পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশ সংবিধানে ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়। সংবিধানের ১৪৪ ও ১৪১ অনুচ্ছেদে উক্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলী সম্পর্কে বিধানাবলী সন্নিবেশিত আছে। উক্ত প্রতিষ্ঠানের স্বাধীন, স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ ভূমিকা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করে।
- ক)(1)
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার পদবি কী?
- খ)(2)
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিত প্রতিষ্ঠানটির গঠন প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটির কার্যাবলী মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার পদবি হলো অ্যাটর্নি জেনারেল (Attorney General)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব প্রতিষ্ঠান দেশের সর্বোচ্চ আইন তথা সংবিধানের সুনির্দিষ্ট বিধান বা অনুচ্ছেদের অধীনে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়, সেগুলোকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলা হয়। যেমন- নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ইত্যাদি। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও স্থায়িত্ব সংবিধানে সংরক্ষিত থাকে বলে এগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদের বরাতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)-কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এক বা একাধিক সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের বিধান রয়েছে। সংবিধানের ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে এর গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে আইনের বিধান সাপেক্ষে একজন চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য সদস্যদের সমন্বয়ে সরকারি কর্ম কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের সদস্য সংখ্যা আইন দ্বারা নির্ধারিত হয়; বর্তমানে একজন চেয়ারম্যানসহ সর্বোচ্চ ১৫ জন সদস্য নিয়োগ দেওয়া যায়। সংবিধান অনুযায়ী কমিশনের মোট সদস্যের অন্তত অর্ধেক সদস্য এমন ব্যক্তি হবেন, যারা বিশ বছর বা ততোধিককাল সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন। চেয়ারম্যান ও সদস্যরা তাদের দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা পঁয়ষট্টি বছর বয়স পূর্ণ হওয়া—যা আগে ঘটে, সে পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি হলো 'বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন' (BPSC)। সংবিধানের ১৪০ নং অনুচ্ছেদ (উদ্দীপকে মুদ্রণপ্রমাদবশত ১৪৪ ও ১৪১ লেখা হলেও তা মূলত ১৪০ নং অনুচ্ছেদ নির্দেশ করে) অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত ও দক্ষ জনবল নিয়োগে পিএসসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পিএসসি-এর প্রধান কার্যাবলী নিম্নরূপ:
১. নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনা: প্রজাতন্ত্রের কর্মে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষা ও যাচাই পরীক্ষা পরিচালনা করা।
২. রাষ্ট্রপতির পরামর্শ প্রদান: সরকারি চাকরির যোগ্যতা নির্ধারণ, নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন, পদোন্নতি ও বদলির নীতিমালা প্রণয়ন এবং শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে রাষ্ট্রপতির চাহিদামতো পরামর্শ প্রদান।
৩. প্রতিবেদন পেশ: প্রতি বছর কমিশন তার পূর্ববর্তী বছরের কার্যাবলীর ওপর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করে, যা সংসদে উপস্থাপিত হয়।একটি দক্ষ, নিরপেক্ষ ও জনকল্যাণমুখী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পিএসসি-এর ভূমিকা অপরিহার্য। এটি মেধার ভিত্তিতে যোগ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করে। সুতরাং, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটির কার্যাবলী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও