এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার ভিত গড়ে দিয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও