অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

পলাশ সাহেব একজন ICT বিশেষজ্ঞ। দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি দেশে বেড়াতে এসেছেন। গ্রামের পথ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তিনি লক্ষ করলেন গ্রামের অবস্থা আর পূর্বের মতো নেই। গ্রামে বিদ্যুৎ এসেছে। রঙিন টিভি ও ডিস-লাইন এসেছে। মানুষ চায়ের দোকানে বসে চা-পানের সাথে সাথে টিভির বিভিন্ন চ্যানেলের সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের আচার-অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ পাচ্ছে।

  1. ক)

    বিশ্বায়ন কী?

    (1)
  2. খ)

    'বিশ্বায়ন ও তথ্য প্রযুক্তির মধ্যে সম্পর্ক সমমুখী'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    বিশ্বায়নের পরিপ্রেক্ষিতে সমাজের কী কী পরিবর্তন হয়েছে বলে পলাশ সাহেব মনে করেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক অনুযায়ী সমাজে বিশ্বায়নের প্রায়োগিক ভিত্তি আছে কি-না? তোমার মতামতের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশ্বায়ন (Globalization) হলো অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সমগ্র বিশ্বের একীভূতকরণ বা পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বৃদ্ধির একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়া।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশ্বায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির সম্পর্ক সরাসরি বা সমমুখী, কারণ তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার প্রসার ঘটে। তথ্যপ্রযুক্তির (যেমন—ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট, মোবাইল যোগাযোগ ইত্যাদি) বিকাশের ফলে ভৌগোলিক দূরত্বের বাধা দূর হয়েছে এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছে। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন যত বাড়ে, বিশ্বায়নের গতিও তত বৃদ্ধি পায়। এজন্য বলা হয় এদের মধ্যকার সম্পর্ক সমমুখী।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশ্বায়নের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্দীপকের গ্রামীণ সমাজে অবকাঠামোগত, সাংস্কৃতিক এবং তথ্যগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে বলে পলাশ সাহেব মনে করেন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে পলাশ সাহেব লক্ষ করেন গ্রামে বিদ্যুৎ এসেছে, রঙিন টিভি ও ডিস-লাইনের সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। মানুষ এখন চায়ের দোকানে বসে চায়ের আড্ডার ফাঁকেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংবাদ ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখতে পারছে। বিশ্বায়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হলো তথ্য ও যোগাযোগ মাধ্যম। টেলিভিশন ও স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে গ্রামের মানুষ আজ বিশ্ব সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হচ্ছে এবং তাদের চিন্তাভাবনা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন গ্রামীণ জনপদ এখন আর পিছিয়ে নেই, বরং বিশ্বায়নের ছোঁয়ায় বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠেছে। পলাশ সাহেবের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সুযোগ-সুবিধাই গ্রামীণ সমাজের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক অনুযায়ী সমাজে বিশ্বায়নের সুদৃঢ় প্রায়োগিক ভিত্তি বিদ্যমান এবং আমি এই মতের সাথে সম্পূর্ণ একমত।

    বিশ্বায়ন কোনো কাল্পনিক ধারণা নয়, বরং এর বাস্তব বা প্রায়োগিক রূপ প্রতিফলিত হয় আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি, গণমাধ্যম এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহের মাধ্যমে। উদ্দীপকে গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছানো, রঙিন টেলিভিশন ও ক্যাবল নেটওয়ার্কের (ডিস-লাইন) বিস্তার এবং চায়ের দোকানে বসে সাধারণ মানুষের আন্তর্জাতিক সংবাদ ও বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও আচার-অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করা বিশ্বায়নেরই বাস্তব প্রয়োগ।

    বিশ্বায়নের মাধ্যমে দূরবর্তী বিশ্বের জ্ঞান, তথ্য এবং সংস্কৃতি নিমেষেই তৃণমূল মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে যায়। গ্রামের সাধারণ মানুষ স্যাটেলাইট টেলিভিশনের মাধ্যমে বহির্বিশ্বের খবরাখবর জানতে পারছে এবং বৈশ্বিক সমাজ ও জীবনধারার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে। এটি গ্রামীণ মানুষের মনোজগতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করছে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক আধুনিকায়নকে ত্বরান্বিত করছে। অতএব, গ্রামীণ পর্যায়ের এই তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর রূপান্তর স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে উদ্দীপকের সমাজে বিশ্বায়নের বাস্তব ও বলিষ্ঠ প্রায়োগিক ভিত্তি রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন