পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব সাজু একজন রাজনীতিবিদ ও ১৯৭১-এ মুজিবনগরে গঠিত সরকারের একজন সদস্য ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে দেশ সেবার সুযোগ সবচেয়ে বেশি। তিনি আরও বিশ্বাস করেন, 'বাঙালি মুক্তি প্রিয় একটি রাজনৈতিক জাতি'।
- ক)(1)
কত সালে ছয়দফা দাবি পেশ করা হয়েছিল?
- খ)(2)
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত সরকারের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সর্বশেষ বক্তব্যটি সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয়দফা দাবি পেশ করেছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বলতে পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের দুঃশাসন, দমন-পীড়ন এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের সর্বস্তরের জনগণের তীব্র ও সর্বপ্লাবী আন্দোলনকে বোঝায়। ছাত্রদের ১১ দফা ও বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এ আন্দোলনে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। এর ফলে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের পতন ঘটে, আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে বাধ্য করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সরকারের ভূমিকা হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক সরকার হিসেবে নেতৃত্ব প্রদান। এটি ছিল ঐতিহাসিক 'মুজিবনগর সরকার'।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত এবং ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণকারী মুজিবনগর সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণভাবে পরিচালিত করে। এই সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি (তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত হয়।
মুজিবনগর সরকার সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে মুক্তিবাহিনী গঠন ও পরিচালনা করে। একই সাথে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আদায়, আন্তর্জাতিক জনমত গঠন, ভারতের সাথে সামরিক ও কূটনৈতিক সমন্বয় সাধন এবং প্রায় এক কোটি শরণার্থীর ত্রাণের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে এই সরকার অনন্য ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সর্বশেষ বক্তব্যটি হলো— 'বাঙালি মুক্তি প্রিয় একটি রাজনৈতিক জাতি'। এ বক্তব্যটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
বাঙালি জাতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অন্যায়, শোষণ এবং পরাধীনতার বিরুদ্ধে বাঙালি সর্বদা সোচ্চার ছিল। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য কায়েম করে। কিন্তু বাঙালি জাতি কোনোদিনই তা বিনা প্রতিবাদে মেনে নেয়নি।
১৯৪৮-১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয়দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাঙালির রাজনৈতিক সচেতনতা ও স্বাধিকারের আকাঙ্ক্ষা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ এবং সর্বশেষে ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা প্রমাণ করে যে, বাঙালি স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক মুক্তির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে পারে।
অতএব, ইতিহাস ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের আলোকে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, বাঙালি একটি স্বাধিকারকামী, প্রতিবাদী ও মুক্তিকামী রাজনৈতিক জাতি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও